চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে ভাসমান নৌকায় জুয়ার আসর!

সারাদেশেই জুয়া ক্যাসিনো বন্ধে যেখানে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেখানে যমুনা নদীর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশে ভাসমান নৌকায় অভিনব কায়দায় চলছে জুয়ার আসর। অনেক মানুষের সমাগমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা চললেও পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোন তথ্যই নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকটা জাঁকজমক ভাবেই দিনের পর দিন ভাসমান নৌকায় চালানো হচ্ছে এ অবৈধ কার্যক্রম। ঢাকাসহ সারাদেশের জুয়াড়িরা নিরাপদ আস্তানা ভেবে এই যমুনা নদীতে ভাসমান জুয়ার আসরে বসিয়েছে। শুধু জুয়াই নয়, সেখানে অবাধে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। চরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাসমান জুয়া খেলা চলছে। ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট নৌকাযোগে জুয়াড়িরা মধ্য নদীতে অবস্থান করা জুয়ার নৌকায় যায়।

বিজ্ঞাপন

জুয়ার ম্যানেজারের হাতে এক হাজার টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে উঠতে হয় এ নৌকায়। পরে নিরাপদ তীরে নৌকা ভিড়িয়ে চলে জুয়ার আসর। এই খেলা নজরদারী করতে জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীরা তাদের নিজস্ব লোকবল গোবিন্দাসী ঘাট থেকে গোপালপুর উপজেলার নলীন পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রেখেছে। জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করছে জুয়াখেলাজনিত মারামারির মামলার জামিনে থাকা প্রধান আসামি ফজল মন্ডল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আয়োজকরা প্রভাবশালী। সেইসাথে প্রশাসন ও ক্ষমতাবানদের সাথে তাদের যোগসাজশ থাকায় তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ। প্রতিনিয়তই দিনে দুপুরে যমুনা নদীতে ভাসমান ওই নৌকায় চলছে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা আর মাদক সেবন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে গোপালপুরের নলীন পর্যন্ত নৌ পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে। এরমধ্যে কোথাও নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন খবর নেই। তবে থানার অধীন বিভিন্ন নদীর শাখা-প্রশাখা বা খালগুলোতে হয়তোবা জুয়া খেলা চলতে পারে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন তথ্য নেই। তবে সিরাজগঞ্জের সীমানায় জুয়া খেলার খবর পাওয়ার পর সেখানকার থানা পুলিশের মাধ্যমে সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী যমুনা ঘাট সংলগ্ন কাশবনে জুয়ার আসরের সচিত্র সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় জুয়াড়িরা। এতে চার সাংবাদিকসহ ৬ জন আহত হয়। ওই রাতেই সোহেল তালুকদার বাদী হয়ে জুয়াড়ি ফজল মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাত শতাধিক জুয়াড়ির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে দীর্ঘ আন্দোলন ও ঘটনাটি আলোচিত হলে মূল হোতা ফজলু মন্ডলসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর ফজলু জামিনে বেরিয়ে এসেই শুরু করে জুয়ার আসর। সম্প্রতি ভূঞাপুর থানা পুলিশ ফজল মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।