চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান: দর্শকই যখন অনুপ্রেরণা

‘২২-এ চ্যানেল আই, সামনে এগিয়ে যাই’

‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে ধারণ করে ১ অক্টোবর ২১ বছর পূর্ণ করে ২২ বছরে পা রাখলো দেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন, চ্যানেল আই। 

চ্যানেল আইয়ের হাত ধরে এদেশের টেলিভিশন জগতে উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্তের। গত একুশ বছরে বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষী মানুষ এবং টেলিভিশন শিল্পকে অনেক ‘প্রথম’ উপহার দিয়েছে চ্যানেল আই।

বিজ্ঞাপন

মহামারী করোনার কারণে এ বছর সবাইকে নিয়ে উদযাপন না করলেও গত এক সপ্তাহ ধরেই প্রিয় চ্যানেলকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব অঙ্গনের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ এই দিনে এক নজরে দেখে নেয়া যায় বিগত একুশ বছরে চ্যানেল আইয়ে প্রদর্শীত আলোচিত কিছু অনুষ্ঠানের নাম, যেগুলো বাংলাদেশে টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

অনন্য উচ্চতায় ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’
যাত্রার শুরু থেকেই মাটি ও মানুষের কথা বলে চ্যানেল আই। কারণ চ্যানেল আইয়ের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ! ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-নামটি বাংলার আপামর জনসাধারণের কাছে খুব পরিচিত। শাইখ সিরাজ প্রযোজিত, উপস্থাপিত ও পরিচালিত কৃষিবিষয়ক টিভি ধারাবাহিকটি বর্তমানে অনন্যমাত্রায় পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে বাংলার কৃষকের কাছে। শুধু চ্যানেল আইয়ের নয়, এটি বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাংলার গ্রামীণ কৃষিব্যবস্থা ও কৃষক জীবনকে তুলে ধরেন শাইখ সিরাজ। যার ফলে কৃষকদের কাছে তিনি একজন কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

গণমানুষের হৃদয়ের কাছে ‘তৃতীয় মাত্রা’
বাংলাদেশের টেলিভিশন টকশো’র ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত চ্যানেল আইয়ের ধারাবাহিক টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’। শুধু তাই নয়, এটিকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রথম টকশো। সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয় এই টকশোতে। তবে রাজনীতি নির্ভর আলোচনা অনুষ্ঠান হলেও এটিতে সমাজ, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানববিদ্যাসহ প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে, অনুষ্ঠানটিতে রাজনীতির বাইরের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনাকারী, পরিচালক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।

রিয়েলিটি শো
সংগীত, চলচ্চিত্র, নৃত্য, ভাষা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো যে বড় অবদান রাখছে, সেটা অনস্বীকার্য। চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ, গানের রাজার মতো রিয়েলিটি শো’র মাধ্যমে বাংলা সংগীত জগতে বেশকিছু তরুণ প্রতিভাকে খুঁজে বের করে এনেছে চ্যানেল আই। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার, মেনস ফেয়ার এন্ড লাভলি হেন্ডসাম আল্টিমেট-এর মতো রিয়েলিটি শো’র মাধ্যমে অভিনয় জগতেও বেশকিছু প্রতিভাধর তরুণ-তরুণীদের খুঁজে এনেছে চ্যানেল আই, যারা বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট ও বড় পর্দায় তুমুল আলো ছড়াচ্ছেন। প্রশংসা পাচ্ছেন সব মাধ্যমে। সেরা নাচিয়ে, উদ্ভাবকের খোঁজে, বাংলাবিদ কিংবা এসো রোবট বানাই-এর মতো রিয়েলিটি শো দেশের লুকানো মেধাবীদের সবার সামনে নিয়ে আসছে।

তারকার সঙ্গে দর্শকদের সরাসরি আলাপন: তারকাকথন
চ্যানেল আই এর প্রতিদিনের সরাসরি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘তারকাকথন’। বিভিন্ন মাধ্যমের খ্যাতিমান তারকাদের সঙ্গে সরাসরি ফোন আলাপে অংশ নিতে পারেন এই অনুষ্ঠানে। দেশের খ্যাতিমান তারকাদের জন্মদিনে বিশেষ শুভেচ্ছা জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে এনে।

টু দ্য পয়েন্ট
প্রচলিত টক শো নয়। সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট তথ্য খুঁড়ে বের করে আনার এক আয়োজন ‘টু দ্য পয়েন্ট’। সমকালীন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও জবাবদিহিতার অনুষ্ঠান হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এ অনুষ্ঠানটি। চ্যানেল আই সংবাদের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খানের পরিকল্পনা ও রাজু আলীমের পরিচালনায় টু দ্য পয়েন্ট এক ভিন্ন মাত্রার টক শো হিসেবে দর্শকদের কাছে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

৩০০ সেকেন্ড
নামের সঙ্গে মিলিয়ে ৩০০ সেকেন্ড ব্যপ্তির একটি টক শো। পরিচালনা করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। চ্যানেল আই এর একুশ বছরে পদার্পন উপলক্ষে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে প্রতিদিনের অনুষ্ঠানটি। দেশের বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ৩০০ সেকে-ের প্রশ্নোত্তরের ঝড় বয়ে যায় এ অনুষ্ঠানে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

৩৬৫ সেকেন্ড রাজনীতি নয়
রাজনীতিবিদরা রাজনীতির বাইরে কথা বলছেন। জীবন নিয়ে কথা বলছেন। প্রেম নিয়ে কথা বলছেন। বাল্যস্মৃতি নিয়ে কথা বলছেন। মনের ভেতর লুকোনো কোনো সত্য তুলে ধরছেন। ফরিদুর রেজা সাগরের পরিকল্পনায় চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠানে সর্বশেষ সংযোজন ‘৩৬৫ সেকেন্ড রাজনীতি নয়’ অনুষ্ঠানটি। টেলিভিশন সিনেমার পরিচিত মুখ শহীদুল আলম সাচ্চুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

পরিবেশ প্রকৃতি ও জীবন
চ্যানেল আই এর সমাদৃত কয়েকটি অনুষ্ঠানের একটি হচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন। মুকিত মজুমদার বাবুর উপস্থাপনা ও পরিচালনায় বাংলাদেশের জীববৈচিত্র নিয়ে প্রথম ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রকৃতি ও জীবন। বাংলাদেশকে বলা হয় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের এক সম্ভার। প্রকৃতি ও পরিবেশের অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র এবং সংলাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে এ অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের নিয়মিত অনুষ্ঠান হিসেবে এটি প্রথম উদ্যোগ। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন প্রকৃতি সুরক্ষায় দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিবেশ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান হিসেবে প্রকৃতি ও জীবন পেয়েছে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার জাতীয় পরিবেশ পদকসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

বিশেষ দিন মানেই চ্যানেল আই
এছাড়া সারাবছর চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়ে আসছে যুগোপযোগী ও শিল্পমান সম্পন্ন টেলিফিল্ম-নাটকসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। ঈদ, পূজা কিংবা যে কোনো বিশেষ দিবসে চ্যানেল আই প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। বিষয়টি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে একটি কথা প্রচলিতই হয়ে গেছে ‘বিশেষ দিন মানেই চ্যানেল আই’! টেলিভিশন কিংবা গণমাধ্যম নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা ও প্রত্যাশাগুলো পূরণ করে এগিয়ে চলেছে চ্যানেল আই। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও আকাশ সংস্কৃতির নতুন নতুন অগ্রযাত্রার ভেতর চ্যানেল আইয়ের পথচলা নতুন নতুন উদ্ভাবনের ভেতর দিয়ে। প্রথম দিন যে নতুনত্বের মালা গেঁথেছিল, আজও তা গেঁথে চলেছে চ্যানেল আই।

সংবাদে চ্যানেল আই
মানুষ থেকে মানুষে মুহূর্তে সংবাদ পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিপ্লব ঘটালেও গণ আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে এখনো গণমাধ্যমের অবস্থান। মানুষের এই চিন্তা ও প্রত্যাশার সম্প্রসারণটিই ঘটিয়েছে আদর্শ গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের এই আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টির পেছনেই নিবিড় কর্মসাধনা রয়েছে চ্যানেল আই ‘সংবাদ’-এর।

শতভাগ পেশাদারিত্ব, নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও তারুণ্যের জয়গান গেয়ে চ্যানেল আইয়ের মতোই চ্যানেল আই ‘সংবাদ’-এর অভিযাত্রা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ, খাদ্য নিরাপত্তায় শতভাগ স্বনির্ভরতা অর্জন তথা বাংলাদেশের গঠনমূলক পরিবর্তনের সরব সঙ্গী চ্যানেল আই। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, বহু ঘটনা, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন প্রতিকূল ও সংকটময় পরিস্থিতি এসেছে। সবক্ষেত্রেই সঠিক ও তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য দর্শকদের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেছে চ্যানেল আই। সবচেয়ে দ্রুত পূরণ করেছে দর্শকদের প্রতিমুহূর্তের তথ্যের ক্ষুধা। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন লাইভ সম্প্রচার এবং এ সংক্রান্ত পেশাদারিত্ব ও কারিগরী উৎকর্ষে চ্যানেল আই সংবাদ বস্তুনিষ্ঠতায় এক স্বতন্ত্র অবস্থান গড়েছে। সংবাদ পরিবেশনে চ্যানেল আই বরাবরই থেকেছে গণমুখি অবস্থানে। প্রতিদিন চ্যানেল আই সংবাদে ১০টি পূর্ণাঙ্গ সরাসরি বুলেটিন ছাড়াও প্রতি ঘন্টায় শীর্ষ সংবাদ প্রচারিত হয়। চ্যানেল আই-ই দেশে প্রথম প্রতিদিনের সংবাদপত্রের খবর নিয়ে ‘সংবাদপত্রে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে। প্রতিদিনের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত বারোটায় মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় শুরু হয় গ্রামীণ ফোন আজকের সংবাদপত্র। এটি এখন বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য একটি অনুষ্ঠান।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে ২২-এ চ্যানেল আই
সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে ২২-এ চ্যানেল আই

চ্যানেল আই অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ তৎপরতা
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন। বস্তুনিষ্ঠ অনলাইন সাংবাদিকতা এই সংবাদ পোর্টালটির মূল লক্ষ্য। পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি টেক্স জার্নালিজম ছাড়াও ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজমে বেশ দক্ষতার সাথে কাজ করছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এখানে কাজ করছে সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, নিউ মিডিয়া এবং পরিপূর্ণ প্রযুক্তিজ্ঞানসমৃদ্ধ হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে প্রত্যেক সাংবাদিককে। ইতোমধ্যে এই অনলাইন পোর্টালটি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি। একইসাথে চ্যানেল আই এন্টারটেইনমেন্ট-এর ইউটিউব চ্যানেলে ৩৫ লাখের ওপর সাবস্ক্রাইবার, চ্যানেল আই নিউজের ইউটিউবে ২০ লাখের কাছাকাছি সাবস্ক্রাইবার এবং চ্যানেল আই ডিজিটালে দেড় লাখের ওপর সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। চ্যানেল আইয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৪২ লাখ বন্ধু লাইক দিয়েছেন। ফলোয়ার্স ৫১ লাখের বেশি। চ্যানেল আই টিভি’র ফেসবুক পেইজে লাইক ৪ লাখ ৮৩ হাজার, ফলোয়ার সাড়ে ৮ লাখ। সর্বোপরি টেক্স এবং ভিডিও কনটেন্টের বিস্তৃত ব্যবহার পোর্টাল থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির সবগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইটগুলোতে আপলোড হচ্ছে। এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এই সময়ে চ্যানেল আই অনলাইন তার কাজের বৈচিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শক ও পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে।