চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা যাবে না: সুপ্রিম কোর্ট

এটা গণতন্ত্রের জয়: মমতা ব্যানার্জি

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় কলকাতা রাজ্য ‍পুলিশ কমিশনার রাজিব কুমারকে আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

তবে আপাতত গ্রেপ্তার করা না গেলেও সারদা ও রোজ ভ্যালি অর্থ জালিয়াতি মামলার তদন্তে সিবিআইকে সব ধরনের সাহায্য করতে হবে রাজিবকে। শিলংয়ে গিয়ে সিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে সব তথ্যও দিতে হবে তাকে।

অর্থ জালিয়াতি কেলেংকারিতে রাজিব কুমার ‘সম্ভাব্য অভিযুক্তদের একজন’ দাবি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের করা অভিযোগের শুনানিতে মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, ‘এটি দেশের সাধারণ মানুষের জয়। এই রায়কে আমি স্বাগত জানাই। এটা গণতন্ত্রের জয়।’

রোববার বিকেলে। সিবিআইয়ের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের অধীনে থাকা চাঞ্চল্যকর সারদা ও রোজ ভ্যালি দুর্নীতি মামলা বিষয়ে কথা বলতে আগে থেকে না জানিয়েই তার বাসায় যান।

পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে গেলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ বাধা দেয় সিবিআই কর্মকর্তাদের। একপর্যায়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এরপরই সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দপ্তর ঘেরাও করে পুলিশ।

খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ছুটে যান পুলিশ কমিশনারের বাসভবনে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নেতুত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকও হয়। তারপরই বেরিয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্নায় বসার ঘোষণা দেন মমতা।

Advertisement

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের অভিযোগ তোলেন মমতা। প্রতিবাদে মেট্রো চ্যানেলে রোববার রাত ২টার পর থেকেই অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন তিনি। রোববার রাত থেকেই মেট্রো চ্যানেলে ‘নরেন্দ্র মোদি চোর হ্যায়’, ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ এমন নানা ধরনের স্লোগান শোনা যেতে থাকে।

এ ঘটনায় দায়ের অভিযোগে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানান, যেন রাজিব কুমারকে সারদা ও রোজ ভ্যালি অর্থ জালিয়াতি মামলার যত প্রমাণ আছে সবগুলো সমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। কেননা সরকার পক্ষের আশঙ্কা, রাজিব যে কোনো সময় তার দায়িত্বে থাকা ইলেকট্রনিক প্রমাণটি নষ্ট করে ফেলতে পারেন।ভারত-কলকাতা পুলিশ-সিবিআই-গ্রেপ্তার

প্রাথমিক শুনানিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, সিবিআই যদি প্রমাণ করতে পারে রাজিব কুমার তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করেছেন তাহলে আদালত এমন ব্যবস্থা নেবেন যে তাকে নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারের পিটিশন গ্রহণ করে মঙ্গলবার শুনানির তারিখ দিয়েছিলেন।

এর আগে সিবিআই’র যুগ্ম-পরিচালক পঙ্কজ শ্রীবাস্তব সংবাদ সংস্থা পিটিআই’কে বলেন, তারা রাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে বা রাজিব তদন্তে সাহায্য না করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতো।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কলকাতার একজন পুলিশ কমিশনারকে সিবিআই জেরা করতেই পারে না। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (অপরাধ) প্রবীণ ত্রিপাঠী জানান, সিবিআই’র কর্মকর্তারা কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি বলেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ত্রিপাঠীর দাবি, ওই কর্মকর্তারা বলেছিলেন তারা একটি গোপন কাজ করতে এসেছেন। সেই কাজটি কী তাও বলতে পারেননি বলেই তাদের আটক করা হয়েছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা।