চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গানে ফিরলেন কোনাল

করোনায় বাবার মৃত্যুতে ওলটপালট হয়ে যায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কোনালের জীবন। ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যু শোক কাটিয়ে দুইমাস পর গানে ফিরলেন চ্যানেল সেরাকণ্ঠের এ শিল্পী।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের সুর সংগীতে নতুন গানে কণ্ঠ দিলেন কোনাল।

বিজ্ঞাপন

গানটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরদের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এবং নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘গাঙচিল’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক হিসেবে থাকছে। কোনালের কণ্ঠে গানের কথা লিখেছেন কলকাতার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান শওকত আলী ইমন।

আগস্টের শেষে ইমন সাহার সুর সংগীতে ‘ব্যাকুল বিহঙ্গ’ ছবিতে গেয়েছিলেন কোনাল। তারপরেই এ শিল্পীর পরিবার করোনা সংক্রমিত হয়। ১০ সেপ্টেম্বর কোনাল তার বাবাকে হারান। তখন থেকেই সবকিছু থেকে দূরে ছিলেন।

কোনালের ভাষ্য, এ কারণে অনেকগুলো কাজ জমে গেছে। বিভিন্ন মিউজিক ডিরেক্টর, টিভি চ্যানেল থেকে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু বাবার মৃত্যুর ৪০ দিন না হওয়ায় কোনো কাজ করিনি। আরও কয়েকটি নতুন ছবির জন্য কণ্ঠ দেব। জমে থাকা কাজগুলো একে একে শেষ করার চেষ্টা করছি।

নতুন গানে প্লেব্যাক প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, গানের কথাগুলো এমন ‘‘আজকে সবার দিল, একসাথে শামিল, আমরা যেন নীল আকাশের উড়ন্ত গাঙচিল’’। স্ক্রিনে দেখা যাবে খুব মজা করে গাওয়া হচ্ছে, বাংলার ঢোলের ব্যাপার আছে। গানের মধ্যে একটা আশা জাগানিয়া পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, শওকত আলী ইমন ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্লেব্যাক ক্যারিয়ারে অনেকগুলো গান করেছি। ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ ছবিতে ‘জানে খোদা’ গানটি উল্লেখযোগ্য। নতুন গানটি করেও ভীষণ তৃপ্তি পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, সিনেমাতে দর্শকদের জন্য গানটি উপভোগ্য হবে।

সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, এটি ‘গাঙচিল’ ছবির টাইটেল গান। কোনালের ভয়েস নেয়া হয়েছে। প্রতীক হাসান ও আকাশ মাহামুদ নামে আরও দুজন কণ্ঠ দেবে। এটি পুরোপুরি উৎসবমুখর গান। আমার বিশ্বাস গানটি ‘গাঙচিল’ ছবিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

জানা যায়, ‘গাঙচিল’ ছবির শুটিং প্রায় শেষ। পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল জানান, গান বাদে সব শুটিং শেষ হয়েছে। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, পূর্ণিমা, আনিসুর রহমান, মিলন, তারিক আনাম খান প্রমুখ।

‘গাঙচিল’ উপন্যাসটি নিয়ে ওবায়দুল কাদের আগেই জানিয়েছেন, এটি কোন কাল্পনিক গল্প নয়। নোয়াখালীর একটি চর ‘গাঙচিল’কে উপজীব্য করে পুরো উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। ওখানকার মানুষের জীবনের নানা বিষয় ‘গাঙচিল’ উপন্যাসে উঠে এসেছে। ওই এলাকার মানুষকে যেভাবে ঝড়, বন্যা আর জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়, সেসব সংগ্রামই উপন্যাসে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সময় প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ‘গাঙচিল’।