চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জীবন

অনেকদিন শ্যামলার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই নয়নের। আগে প্রায়ই ফোন দিয়ে বাসায় নিমন্ত্রণ জানাতো। ছেলের দুধ কেনার টাকা নেই, কিংবা ঘরে বাজার-সদাই নেই, তখনই ডাক পড়ে নয়নের। নয়ন খুশি মনেই শ্যামলার ডাকে সাড়া দিত। চল্লিশ বছরের একাকী জীবনে নারীসঙ্গ তো প্রয়োজন। বিয়ে না করে যদি শ্যামলার মতো একটা জলজ্যান্ত মেয়েমানুষ পাওয়া যায় তাকে ক্ষতি কী!

শ্যামলার স্বামী নেই। বেঁচে আছে, না মরে গেছে – এ কথা নয়নকে কখনও বলেনি শ্যামলা। নয়নও জানার জন্য খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। বাজারে মেয়েমানুষের সঙ্গে একটা দুরত্ব থাকা ভালো।
শ্যামলার সঙ্গে পরিচয় প্রায় তিন বছর। সুমন একদিন অফিসে এসে বলল, নয়ন কি খুব ব্যস্ত আছিস।

নয়ন তেমন একটা ব্যস্ত ছিল না। বসে বসে কম্পিউটারে তাস খেলছিল। সুমনের দিকে না তাকিয়েই বলল, না তেমন একটা ব্যস্ত না। ব্যস্ত থাকলে কি আর কেউ কম্পিউটারে তাস খেলে?
সুমন নয়নের কাঁধ চাপড়ে বলল, তাহলে উঠ। আমার সঙ্গে এক জায়গায় যাবি।
কোথায়? কম্পিউটার অফ করতে করতে জানতে চায় নয়ন।
সুমন মুচকি হেসে বলল, মেমসাহেব দেখতে যাব।

নয়ন ভ্রু কুচকে তাকায় সুমনের দিকে। সত্যি মেমসাহেব দেখাবি!
নয়ন রহস্যমাখা হাসিমুখে বলে, হু। সত্যি। সত্যি। সত্যি। তিন সত্যি।
সুমন নয়ন দুজনেই বাংলা সাহিত্যের ছাত্র। কলেজ জীবনেই নিমাই ভট্টাচার্যের মেমসাহেবের প্রেমে পড়েছিল দুজন। সুমন ওকে মেমসাহেব দেখাবে শুনে মনের মধ্যে কেমন যেন একটা ভালো লাগার উষ্ণতা ছড়িয়ে যায় নয়নের।

কলিংবেল বাজতেই দৌড়ে এসে দরজা খুলেছিল শ্যামলা। ওকে দেখে সত্যি সত্যি চমকে উঠেছিল নয়ন। এ কী করে সম্ভব! পুরো ঢাকা শহর ভেজে খাওয়া নয়নের চোখে এতদিন কেন শ্যামলাকে চোখে পড়েনি।

ভেতরে আসুন। মিষ্টি হেসে ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল শ্যামলা। সেদিন শ্যামলার মাঝে মেমসাহেবকে খুঁজে পেয়েছিল নয়ন। সেই শুরু। এরপর মেমসাহেবের রূপযৌবনের সাগরে কত না সাঁতার কেটেছে নয়ন। নয়নকে মেমসাহেবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আর এমুখো হয়নি সুমন।

সুমনটা এরকমই। কত না মেয়েমানুষের সঙ্গে ওর ভাব। পারেও বটে সম্পর্ক ধরে রাখতে। সত্য মিথ্যে মিলিয়ে বুনে যায় সম্পর্কের জাল। নয়ন মোটেও মিথ্যে বলতে পারে না। যার ফলে কোনো মেয়েমানুষের সঙ্গে ওর সম্পর্ক বেশিদুর গড়ায়নি।

ছেলে ও ছোটভাইকে নিয়ে দুই রুমের বাসায় শ্যামলার বাস। এত সুন্দর একটা মেয়ে কেন এ লাইনে একদিন বিশেষ মুহূর্তে শ্যামলার কাছে জানতে চেয়েছিল নয়ন। মুচকি হেসে শ্যামলা বলেছিল, নিয়তি। আর কিছু জানতে চায়নি নয়ন।

