চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টি-টুয়েন্টি ভুলে এবার ওয়ানডের প্রস্তুতি

করোনায় ক্রিকেট বন্ধ হওয়ার আগের ৫ মাস টি-টুয়েন্টি নিয়ে ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় ছিল ছোট সংস্করণের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। ভাইরাসে একটা বছর হারিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ হচ্ছে মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরা। কুড়ি ওভারের ক্রিকেট ভুলে ওয়ানডে মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মিরপুরে চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চারটি আসর খেলে ফেললেও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বাদ এখনো পায়নি বাংলাদেশ। জুন-জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় মেয়েদের ২০২২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের মেয়েরা সবশেষ ওয়ানডে খেলেছে ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর, পাকিস্তান সফরে। শেষ ম্যাচে পাওয়া জয় রুমানা আহমেদের দলকে নিয়ে গেছে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে। তবুও খেলতে হবে বাছাইপর্ব।

বাছাইপর্ব উতরে মূলপর্বে খেলার স্বপ্ন দেখছেন টাইগ্রেস পেসার জাহানারা আলম। দল হিসেবে টি-টুয়েন্টি না ওয়ানডে, কোনটিতে বেশি ভালো মেয়েরা, চ্যানেল আই অনলাইনের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘টি-টুয়েন্টি আমরা লম্বাসময় ধরে খেলেছি। চারটা বিশ্বকাপ খেলেছি। সেদিক থেকে টেকনিক্যালি আমরা টি-টুয়েন্টিতে এগিয়ে চার বিশ্বকাপ খেলায়। ওডিআই এখনো আমরা একটাও বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি। এদিকে পিছিয়ে থাকলেও আমার মনে হয় ওয়ানডে দল হিসেবে আমরা একটু এগিয়ে।’

‘কারণ, বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় পাকিস্তান বলেন, শ্রীলঙ্কা বা সাউথ আফ্রিকা বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই ওয়ানডে বেশি জিতে এসেছি এসব দলের বিপক্ষে। আর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ওয়ানডে জিতেই কিন্তু র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

‘আত্মবিশ্বাস আছে, আর টিমটা তো(টি-টুয়েন্টি) আমরাই। জানি না কতটুকু পরিবর্তন হবে। এই টিমটাই তো ওডিআই খেলবে। আমাদের মধ্যে সক্ষমতা আছে ভালো করার। আশা করি আমরা ভালো করবো।’

স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে জাহানারা-সালমা-রুমানারা পাচ্ছেন প্রস্তুতির মঞ্চ। সিলেটে এক মাসের ক্যাম্প শেষে এখন মিরপুরে চলছে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প। ১ মার্চ শেষ হবে ৩২ ক্রিকেটারের অনুশীলন পর্ব।

৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ গেমসে অংশ নেবে মেয়েদের তিনটি দল। সিলেটে প্রতিটি দল পাবে দুটি করে ম্যাচ। ওয়ানডে বাছাইয়ের প্রস্তুতির জন্য ঘরোয়া ইভেন্টটি হবে ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা।

টি-টুয়েন্টি ভুলে মেয়েরা এখন ওয়ানডের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। নিজেদের মধ্যে খেলছে ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচও, ‘আমি মনে করি টি-টুয়েন্টি আর ওডিআই শুধুমাত্র হতে পারে স্ট্র্যাটেজি ম্যাটার। এটা স্কিলের খুব বেশি পার্থক্য করে বলে মনে হয় না। কারণ ভালো বল ব্যাটসম্যান সমীহ করবে বাজে বল পানিশ করবে, সেটি টি-টুয়েন্টি হোক আর ওডিআই হোক।’

‘সর্বশেষ একমাসের যে ক্যাম্পটা হল সিলেটে, দীর্ঘ একটা সময় পরে ফিটনেস, স্কিলের যে অনুশীলন আমরা করেছি, সবমিলিয়ে প্রায় দশটা ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছি। ভালোভাবেই প্রস্তুত হয়েছি বাংলাদেশ গেমস বলেন বা সামনের সিরিজ বলেন, আমরা রেডি টু প্লে, বলা চলে।’

এপ্রিলে সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে হোম সিরিজে পাঁচটি ওয়ানডে পাবে মেয়েরা। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে বাছাইপর্বে যাওয়ার আগে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। সেটি যদি আলোর মুখ না দেখে তাহলে ২০ মাসের বিরতির পর ওয়ানডেতে যখন ফিরবে মেয়েরা, সেটি সরাসরি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব দিয়েই হবে।