চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় যে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে

করোনাভাইরাস মহামারি বাড়ার সাথে সাথে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরা ধ্বংসের সম্মূখীন হয়েছেন। তবে এই সময়ে কয়েকটি পণ্যর চাহিদা খুব বেড়েছে।

বাড়িতে আটকে থাকায়, তাদের মন এবং দেহকে সক্রিয় রাখতে তারা ভাল খাওয়া এবং সতেজ রাখতে নানা উপায় অবলম্বন করছে। ফলে মানুষের কেনা কাটায় এসেছে ভিন্নতা। যার প্রভাব পড়েছে বাজার ব্যবস্থার উপর। বেড়েছে কয়েকটি পণ্যর চাহিদা।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি জানিয়েছে, করোনার প্রভাবে মোট ছয়টি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাইসাইকেল
ব্যায়ামের জন্য হোক বা ভ্রমণের নিরাপদ উপকরণের জন্য বাইসাইকেলের বিক্রি বেড়েছে। ফোলডিং বাইসাইকেল কোম্পানির নির্বাহী প্রধান উইল বাটলার-অ্যাডামস বলেন: মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরার ভাবনা থেকেই বাইসাইকেল কিনছে। আমার ধারণা, যুক্তরাজ্যে এই বাইসাইকেলের বিক্রি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে লন্ডন সাইকেল ওয়ার্কশপটি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যস্ত, গণপরিবহন এড়াতে বা গ্রাহকরা পুরানো বাইসাইকেল মেরামত করছে।

খুচরা বিক্রেতা হাফর্ডস বলেন: মানুষ এখনও বাইরে যেতে পারছে না তারা বাড়ির অভ্যন্তরে অনুশীলন করতে বাইসাইকেল কিনছে। এজন্য অনুশীলন বাইকের বিক্রয় বৃদ্ধি হয়েছে।

মিন্টেলের বাজার গবেষণা থেকে টবি ক্লার্ক বলেছেন, হোম ব্যায়াম সরঞ্জামের সত্যিকারের বিক্রয় বেড়েছে কারণ মানুষ এখন জিমে যেতে পারছে না। তাই এই সময়টা বাসায় দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আউটডোর এবং ইনডোর গেমস
গেমস সরবরাহকারী অ্যান্ডি ব্রেসফোর্ড বলেন: আউটডোর টেবিল টেনিস টেবিলের পুরো স্টক বিক্রি হয়েছে এবং এই সপ্তাহে কিছু অগ্রিম বিক্রির অর্ডার আছে।

আমি গত সপ্তাহে ১২৪টি টেবিল বিক্রি করেছি, গত বছর একই সপ্তাহে আমি মাত্র ১৫টি বিক্রি করেছিলাম।

বাড়ির বাগান আইটেম
জাস্টসিডের ফিল জোন্স বলেন: বাড়ির আঙ্গিনায় ফলানো উদ্ভিদের বীজ বিক্রি বেড়েছে। গাজর, লেটুস, মটরশুটি এবং টমেটোর চাহিদা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বড় দু’টি বীজ কোম্পানি মার্শালস এবং সুতানস ফোনের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

আরেক খুচরা বিক্রেতা ফ্রাঞ্চি বীজ লোকজনের আতঙ্কে বাড়তি ক্রয় করার ফলে তাদের ওয়েবসাইটটি অস্থায়ীভাবে ডাউন করে দিয়েছে।

পড়ার বিষয়
মানুষের কাছে এই মুহূর্তে জনপ্রিয় আরেকটি বিষয় হলো একটি ভাল বই। সম্ভবত আশ্চর্যজনকভাবে, মহামারিগুলোর কাল্পনিক বইয়ের খুব চাহিদা বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের অ্যামাজনে সপ্তাহের সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিন কোন্টজের ‘দ্য আইজ অফ ডার্কনেস’ বইটি। যদিও এটি ১৯৮১ সালে লেখা হয়েছিল। বইটিতে উহান-৪০০ নামক একটি ভাইরাসের বর্ণনা রয়েছে, যা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে একটি অস্বাভাবিক ভবিষ্যদ্বাণী বলে মনে করা হয়।

আরেকটি উপন্যাস যা ভাল বিক্রি হচ্ছে, ফরাসী লেখক অ্যালবার্ট ক্যামাসের প্লেগ। যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন বলেছে: ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এর বিক্রি গত বছরের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি ছিল এবং বইটি পুনরায় মুদ্রণ করা হচ্ছে। ফ্রান্স ও ইটালিতেও এর বিক্রি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইলেকট্রিক পণ্য
সুপার মার্কেটের মালিকরা বলেছেন: মজুদ সংগ্রহের ভিড় শুরু হওয়ার আগে বাড়িতে সম্মিলিতভাবে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি খাবার মজুদ করা হয়েছে।

খাবারগুলো সংরক্ষণ করার জন্য ফ্রিজের কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাসায় কাজ করার জন্য ল্যাপটপের পাশাপাশি অফিসের সরঞ্জামগু কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়িতে কাজের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টিভি, গেমিং কনসোল এবং হোম লাইভিং ফ্রিজ, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেস বিক্রয় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

কফি
কফির চাহিদা দ্বিগুণ হওয়ার কারণে এটি মোকাবেলায় আরও কর্মী নিয়েছে কফি বিক্রির প্রতিষ্ঠান রেভ কফি।

ব্যবসা পরিচালনা কারী ভিকি বলেন: মানুষ তাদের অফিসে সরবরাহের জন্য আমাদের কফি কিনতো, এখন তারা ঘরে বসে এটা নিচ্ছে।

একটি অনলাইন কফি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেছেন: আমরা বড়দিনের মতোই ব্যস্ত, আমরা দ্বিগুণ বিক্রি করছি।