চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গানের হুমায়ূন, হুমায়ূনের গান

কালজয়ী কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন শুক্রবার (১৩ নভেম্বর)

কালজয়ী কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন শুক্রবার (১৩ নভেম্বর)। ছোট গল্প, উপন্যাস, শিশুতোষ উপন্যাস- সাহিত্যের সব জায়গায় ছিল তার সরব উপস্থিতি। কখনও আবার রং-তুলির ছোঁয়ায় রাঙিয়েছেন ক্যানভাসের রংহীন সাদা স্থান। পিছিয়ে ছিলেন না নির্মাণেও। ছোট পর্দা, বড় পর্দায় তার নানা সৃষ্টি বাঙালির মনে দাগ কেটে থাকবে হাজার বছর। তার প্রতিটি নির্মাণের বিশেষত্ব ছিল গানের ব্যবহার। কখনও রবীন্দ্র সংগীত, কখনও নজরুল গীতি, আবার কখনও বা নিজের লেখা গান দিয়ে ছুঁয়ে গেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে চ্যানেল আই পাঠকদের জন্য থাকছে তাঁর লেখা কিছু গান-

আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা
১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এই গানটির সুর ও সংগীত মকসুদ জামিল মিন্টুর। গানটির দুইটি ভার্সন আছে। মূল ছবিতে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন। অ্যালবামে মেহের আফরোজ শাওনের কণ্ঠেও শোনা যায় এই গান। চলচ্চিত্রে গানের সাথে ঠোঁটও মিলিয়েছেন মূল নায়িকা শাওন।

Reneta June

একটা ছিল সোনার কন্যা
‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রের আরেকটি গান ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’। গ্রামের চঞ্চল মেয়ে কুসুমের চরিত্রে শাওনের উদ্দেশ্যে এ গান গাইতে দেখা যায় সুরুজরূপী মাহফুজ আহমেদকে। এই গানেরও সুর ও সংগীত মকসুদ জামিল মিন্টুর। কণ্ঠ দিয়েছিলেন সুবীর নন্দী।

বিজ্ঞাপন

বরষার প্রথম দিনে
কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘বরষার প্রথম দিনে’ গানটি ছিল ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হুমায়ূন আহমেদের ‘দুই দুয়ারী’ চলচ্চিত্রে। মাহফুজ আহমেদ, রিয়াজ, মেহের আফরোজ শাওন অভিনীত ‘দুই দুয়ারী’র এই গানের সুরও করেছিলেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

মাথায় পড়েছি সাদা ক্যাপ
কণ্ঠশিল্পী আগুনের গলায় এই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। এই গানটিও ‘দুই দুয়ারী’ চলচ্চিত্রের। মকসুদ জামিল মিন্টুর সংগীতায়োজনে এই গান জুড়ে যেন জীবনের আনন্দ ফিরে পাবেন শ্রোতারা।

ও আমার উড়াল পঙ্খীরে
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চন্দ্রকথা’ চলচ্চিত্রে সুবীর নন্দীর কণ্ঠে শোনা ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’ গানটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। আহমেদ রুবেল, ফেরদৌস, মেহের আফরোজ শাওন অভিনীত ‘চন্দ্রকথা’ চলচ্চিত্রে এই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে
মকসুদ জামিল মিন্টুর সুরে, সেলিম চৌধুরীর কণ্ঠে, হুমায়ূন আহমেদের লেখা এই গান ভক্তরা পেয়েছেন ‘চন্দ্রকথা’ চলচ্চিত্রে। গ্রামের জমিদার আসাদুজ্জামান নূরের সাথে গ্রামের মেয়ে শাওনের বিয়ের পর জমিদার বাড়িতে আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যার আলোকে চিত্রায়িত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদের সরাসরি ছাত্র কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী।

চল বৃষ্টিতে ভিজি
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রের এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। জাহিদ হাসান, মেহের আফরোজ শাওন, ফেরদৌস, বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘আমার আছে জল’ এর হুমায়ূন আহমেদ রচিত এই গানটি জুড়ে বাদলা দিনের আবহ তৈরি হয়েছে।

যদি মন কাঁদে তুমি চলে এস এক বরষায়
এই গানটি হুমায়ূন আহমেদের এক অসাধারণ সৃষ্টি। মেহের আফরোজ শাওনের কণ্ঠে এই গানটি চলচ্চিত্রে নয়, পাওয়া গিয়েছিল নাটকে। এই গানের সুর ও সংগীতায়োজন এস আই টুটুলের।

ও কারিগর দয়ার সাগর… চাঁদনি পসর রাইতে যেন
চাঁদের প্রতি হুমায়ূনের অদ্ভুত এক আকর্ষণ ছিল আর তাঁর প্রমাণ তিনি দিয়েছেন বহুবার। পূর্ণিমার রাতে মরণের বাসনায় লেখা এই গানে সুর দিয়েছিলেন এসআই টুটুল, গানে কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি।