চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের প্রথম আশ্রয়ণ কেন্দ্র বাংলাদেশে

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন ২৩ জুলাই

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য কক্সবাজারের খুরুশকুলে প্রস্তুত করা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ কেন্দ্র। আগামি ২৩ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে আশ্রয় পাবে জলবায়ুজনিত ঘূর্ণিঝড়ে উদ্বাস্তু হওয়া ৪৪০৯টি পরিবার।

প্রথম পর্যায়ে ২০ টি ভবনে আশ্রয় পাবেন ৬শ পরিবার। ইতিমধ্যে যারা ফ্ল্যাটের চাবি গ্রহণ করেছেন তারা খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক জানান, আধুনিক মানের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে সকল সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠবে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল।

১৯৯১ সালের মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বসতভিটা হারিয়ে কুতুবদিয়া, মহেশখালীর হাজার হাজার মানুষ কক্সবাজার পৌরসভার এক নম্বর ওর্যাডের বিমানবন্দর সংলগ্ন নাজিরারটেক, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় সরকারী খাস জমিতে বসতি শুরু করে।

কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম আকতার কামাল বলেন, যেখানে বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে ঐ সব এলাকার ৬০ হাজার মানুষ। কিন্তু বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপান্তরে আশেপাশের সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের স্থানাস্তরের উদ্যোগ নেয় সরকার।

কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) আসরাফুল আবছার জানান, ২০১৬ সালে বাঁকখালী নদীর কিনারা ঘেষে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে প্রায় ২শ’ ৫৪ একর জমিতে নেয়া হয় খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্যোগ। ২০১৭ সালের মার্চে কার্যাদেশের পর বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলে এ প্রকল্পের কাজ। ইতিমধ্যে ওই আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ২০টি ভবন তৈরি শেষ।

বিজ্ঞাপন

ঝুপড়ি ও কুঁড়ে ঘরে বসবাস করা মানুষগুলো সুন্দর দালানে স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা পেয়ে দারুণ খুশি। তাই কৃতজ্ঞতার শেষ নেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জলবায়ূ উদ্বাস্তু রফিকুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম আর বোরহান বলেন, এত দিন আমাদের কোনো নিশ্চিত ঠিকানা ছিল না। গত ২৯ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উচ্ছেদসহ নানা আতংক নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছিলাম। এখন আর কোনো ভয় নেই। আমাদেরও জন্য সরকার ফ্ল্যাট দিয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জলবায়ূ উদ্বাস্তুরা যেন উচ্ছেদ না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিশেষ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য তৈরি করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কে ১ শ একর জমি দেয়া হয়েছে। যার উপর গড়ে তুলবে ১০ তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা টাওয়ার সহ নানা পর্যটন স্পট।

খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকছে ৫ তলা বিশিষ্ট ১৩৯টি ভবন ও ১০ তলা বিশিষ্ট ১টি টাওয়ার। যা পর্যায়ক্রমে তৈরি করবে সেনাবাহিনী।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএিম বার বলেন, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে কাগজ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে ঐ এলাকার আইন শংখলা রক্ষার জন্য।

মানবিকতার জায়গা থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পর বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমবারের মতো জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য স্থায়ী বসতি করে দেয়ার বিষয়টি বিশ্বের জন্য হতে পারে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।