চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির চেষ্টা, অভিভাবকসহ গ্রেপ্তার ৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক-ইউনিটের’ ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে বসে ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে ৫ ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী ও এক অভিভাবকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের কেন্দ্র থেকে এই জালিয়াতদের আটক করা হয়। তবে পুরো ‘জালিয়াত চক্র’কে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে আটককৃত জালিয়াতদের নাম ও পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার প্রাথমিক স্বীকারোক্তি তারা দিয়েছেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে প্রশাসনের অধীনে রাখা হয়েছে৷

পরীক্ষা শেষে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, দু’জনকে আমরা আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে রেখেছি। ওদের দুজনের কাছেই ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একজন তার অভিভাবকের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে। আমরা সেই অভিভাবকেও গ্রেপ্তার করেছি।

‘এছাড়া আরো তিনটি কেন্দ্রে তিনজনকে একই কারণে আটক করা হয়েছে। তাদের নিয়ে আসার জন্য আমাদের সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন।’

জালিয়াতির জন্য প্রক্টর একাধিক কোচিং সেন্টারকে দায়ী করে বলেন, সামনে ব্যানার ব্যবহার করে নাম সর্বস্ব একাধিক কোচিং সেন্টার এতে জড়িত আছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে।

অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভূক্ত ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৮৪ টি কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সকালে পরীক্ষা শুরুর পর কার্জন হলে কয়েকটি পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান।

বরাবরের মতই মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায় এমন যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবার।

প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি করে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।

এ বছর ক ইউনিটের ১৭৫০টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৮১,০৯৬জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে লড়াই করেন ৪৬ জন প্রার্থী।

১২ অক্টোবর ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধ শেষ হবে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (admission.eis.du.ac.bd) থেকে জানা যাবে।

বিজ্ঞাপন