চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিকেট আর সঙ্গীতপ্রিয় বাংলাদেশী-ব্রিটিশ ছেলেটি জঙ্গি হয়ে ড্রোন হামলায় নিহত

ব্রিটিশ ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের একজনের একসময়ের জগত ছিলো ক্রিকেট আর সঙ্গীতকে ঘিরে। বড় হয়ে বার্মিংহামে যাওয়ার পর প্রথমে সে উদ্দাম রাতের জীবন বেছে নেয়। পরে আইএসের খাতায় নাম লিখিয়ে সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় মরতে হলো তাকে।

গত ২১ আগস্ট ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের ড্রোন হামলায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইএস জঙ্গি রুহুল আমিন ছাড়াও রিয়াদ খান নামে আরেক ব্রিটিশ আইএস সদস্য নিহত হয়। ২৪ আগস্ট মার্কিন সেনাদের হাতে নিহত হয় জুনায়েদ খান নামে তৃতীয় ব্রিটিশ আইএস সদস্য।

বিজ্ঞাপন

রুহুল আমিন ছাড়াও রিয়াদ খান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বলে সরকারিভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যেও তাদের নিয়ে চলছে আলোচনা।

বিজ্ঞাপন

ওই অভিযানে ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্স প্রথমবারের মতো নিজ দেশের আইএস জঙ্গিকে হত্যা করেছে।

সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পার্লামেন্টে এ বিষয়ে কথা বলার পর ব্রিটিশ মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি এই জঙ্গি হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ আইনের মধ্য থেকে হয়েছে বলে দাবি করেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বিষয়টির আইনগত ব্যাখ্যা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ক্যামেরন।

নিহত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের পরিকল্পনার অভিযোগ আছে। এ কারণেই জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে। শুধু স্থাপনা নয়, ব্রিটিশ সিংহাসনে দীর্ঘতম সময় অবস্থানের রেকর্ড করা রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিলো ওই জঙ্গিদের।

বিরোধীদলীয় ভারপ্রাপ্ত নেতা হ্যারিয়েট হারম্যান দুই জঙ্গি হত্যার আইনগত ব্যাখ্যা দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন একে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আইনজীবীদের পরামর্শ ছাড়া তিনি মন্তব্য করতে পারেন না বলে মত দেন। তবে ক্যামেরন বলেন, ‘ভবিষ্যতে হামলার সম্মুখীন হওয়ার আগেই আমরা দ্রুত হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলাম এবং সন্ত্রাসী আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।

‘সেক্ষেত্রে পার্লামেন্টে এ ধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত নই। ব্রিটিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।’

সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের বিষয়টি দু’বছর আগে পার্লামেন্টের বেশিরভাগ সদস্য ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করলেও গতবছরের সেপ্টেম্বরে ইরাকে আইএস স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলার অনুমতি দেয় ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। এমন বৈধতা নিয়েই রয়েল এয়ারফোর্সের গতমাসের ড্রোন হামলা।

রুহুল আমিন
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইএস জঙ্গি রুহুল আমিনের দেশের বাড়ি মৌলভিবাজার জেলায়। স্কটল্যান্ডের এবারডিনে লেখাপড়া করা রুহুল আমিনের পরিবার এবারডিন ছেড়ে পরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে চলে যায়।

ব্রিটিশ সরকারের সন্ত্রাসী তালিকায় ছিলো রুহুল আমিনের নাম। তার পাসপোর্ট নম্বরও তাদের কাছে ছিলো।

বাল্যবন্ধু স্টিফেন মার্ভিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রুহুল আমিনের কোনো মৃত্যুভয় ছিলো না। ছোটবেলায় সে অন্যরকম থাকলেও গত এক/দেড় বছরে রোপুরি পাল্টে যায়।

সিরিয়ায় চলে যাওয়ার পর প্রথম যখন আমিন মার্ভিনকে ফোন করে তখন মার্ভিন গুলির শব্দ শুনতে পান। রুহুল আমিন সে সময় জানায়, সে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আছে।

২০১৪ সালের জুন মাসে সিরিয়া থেকে ইন্টারনেটে আপলোড করা এক ভিডিওতেও রুহুল আমিনকে দেখা যায়।

ছোটবেলায় আমিন ক্রিকেট এবং গান খুব ভালোবাসতো। তবে বড় হয়ে তার হরদম যাতায়াত ছিলো নাইট ক্লাবে। বার্মিংহাম যাওয়ার পরই এরকম পরিবর্তন হয় বলে তার কয়েক বন্ধু জানিয়েছে।

২৬ বছর বয়সী রুহুল আমিন গত বছর সিরিয়া ও ইরাকে চলমান যুদ্ধে ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এন্ড গ্রেটার সিরিয়া’র (আইসিস) জিহাদীদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে ব্রিটিশ মুসলিম তরুণদের আহবান জানিয়েছিলো। আইটিভি’র গুড মর্নিং ব্রিটেন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারও প্রচারিত হয়েছিলো তার।

অনুষ্ঠানে রুহুল আমিন জানায়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার আইসিস-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগদান।

ব্রিটেনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর দিয়ে জিহাদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য ছেড়েছিলো রুহুল আমিন। তবে সে কোন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলো সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তার মৃত্যু সম্পর্কে পরিবারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Bellow Post-Green View