শুধু নয়ন নয়, নয়নের মতো আরো অনেকেই আসে মেমসাহেবের শয্যাসঙ্গী হতে। নয়নের মতো বোধহয় ওদের সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠতা নেই শ্যামলার।
একদিন ঠাট্টাচ্ছলে শ্যামলাকে বলেছিল, আমি যদি তোমাকে বিয়ে করতে চাই তুমি আমাকে বিয়ে করবে।

শ্যামলা কেন জানি ভীষণ রেগে গিয়েছিল। বলেছিল, আর যদি কখনও এ কথা মনে আসে তবে আমার কাছে আর এসো না। নয়ন আর কোনোদিন শ্যামলাকে বিয়ের কথা বলেনি।
আজ বার বার শ্যামলার কথা মনে পড়ছে নয়নের। মোবাইলে কল করতে গিয়েও কল করে না। ভাবে সরাসরি গিয়ে হাজির হবে। যদি কাস্টমার থাকে তবে কি শ্যামলা ওকে ঘরে বসতে দিবে? প্রশ্নটা বার কয়েক মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। দিলে দিবে, না দিলে না দিবে আজ মন খারাপের দিনে শ্যামলার সঙ্গ তার চাই-ই চাই।

শ্যামলা বাসায়ই ছিল। কলিংবেল বাজাতে দরজা খুলল শ্যামলা। নয়নকে দেখে চমকে উঠল। ও কি সত্যি সত্যি নয়নকে দেখছে, না অন্য কাউকে।
শ্যামলা অবাক হয়ে জানতে চায়, নয়ন, আমি কি সত্যি তোমাকে দেখছি!
কেন? নয়ন জানতে চায়।

শ্যামলা ঢোক গিলে বলে, না মানে…
ঘরে ঢুকতে ঢুকতে নয়ন পাল্টা প্রশ্ন করে, না মানে কী?
শ্যামলা দরজা লাগিয়ে নয়নকে নিয়ে শোবার ঘরে ঢুকে। মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বলল, না মানে আমাকে একদিন সুমন ফোন করে বলল তোমাকে বিরক্ত না করতে। তাই ভাবছি আমি ভুল মানুষ দেখছি নাতো!

ও…এজন্য বুঝি আমাকে ফোন করা ছেড়ে দিয়েছ? শ্যামলার চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে জানতে চায় নয়ন।
শ্যামলা কোনো কথা বলে না। নয়নকে বুকে জড়িয়ে ধরে।
নয়নও দুহাতে শ্যামলাকে বুকে লেপ্টে নেয়। শ্যামলা, আজ অনেকটা সময় তোমার সঙ্গে কাটাব। থাকতে দিবে তো।

কোনোদিন নিষেধ করেছি কি? ঠোঁট টিপে হাসে শ্যামলা।
দরজা লাগিয়ে কাছে আসো। অনেকদিন পর আজ আবার তোমার সমুদ্রে সিনান করব। শ্যামলার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে নয়ন।

দরজা ভেজিয়ে নয়নের পাশে বসে শ্যামলা। নয়ন শ্যামলার হাতে হাত রাখে। ঠোঁটে ঠোঁট। বুকে বুক। শরীরে শরীর। আদিম উদ্দামতায় মেতে উঠে দুই নর-নারী।

বিজ্ঞাপন

কতক্ষণ…কত সময়… ঠিক মনে নেই। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তন্ময়তা কাটে নয়ন শ্যামলার। নয়ন ঝটপট বাথরুমে ঢুকে। শাড়িতে নিজেকে পরিপাটি করে ঘরের বাতি জ্বালায় শ্যামলা। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠে। সন্ধ্যা ৭টা। কে যেন এই সময় আসার কথা। কে যেন ঠিক মনে করতে পারে না। তবে কেউ একজন আসতে চেয়েছে সকালে ফোন করে সময় নিয়েছে। পুরনো কেউ না। নতুন একজন। তবে কি সে এসেছে!
… … …
ফয়জুর। ফয়জুর রহমান। পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি উচ্চতার ফর্সা গোলগাল গড়নের বেচারা স্কুল কলেজ জীবনে একটাও প্রেম করতে পারেনি। অনেক মেয়ে কাছে এসেছে। অল্প সময়ের জন্য। ফয়জুর ভেবে পায় না কী এমন কমতি আছে ওর মধ্যে যা দেখে মেয়েরা পিছু হটে।
আয়নায় তো প্রতিদিনই নিজের অবয়ব দেখে নিজেই চমকে যায়। যখন নতুন নতুন গোঁফের রেখা দেখা দিয়েছিল তখন আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই চমকে উঠেছিল। পোশাক আশাকে তো ওর মধ্যে বনেদী ভাব রয়েছে। বন্ধুরা একে একে প্রেম করে বিয়ে করে ঘর সংসারে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও সে একাকী রয়ে যায়। মামাতো ভাই শহীদ যদি এগিয়ে না আসত তবে ওর কপালে মেয়েমানুষ জুটত কিনা সন্দেহ।

ওর বউ সুমনা। বনেদী পরিবারের মেয়ে। লম্বায় একটু খাটো তাতে কী? ওর ভাইয়েরা সবাই ভালো পজিশনে। ওর বড়ভাই নয়ন বিয়ে করেনি ছোট ভাইবোনদের মানুষ করায় ব্যস্ত থাকায়। আর করবেও না জানিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ফয়জুররা বড়ভাইকে আর চাপ দেয়নি।
বিয়ের দশটি বছর কত না আনন্দে কেটেছে ফয়জুরের। ভালোবাসা মেয়েমানুষের ভালোবাসা এত আনন্দ এত সুখ এত ভালো লাগা সুমনাকে না পেলে বোঝা যেত না।

বিয়ের দশ বছর পরই সুমনা কেমন যেন পাল্টে যেতে লাগল। কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে এই সুমনার সঙ্গেই। অথচ এখন ও বাড়ি ফেরার পর পরই সুমনা বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে পড়ে। গায়ে হাত দিলে আগের মতো আর চমকে উঠে না। ফয়জুরের ভেতরের পুরুষটা কিছু সময় ছটফট করে নির্জীব হয়ে যায়। শুয়ে পড়ে সুমনার পাশটিতে।

সুমনার সমুদ্রের গর্জন শুধু থেমে যায়নি দিন দিন সুমনার চেহারাও কেমন যেন বুড়োটে ভাব চলে আসে। আগে সুমনা ওর সঙ্গে রিকশায় গেলে সবাই ফিরে ফিরে তাকাতো সুমনার দিকে। সুমনার জন্য ফয়জুরের ভেতরে মনে মনে গর্ব হতো সুমনার মতো সুন্দরী একটি মেয়ে ওর বউ। সেই সুমনাই এখন যখন ওর সঙ্গে রিকশায় যায় কেউ ফিরেও তাকায় না। সুমনাকে দেখলে এখন আর ওর বউ বলে কেউ ভাববে না। ভাববে খালা বা অন্য কিছু। ভাববে কি হার্টের ডাক্তার তো বলেই বসলেন, আপনার মায়ের দিকে খেয়াল রাখবেন। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস মা। ডাক্তারের কথা শুনে ফয়জুরের মাথা আপনা-আপনি নিচু হয়ে যায়। ডাক্তারের ভুল ভাঙানোর প্রয়োজন মনে করেনি।

একদিন বিকেলে সুমনাকে নিয়ে রমনা পার্কে ঘুরতে গিয়েছিল। পার্কের বেঞ্চিতে বসে দুজন বাদাম খাচ্ছিল আর গল্প করছিল। পুরনো দিনের কথা মনে করে দুজন যখন হাসছিল তখন ওদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে এক ভদ্রলোক বলছিলেন কি দিনকাল আইল। খালার সঙ্গে প্রেম করতে পার্কে চলে এসেছে। ওই দিনের পর আর পার্কে যায়নি ফয়জুর।

