চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দাম কমছে পেঁয়াজের, সবজি স্থিতিশীল

পেঁয়াজের দাম আরও কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মানভেদে কেজিপ্রতি কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। একই সাথে সবজির দামও কিছুটা কমতির দিকে। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও আমদানি করা চায়না ও মিশরীয় পেঁয়াজের চাহিদা তলানিতে নেমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আর বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা ছিল। এছাড়া দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।

তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে চীন ও মিশরের বড় সাইজের পেঁয়াজের চাহিদা কমে গেছে। এসব পেঁয়াজ এখন ক্রেতারা কিনছেন না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। এ কারণে দাম কমে আসছে।

তবে তুলনামূলকভাবে দাম আরো কম থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পেঁয়াজের মৌসুম। নতুন পেঁয়াজ তোলা হচ্ছে। তাই এই সময় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পেঁয়াজের দাম থাকার কথা। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না।

হাতিরপুল বাজারের পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ওঠানামার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ প্রতিদিনই বাড়ছে। আমদানি করা পেঁয়াজও পাওয়া যাচ্ছে তাই দাম কমছে।

বিজ্ঞাপন

সরবরাহ থাকলে দাম আরো কমবে জানিয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, এখন বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপক পরিমাণ দেশি পেঁয়াজ আসছে। সরবরাহ বাড়তে থাকলে দামও কমতে থাকবে।

তাছাড়া টিসিবি কেজিতে ১০ টাকা কমিয়ে বড় পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করছে, এ কারণে অনেকে টিসিবির পেঁয়াজ কিনছেন। তাই দাম কমতির দিকে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

বাজারে শীতের সবজির দামও কমছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় কোনটির দাম কমছে, কোনটির স্থিতিশীল রয়েছে।

কারওয়ান বাজারে এখন শিম নতুন গোল আলু, শালগম ও কাঁচা টমেটোর কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে দেশি পাকা টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানি টমেটো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং মুলা ২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বেগুন ও করলা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

তবে বরবটির কেজি এখনও ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিন্তু কারওয়ান বাজারের তুলনায় পাড়া-মহল্লাসহ অন্যান্য বাজারে সব ধরনের সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দেখা গেছে।

হাতিরপুল বাজারে আসা সবজি ক্রেতা রিপন মৃধা বলেন, সবজির দাম কিছুটা কম। কিন্তু এই সময়ে শাক সবজির দাম যতটা কম থাকার কথা সে পর্যায়ে এখনো আসেনি। অন্য বছরের তুলনায় এখনো বাড়তি মনে হচ্ছে।