চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভুয়া খবরের পর ভুয়া ওয়েবসাইট

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তনের অবসান ঘটিয়ে সব দল ও জোট নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেয়ার পর দেশবাসী যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে, ঠিক তখনই জাতীয় জীবনে গুরুতর অশনি সংকেত লক্ষ্য করা গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হওয়ার পরই কয়েকদিন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে থাকে বিভ্রান্তিকর ভুয়া সংবাদ। তবে এবারকার ভুয়া সংবাদ খুবই ভয়াবহ। কারণ, এতদিন অখ্যাত অনলাইন বা মিডিয়ার নামে ফেইক নিউজ ছড়ানো হলেও এবার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন মিডিয়ার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে হুবহু ডিজাইনে ছড়ানো হচ্ছে এসব সংবাদ।

এসব অস্বাভাবিক খবর দেখে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, প্রথম দেখায় মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। তারা ভুয়া খবর শনাক্ত করতে পারলেও সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টা বুঝতে পারছেন না। এভাবেই ছড়িয়ে যাচ্ছে উদ্দেশ্যপূর্ণ বিভ্রান্তির সংবাদ।

এসব ভুয়া ওয়েবসাইটের ভুয়া সংবাদে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। যারা ভুয়া খবরগুলো শেয়ার করছেন তারাও রাজনৈতিক মানসিকতায় তা ছড়াচ্ছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যাচ্ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরিণামদর্শী এক ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে কেউ কেউ।

Advertisement

আমরা মনে করি, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা জরুরি। কারণ, রাজনৈতিক জবাব রাজনীতির মধ্য দিয়েই দিতে হবে, মিথ্যাচারের মাধ্যমে নয়। অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি মিথ্যাচার শেষ পর্যন্ত অঘটন ছাড়া ভালো কিছু দিতে পারে না।

এখন পর্যন্ত বিবিসি বাংলা, দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলা ট্রিবিউনের নামে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট আমাদের নজরে এসেছে। এছাড়া দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে বলেও তারা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধীদের লাগাম না টানলে তারা আরও ভুয়া ওয়েবসাইট যে বানাবে না তার নিশ্চয়তা নেই।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোন লিংক, তথ্য বিশেষ করে রাজনৈতিক কোন খবর শেয়ার করার আগে কয়েকবার ভেবেচিন্তে তারপর শেয়ার করুন। শেয়ার করার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন, মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো কি এতদিন এমন অস্বাভাবিক বা রসালো কোন সংবাদ প্রকাশ করেছে?

এছাড়া দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলো আপনি যেকোন ভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি নিজেদের সংবাদ সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। এক্ষেত্রে সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে ফেইক ওয়েবসাইট ও ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে অপরাধীরা ব্যর্থ হবে বলেই আমরা মনে করি।

তবে এসব ওয়েবসাইট এবং ফেইক নিউজ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা চাই না একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেইক নিউজের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করুক।