চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাধীনতা ঘোষণায় স্পেনের কঠোর অবস্থান, কাতালোনিয়ার সংসদ বিলুপ্ত

কাতালোনিয়া স্পেন থেকে নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় কাতালোনিয়ার সংসদ ভেঙে দিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাতালোনিয়াতে ‘স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে’ কেন্দ্রের এই হস্তক্ষেপ জরুরি।

শুক্রবার স্বায়াত্ত্বশাসিত অঞ্চলটির সংসদে ১৩৫ জন সদস্যের সংসদে উপস্থিতদের মধ্যে ৭০টি ভোট স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। আর ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন দুইজন। এদিন বিরোধী দলের এমপিরা ভোট বয়কটও করেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই কাতালোনিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন জারি করে স্পেন সরকার। এর ঘণ্টাখানেকের কম সময়ের মধ্যেই মাদ্রিদে স্প্যানিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ সিনেটে কাতালোনিয়াকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব পাস করে।

সংসদ বিলুপ্ত করে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করাসহ তাৎক্ষণিক আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয় স্পেন। কাতালোনিয়ার নেতা কার্লোস পুয়েগদেমন এবং তাঁর অন্যান্য সাংসদদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে কাতালান আঞ্চলিক পুলিশ প্রধানকেও। কাতালান জনগণকেও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী।

Mariano Rajoy, the leader of the Spanish People's Party (PP) and acting Prime Minister

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানা রাহয় বলেছেন, এই সময়ে আমাদের এখন শান্ত ও বিচক্ষণ থাকতে হবে, এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতার উপরেও আস্থা রাখতে হবে। সমাজে যে হুমকিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের আইন ও যুক্তি দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়েই তা মোকাবেলা করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু স্বাধীনতার দাবীতে বার্সেলোনার প্রধান সড়কগুলোতে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্লোগানে মুখরিত চারদিক। আর গান গেয়ে সম্মিলিত এইসব মানুষকে উদ্দীপ্ত করছে স্থানীয় গানের দল।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়েছে। স্পেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে জার্মানি, ফ্রান্স।

ব্রিটেন বলেছে, স্পেনের অখণ্ডতা অটুট থাকুক এবং তাদের সংবিধান সমুন্নত থাকুক এটি তাদের প্রত্যাশা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কাতালোনিয়া স্পেনের অখণ্ড অংশ।

বড় কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের কোনো স্বীকৃতি বা সমর্থন না পেলেও স্বাধীনতার দাবীতে অনড় রয়েছে কাতালোনিয়া বিরাট একটি অংশ।

কাতালোনিয়া কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতার প্রশ্নে ১ অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে। স্পেন সরকার ওই গণভোটকে বেআইনি বলে আখ্যা দেয়। এই গণভোটে অংশ নেয় কাতালোনিয়ার ৪৩ শতাংশ ভোটার। স্বাধীনতার পক্ষে ভোট পরে ৯০ শতাংশ।

এরপর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তৈরি করে সেটিতে স্বাক্ষর করেন কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকামী নেতা কার্লোস পুয়েগদেমন। সেই ঘোষণারই বিলম্বিত বাস্তবায়ন হলো সর্বশেষ এই স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে।

স্পেনের বিত্তশালী অঞ্চল কাতালোনিয়া। জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। অঞ্চলটির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পাঁচ বছর ধরেই অঞ্চলটির স্বাধীনতার কথা উঠছে। তবে ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা।

Bellow Post-Green View