চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনবিচ্ছিন্ন ‘কৌশল’ কাজে লাগে না

বলতে গেলে একেবারে শেষ মুহূর্তে শপথ নিতে হলো বিএনপির চার সংসদ সদস্যকে। যদিও একদিন আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ার ‘অপরাধে’ বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয় ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমানকে। আর এ কারণেই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দেশের ‘ঠান্ডা’ রাজনীতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রাজনীতির মাঠে এখন আলোচনার প্রধান ইস্যু বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ। বিশেষ করে শপথে ‘এক যাত্রায় ভিন্ন ফল’ নিয়ে সেই আলোচনায় অসংখ্য শাখা-প্রশাখা গজিয়ে এখন বিরাট আকার ধারণ করেছে। শপথ নেয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে একদিকে একজনকে বহিস্কার করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আবার অন্যদিকে ‘দলীয় কৌশল’ বলে চার জনের শপথের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবার উল্টোপথে হেঁটে বলছেন, অন্যরা শপথ নিলেও তিনি নিচ্ছেন না। তার যুক্তি, ‘কৌশলের অংশ’ হিসেবেই দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকছেন তিনি। তার এ কথার মানে দাঁড়াচ্ছে, বিএনপির নেওয়া সব সিদ্ধান্তই আসলে ‘কৌশল’। সেটার ফলাফল যাইহোক না কেন!

বিজ্ঞাপন

কিন্তু শুধু কি কৌশলের দোহাই দিয়ে সব সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেয়া যায়? একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও আমরা দেখেছি, যে বিএনপি কথায় কথায় বলতো, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না তারা। কিন্তু আগের দফায় বর্জনের পর এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘাড়ে চেপে নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। সেখানেও ‘আন্দোলনের কৌশলের’ কথা বলেই মুখ রক্ষা করেছিল বিএনপি।

আমরা জানি, নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৮টি আসনে পেয়েছিল, তার ৬টি বিএনপির। যদিও নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে তা বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি করে ঐক্যফ্রন্ট। এমনকি নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবে না বলেও সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। যদিও একমাত্র মির্জা ফখরুল ছাড়া তাদের সবাই এখন সংসদে।

তাহলে বিএনপি কি তাদের ‘রাজনৈতিক ভুল’ সংশোধনের পথে যাত্রা করলো? সংসদে গিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিক বৈধতা দিলো? অবশ্য ঘুরিয়ে হলেও তা স্বীকার করে নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তার মতে, ‘এখন বিশ্ব রাজনীতিতে যে ধারা চলছে, তাতে সব সিদ্ধান্ত একেবারে চূড়ান্ত হয়ে থাকবে, স্থবির হয়ে থাকবে- এটা সব সময় সঠিক নয়।’

আমরা মনে করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ রাজনৈতিক উপলব্ধি সঠিক। পৃথিবীর সব রাজনৈতিক দলেরই উদ্দেশ্য ক্ষমতা কেন্দ্রীক। সেই উদ্দেশ্য পূরণে নানা কৌশল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে তাতে জনসমর্থন থাকতে হয়। জনবিচ্ছিন্ন কোনো কোনো কৌশল যে কাজে আসে না, তার বড় প্রমাণ বিএনপি। নিশ্চয়ই বিএনপির তার অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।