চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা মোকাবেলায় ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত হলো নয়টি বেসরকারি ব্যাংক

করোনা মোকাবেলায় ব্র্যাকের উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের নয়টি বেসরকারি ব্যাংক।

সারাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি, এর সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা প্রদানে এসব ব্যাংকের অনুদানের প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলায়। তারা এ বাবদ মোট ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৮ টাকা অনুদান দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘করপোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকগুলো ব্র্যাকের ‘ডাকছে আবার দেশ’ এবং ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এই দুইটি কার্যক্রমে যোগদান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করে।

এই ডাকে সাড়া দিয়ে ব্র্যাকের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক। এই নয়টি ব্যাংক থেকে প্রতিশ্রুত টাকা থেকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগের অধীনে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা যা দিয়ে ৭২ হাজার ১৬০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বাকি অর্থ দিয়ে ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং অন্যান্য করোনা প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণের পাশাপাশি এই রোগের লক্ষণযুক্ত দশ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। নয়টি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, “এই নয়টি ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া সময়োপযোগী সহযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাই। সমন্বিত এই অনুদান ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া উদ্যোগ- করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূর্গ এবং ডাকছে আবার দেশ- এ কাজে লাগানো হবে। উদ্যোগ দুটির মূল কার্যক্রম হলো- মাস্ক বিতরণ এবং মেডিক্যাল সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে রিসিলিয়েন্স গঠন এবং লকডাউনের কারনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা পরিবারগুলোতে জরুরী আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। আমি আশা করি, এই সহায়তা বেসরকারি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কঠিন সময়ে একসাথে কাজ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এগিয়ে আসার প্রয়াসকে আরো বেগবান করবে।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি জেলায় কমিউনিটিকে সংযুক্তিকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচারণা এবং ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভুল তথ্য ও গুজব নিরসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগটির মাধ্যমে প্রথম দফায় করোনার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলায় ৫০ হাজার পরিবারে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাক। প্রাথমিক সহায়তার এই তহবিল গঠিত হয়েছে ব্র্যাকের কর্মীদের একদিনের বেতন অনুদান এবং এর সঙ্গে ব্র্যাকের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান মিলিয়ে।