চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চকলেট ডে: বন্ধুর সঙ্গে আবার কবে হাফ-হাফ চকলেট খাবো

সালটা একেবারেই মনে নেই। শুধু মনে আছে বিটিভিতে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হতো সাদাকালো চার্লিস এঞ্জেলস। ভীষণ জনপ্রিয় ওই টিভি সিরিয়াল ছিল তিন দুর্ধষ সুন্দরীকে ঘিরে। আর তাদের একজন বস কোজাক। ন্যাড়া মাথার ওই কোজাকের কারণে আমার আগ্রহ বেড়ে গেল ললিপপ চকলেটের প্রতি। শুধু আমি না ৮০ দশকে আমার মতো সব শিশুদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এলো চারআনার কোজাক। হলুদ প্লাস্টিকের কাঠির আগায় হওয়ায় মিঠাই রঙের ১০ পয়সা, ৫ পয়সা আকৃতির চকলেট যেন হারিয়েই গেলো এক ঝটকায়। চার্লিস এঞ্জেলের মতোই বহুবছর আমাদের রসনায় রাজত্ব কায়েম করে ছিলো ললিপপ ওরফে কোজাক চকলেট। ফাঁকে নানান চকলেট এসেছে আবার বিদায়ও নিয়েছে। তবে ললিপপের পরে আবার একদফা হৃদয়ে আসন করে নেয় চার আনার তিতাস চকলেট। কিছুক্ষণ চোষার পর নারকেল বের হতো। আর সেই নারকেল বের করাই ছিলো আমাদের প্রধান কাজ।

চারআনা, আটআনা, একটাকার চকলেটে বেশ ভালোই যাচ্ছিল আমাদের মিষ্টি স্বাদের জীবন। কিন্তু হুট করে একদিন বাজারে এলো ইন্ডিয়ান দুই টাকা দামের ক্যাটবেরি চকলেট, এই প্রথম আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা বুঝলাম এতোদিন আমরা চকলেট না লজেন্স খেয়েছি। সেই চকলেটের দাপট আর দেখে কে! কিছুক্ষণ চোষার পর ভেতর থেকে নরম নরম কি যেন বেরিয়ে জিহ্বায় স্বগীয় সুখ স্পর্শ করে। এই চকলেটের পর আর একটি চকলেট মন কেড়েছিল তা হলো আলপিন। এখনো বেশ জনপ্রিয় এই আলপিন চকলেট। এখন তো দোকানে গেলে মাথা খারাপ খারাপ লাগে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যেকোন দামেই চকলেট কেনা যায় চাইলে। হাজার রকমের চকলেটের নানান দাম।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আমাকে প্রায় দুই বাচ্চার হাত ধরে দোকানে ঢুকতে হয় চকলেটের খোঁজে। চকলেট খাবো আর কি মোড়ক দেখেই কেমন জানি ভয় ভয় করে। ঝলমলে মোড়কে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কখনো কখনো দাম শুনে আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। কিন্তু শিশুদের আনন্দ বেড়েছে বহুগুণ ভেবে ভালোই লাগে। দেশে আবার চকলেট ডেও এসেছে। এসেছে ডায়াবেটিস চকলেটও। আমার দুই বাচ্চা, বাসায় যে আসে ওদের জন্য চকলেট নিয়ে আসে। আমাদেরও চকলেট হাতে নিয়ে বাসায় ঢুকতে হয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে না থাকলেও খেতে হয়। খেয়ে দেখি ভালোই লাগছে। তখনই দ্বিধা বাঁধে। এই বয়সে চকলেট কেন ভালো লাগবে? আবার লাগবেই না কেন? চকলেট কি শুধুই শিশুদের খাবার? আর তাই যদি হবে তবে আমরা বড়রা চকলেট খেতে চাই না কেন? নাকি শিশুদের প্রিয় খাবার মুখে নিতে মন খারাপ লাগে? মনে হয় আমি না খেলে হয়তো কোন না কোন শিশু খেতো চকলেটটি। শিশুদের জন্য যে মায়ায় আমরা চকলেট রাখছি, জানি না সেই একই মায়ায় পৃথিবী রাখছি কিনা!

যাক আজ চকলেট ডে, প্রসঙ্গ শেষ করি। এখনকার শিশুদের মতো আমরা ফ্ল্যাট নামের খাঁচায় বড় হইনি। এখনকার শিশুদের মতো আমাদের রোগ জীবাণু থেকে দূরে রাখতে নানা মন্ত্র শেখানো হতো না। আমরা যেকোন গ্লাসেই পানি খেতাম। এক আইসক্রিম পাঁচজনে খেতাম। তবে সবচেয়ে বিপত্তি বাঁধতো চার আনার এক চকলেট নিয়ে। যদি কখনো এমন পরিস্থিতি হতো যে পকেটে একটি মাত্র চকলেট আর সামনে অনেক বন্ধু। তখন সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধুকে নিয়ে একটু আড়ালে চলে যেতাম। তারপর দাঁতে কেটে হাফ চকলেট খেতাম। বাকিটা বন্ধুর জন্য। সবচেয়ে প্রিয় খাবারটা যে বন্ধুর সাথে শেয়ার করে খেতাম সেই বন্ধুরা এখন কে কোথায় কেমন আছে জানি না। শুধু এতোটুকু জানি, আমার মনের ভেতরে এখানো কোথাও না কোথাও হাফ চকলেট রাখা আছে। একদিন আসিস, দুই বন্ধু হাফ-হাফ চকলেট খাবো, সমান সমান ভাগ করে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View