চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিকেও নজর দেয়া জরুরি

করোনার প্রকোপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বড়-মাঝারি ব্যবসায়ীরা সরকারি নানা প্রণোদনা ও ব্যবসায়ীক কাঠামোর কারণে কিছুটা সামলে নিলেও ক্ষুদ্র বহু ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করাসহ পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু মারাত্মক হারে বাড়তে শুরু করেছে। যা গতবছরের সব রেকর্ডকে বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকার বাধ্য হয়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে, প্রাথমিকভাবে মাত্র ৭ দিনের জন্য এই লকডাউন হলেও তা বাড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। লকডাউন দীর্ঘ হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত, দোকানি, হকার, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

লকডাউনের এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না রাজধানীসহ দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সামনে পহেলা বৈশাখ তারপরে রমজান শেষে ঈদ, দেশের ভোক্তা ভিত্তিক অর্থনীতি এই সময় বা পর্বকে কেন্দ্র করে অনেকটাই পরিচালিত হয়। আর এইসব পর্বে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা লাভের মুখ দেখে সারাবছর ব্যবসার মনোবল পেয়ে থাকেন। গেলবছর তারা সেই সুযোগ একেবারেই পাননি। এবছরও একইসময়ে লকডাউন ঘোষণাতে তারা বেশ ক্ষুব্ধ। পথে নেমে এসেছেন তারা লকডাউনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ভেবে দেখার মতো।

গতবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দ্রুততার সঙ্গে গার্মেন্টসসহ বৃহত্তর শিল্পে প্রণোদনা-ঋণের সাহায্যে বড় দুযোর্গ মোকাবিলা করা গেছে। সরকার নগদ টাকা, কম সুদের ঋণসহ ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যার আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা, যা এখনও বাস্তবায়ন চলছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা কিনা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতেই ঋণের যোগ্য না বা মনিটরিংয়ে আসে না, তারা কিন্তু সাহায্য পায়নি বললেই চলে। দোকান-অফিস ভাড়া দেবার অর্থও তাদের কাছে ছিল না, অনেকে তাদের প্রতিষ্ঠানের মালামাল রেখেই চলে যেতে নয়তো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থার আলোকে বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের একান্ত দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন ও সুবিধা-অসুবিধা দ্রুত যাচাই করে সম্ভাব্য করণীয় ঠিক করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়নও করতে হবে এই করোনাকালে। তাহলেই হয়তো বড়-ছোট সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্রান্তিকাল পার হতে পারবে।