রাতে বাসায় ফিরেই মন খারাপ হয়ে যায় ফয়জুরের। জলজ্যান্ত একটা মেয়েমানুষ ওর থাকতেও ভালোবাসাহীন রাত কাটাতে হয়। দুচোখে ঘুম আসে না। ড্রয়িংরুমে গিয়ে টিভি দেখে। হিন্দি সিনেমার উত্তাল নৃত্য ওর দেহমনে কামনার ঝড় তুলে। বাথরুমে গিয়ে ঝরনা ছেড়ে কামনার নিবৃত্তি খোঁজে।

পর পর কদিন রাত জাগায় চোখের নিচে কালি জমে ফয়জুরের। সহকর্মী মোস্তফার চোখ এড়ায় না ব্যাপারটা। দুপুরে খাবার সময় একান্তে কথা বলে ফয়জুরের সঙ্গে। ফয়জুর প্রথমে বলতে না চাইলেও কিছু সময় পর সবকিছু খুলে বলে। মোস্তফা ফয়জুরের কাঁধে হাত রেখে বলে, কোনো চিন্তা করিস না। আমি দেখছি।

দুদিন পর মোস্তফা ফয়জুরকে একটা মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে, আমার কথা বলে ওর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট কর। খুব ভালো মেয়ে। সময় ভালোই কাটবে।
ফয়জুর এতদিন শুনে এসেছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে চলছে রঙিন দুনিয়া। মূলত রাজধানীর যে সব হোটেলে এসব ব্যবসা চলত তা উঠে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে গেছে। একদিন তো মগবাজার মোড়ে ওর রিকশায় ছোট একটা কার্ড ছুঁড়ে দিল এক পুচকে। কার্ডে ফোন নম্বর দেয়া। ওই নম্বরে কল করলেই পেয়ে যাবে আনন্দ নগরের ঠিকানা। সাহস হয়নি ফয়জুরের। তাই যাওয়া হয়নি আনন্দ নগরে।
সকালে অফিসে আসার পথে মোস্তফার দেয়া নম্বরে কল করে ফয়জুর। ওপাশ থেকে মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে আসে কাকে চাই।

আমতা আমতা করে ফয়জুর জিজ্ঞেস করে, আপনি কি মোনালিসা বলছেন?
জ্বী বলছি। আপনি কে?
এবার আমতা আমতা ভাব কাটিয়ে বলে ফয়জুর, আমি মানে আমি মোস্তফার বন্ধু। ফয়জুর। ফয়জুর রহমান।
জ্বী বলুন। কী চাই।
না মানে, আমি একটু আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
ওপাশের নারীকণ্ঠ সহজ ভাবেই বলে, আসুন। মোস্তফাকে নিয়ে আসুন। দেখা হবে।
বড় একটা ঢোক গিলে ফয়জুর। না মানে…আমি একাই আসতে চাই।
নারীকণ্ঠ হেসে ওঠে…আসুন।

ফয়জুরের ভেতর একটা অজানা আনন্দ ঢেউ খেলে যায়। জানতে চায় কখন আসব?
আপনি বলুন।
সন্ধ্যা ৭টায় আসলে হবে।
ঠিক আছে আসুন। আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করব।
ঠিকানাটা একটু বলবেন।
নারীকণ্ঠ অবাক হয়। কেন মোস্তফা আমার ঠিকানা আপনাকে বলেনি।
না মানে আমি শুধু আপনার মোবাইল নম্বর নিয়েছি ওর কাছ থেকে। বাসার ঠিকানা নিইনি। ঠিকানা নিতে লজ্জা করল।
ঠিক আছে। আমি লোকেশন বুঝিয়ে দিচ্ছি। ওই মতে চলে এলেই হবে।
… … …
ফয়জুর অফিস থেকে বের হয়েছে  ছটায়। মোনালিসার দেয়া লোকেশনে ওর অফিস থেকে হেঁটে গেলে বিশ মিনিট। ও হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে চলে গন্তব্যের দিকে।

মোনালিসার দেয়া লোকেশনের গলির মুখেই একটা হোটেল। গরম গরম পুরি ভাজা হচ্ছে। আলু পুরি। দেখেই খেতে ইচ্ছে করল ফয়জুরের। হোটেলে ঢুকে পুরির অর্ডার দেয়। মাংসের ঝোল দিয়ে অনায়াসেই খেয়ে নেয় দশ দশটা পুরি। গরম গরম দুধ চায়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে ফয়জুর।
ঘড়িতে সাতটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে হোটেল থেকে বেরিয়ে মোনালিসার ঠিকানায় পৌঁছে যায়। কলিংবেলে চাপ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শরীরটা যেন কেমন অবশ অবশ লাগছে। এরকম লেগেছিল যখন সুমনাকে নিয়ে বাসরঘরে ঢুকেছিল।

বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও যখন কেউ দরজা খুলছে না তখন পর পর দুবার কলিংবেল বাজায় ফয়জুর। এবার দরজা না খুললে মোনালিসাকে কল করতে হবে। এতদুর এসে সে আর ফেরত যাবে না। অনেক দিন অনেক দিন মেয়েমানুষের শরীরের স্পর্শ থেকে সে বঞ্চিত। জীবন্মৃত মানুষকে নিয়ে ওর সংসার। সে তো পুরুষ। ওরও তো চাহিদা আছে। সে কেন না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরবে।

দরজার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে ফয়জুর। তিনবার বেল বাজানো হয়ে গেছে। একটু সময় দেখে নিয়ে আরেকবার বেল বাজাবে ভাবে ফয়জুর। তারপরও দরজা না খুললে মোবাইলে কল করতে হবে মনে মনে ভাবে।
… … …
বাথরুম থেকে বেরিয়ে কাপড় চোপড় পরে নয়ন বিদায় নেয় শ্যামলার কাছ থেকে। শ্যামলা বলে, তুমি বাথরুমে যাও। আমি দেখছি কে এসেছে।

অনেকদিন পর জংধরা শরীরটা শক্তি ফিরে পেয়েছে। মনের মধ্যে অজানা একটা আনন্দ ঢেউ খেলে যায়। গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে দরজা খুলে নয়ন।
ভূত দেখার মতো চমকে উঠে। দরজার ওপাশে পরিচিত কাউকে দেখবে ভুলেও কখনও আশা করেনি নয়ন। দরজার ওপাশে দাঁড়ানো লোকটা নয়নকে দেখে মূর্তি হয়ে যায়। হা হয়ে তাকিয়ে থাকে নয়নের দিকে।

নয়ন ডান বাম না তাকিয়ে দ্রুত হাঁটতে থাকে। খুব দ্রুত। গন্তব্য কোথায় ওর জানা নেই।
দরজায় দাঁড়ানো মূর্তিটা নয়নের চলে যাওয়ার পর শরীরে শক্তি ফিরে পায়। সেও হাঁটা দেয়। হাঁটতে থাকে। হাঁটতে থাকে। দ্রুত। আরো দ্রুত। ওরও বুঝি গন্তব্য জানা নেই।
শ্যামলা ওরফে মোনালিসা ড্রয়িংরুমে এসে দেখে দরজা হা হয়ে আছে। কোথাও কেউ নেই।
মনে পড়ে সকালের মোবাইল কলের কথা। সাতটায় একজনের আসার কথা ছিল। শোবার ঘরে গিয়ে মোবাইল ফোনটা হাতে নেয়। সকালের কল লিস্ট দেখে কল করে।
মোবাইল ফোন বাজছে। বাজছে। বাজছে। কেউ ধরছে না।

শ্যামলা নয়নকে কল করে। নয়নের মোবাইলও বাজছে। বেজে চলেছে। নয়ন ধরছে না।
শ্যামলা দরজা লাগিয়ে শোবার ঘরে এসে বিছানায় উপুড় হয়ে শোয়। নয়নের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো হঠাৎ কেমন ফিকে হয়ে যায়। বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলে হায় রে জীবন একটাই জীবন, তুই আমার হাতছাড়া হয়ে গেলি।
পাশের রুম থেকে ছেলের কণ্ঠ ভেসে আসে আম্মু।
শ্যামলা বিছানা থেকে উঠে পাশের রুমের দিকে এগিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন