চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

সীমান্তবর্তী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার সর্ম্পক ও প্রভাব অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টার প্রভাবে দেশে সংক্রমণ আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এপ্রিল ও মে মাসে ভারতে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিধ্বংসী রূপ নেয়, তখন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল সর্বোচ্চ।

ভারত তাদের নাগরিকদের মধ্যে গণভ্যাকসিন কর্মসূচি কার্যকর ও লকডাউনে কড়াকড়ি করে করোনার ঢেউকে নিম্নমুখী করতে পেরেছে। দেশটিতে সংক্রমণ কমায় বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত ভারত করোনার তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পারবে কি না, সে বিষয়ে নানা বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টার পরে ভারতে ডেল্টা প্লাস নামে করোনার নতুন একটি ধরণের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। ডেল্টা প্লাস ধরনটি নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী বলছেন, ভারতে বর্তমানে ডেল্টা ধরনটি দুর্বল হয়ে ‘ডেল্টা প্লাস’ সবল হয়ে উঠতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগের বলে আমরা মনে করি।

দেশে করোনার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে সীমান্ত বন্ধ থাকলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চলাচল পথেই ভারতীয় ধরন ডেল্টার প্রবেশ ঘটেছে দেশে। সামনের দিনগুলিতে ‘ডেল্টা প্লাস’র কারণে ভারতে তৃতীয় ঢেউ শুরু হলে তার প্রভাব দেশেও পড়তে পারে বলে আমাদের শঙ্কা।

গেল কয়েক সপ্তাহ হলো দেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু মারাত্মক হারে বেড়েছে। আজও ২৪ জুন ছয় হাজার ৫৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। যা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৮১ জন। দেশের সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি জেলা ও রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন ঘোষণা করে হলেও গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, সেসব জেলায় ঘোষিত লকডাউন সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না। জীবন-জীবিকার তাগিদে মানানো যাচ্ছে না সাধারণ মানুষজনকে, অভিযোগ উঠছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়েও। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থে। সেইসঙ্গে ভবিষ্যত বিপদ সামলাতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।