চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কামারুজ্জামান: আটক থেকে ফাঁসি

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কুখ্যাত গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠক মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার(রিভিউ) আবেদন সোমবার খারিজ হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের।

কামারুজ্জামানের আটক থেকে শুরু করে আজ তার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ার মধ্যে ঘটনা প্রবাহ দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে চলমান। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এ প্রক্রিয়া।

২০১০ সালের ১৩ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন কামারুজ্জামান। রাজধানীর পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওই বছরেরই ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করেন। ২ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

Advertisement

একাত্তরে সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ও খালাস চেয়ে ৬ জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি।

২০১৪ সালের ৫ জুন থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ হয়। ওই দিন আপিল বিভাগ রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ফাঁসির ওই আদেশ বহাল রাখেন।

এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে কারাগারে পাঠালে সেখানে বন্দী কামারুজ্জামানকে তা পড়ে শোনানো হয়।

৫ মার্চ ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। নানা অজুহাতে শুনানি পেছানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিলে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়।