চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জামায়াত-হেফাজতের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী-সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি

জামায়াত-হেফাজতী সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

শহীদজননী জাহানারা ইমামের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার থেকে এই দাবি জানান বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সোমবার  বিকেল ৩টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  ‘সকল কওমি মাদ্রাসা সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে’-শীর্ষক এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। সভাপতিত্ব করেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

আলোচনা সভায় সভাপতি শাহরিয়ার কবির সূচনা বক্তব্যে ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব বানচালের উদ্দেশ্যে হেফাজত-জামায়াতের দেশব্যাপী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে, জাহানারা ইমামের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আন্দোলন এখনও কতটা জরুরি। বিলম্বে হলেও সরকার বর্তমানে হেফাজতের জঙ্গী নেতাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা অভিনন্দনযোগ্য। তবে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে বাংলাদেশ থেকে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নির্মূল করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী ডঃ দীপু মনি বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন আমাদেরকে সবসময় উজ্জ্বীবিত করে। আমরা যখন কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তখন কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নারীবিদ্বেষী গুজবের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থার চিন্তা দেখতে পাই। কিন্তু সেই শিক্ষাভাবনা নিয়ে আমরা আর এগুতে পারিনি ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক শিক্ষার বিস্তারে।

দীপু মনি আরো বলেন, সামাজিক আন্দোলনের মানুষ হিসেবে সত্য মিথ্যার হিসাব করা সহজ। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সহজ নয়। নতুন যে কারিকুলাম হচ্ছে তার ভিত্তি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। এই মুহূর্তে একবারে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি, একটি দেশের মধ্যে যেন দুটো জাতি গড়ে না ওঠে।

তিনি বলেন, যে মূল্যবোধের কারণে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ব করি- অসাম্প্রদায়িক মানবিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করছি।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ও ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি শিক্ষাবিদ কলাম লেখক মমতাজ লতিফ, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট-এর সভাপতি হাফেজ মওলানা জিয়াউল হাসান, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা হাসান রফিক, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী জাগরণ-এর যুগ্ম সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাজ্যের মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদউল্লা, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি মানবাধিকারকর্মী একরাম চৌধুরী, নির্মূল কমিটির ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ ড. মুজিবুর দফতরী ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।