চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলচ্চিত্রের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলে যাওয়ার ৭ বছর

বাংলা চলচ্চিত্রের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ হিসেবে পরিচিতি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)। ২০১৩ সালের এ দিনে ৮২ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান।

১৯৩১ সালে জামালপুরের সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ার হোসেন। তার পিতা নাজির হোসেন ছিলেন সহকারী নিবন্ধন কর্মকর্তা। ১৯৫১ সালে জামালপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন আনোয়ার হোসেন। পরে আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হয়ে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ময়মনসিংহ ছেড়ে একসময় ঢাকায় চলে আসেন।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বেতারের নাটকে প্রথম অভিনয় শুরু করেন ১৯৫৭ সালে। নাটকটির নাম ছিল ‘নওফেল হাতেম’। আনোয়ার হোসেন অভিনীত প্রথম ছবি ‘তোমার আমার’। মহিউদ্দিন পরিচালিত এ ছবিতে তিনি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬২ সালে মুক্তি পায় আনোয়ার হোসেন অভিনীত দ্বিতীয় ছবি ‘সূর্যস্নান’। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘জোয়ার এলো’ (১৯৬২), ‘কাচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘নাচঘর ’ (১৯৬৩), ‘দুই দিগন্ত (১৯৪৬), ‘বন্ধন’ (১৯৬৪), ‘একালের রূপকথা’ (১৯৬৫) প্রভৃতি ছবিতে।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৫ সালে উর্দু ছবি ‘সাতরং’-এ ট্রাকড্রাইভার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। এরপর উর্দু ছবি ‘উজালা’য় সুলতানা জামানের বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। ‘উজালা’ মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালে। পরের বছর বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবিতে কাজ করার পর আনোয়ার হোসেনকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কার পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন। ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে ১৯৭৫ সালে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবির জন্য সহ-অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পান ১৯৭৮ সালে। এরও আগে ১৯৬৭ সালে ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’য় অভিনয় করে নিগার পুরস্কার পেয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। এরপর থেকেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ বা মুকুটহীন নবাব নামে আখ্যায়িত হন।

অভিনেতাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনই ১৯৮৮ সালে প্রথম একুশে পদক পান। এ ছাড়া ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান আসর থেকে আজীবন সম্মাননা পান গুণী এ শিল্পী।