চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার ১ বছর, ভয়াবহতায় ছাড়িয়েছে সব মহামারীকে

বাবার লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে সন্তান। দীর্ঘ বছরের জীবনসঙ্গীও সাথে থাকতে ভয়ে কাঁপছে। মরদেহ পড়ে রয়েছে শেষকৃত্যের জন্য অথচ অংশ নেওয়ার কেউ নেই- এমন আরও কতশত ঘটনা, দৃশ্য আর বাস্তবতার সাক্ষী মানুষ। উপলক্ষ্য নতুন এক ভাইরাস- করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। আজ তার জন্মদিন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর চীনের উহান শহরে মানুষের শরীরে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয় ভাইরাসটি। সেই হিসাবে আজ এক বছর পূর্ণ হলো। এই সময়ের মধ্যে মহামারীতে রূপ নেওয়া করোনা কেড়ে নিয়েছে নিয়েছে ১৩ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ। সেরে উঠেও শরীরে নানান জটিলতা নিয়ে চলছে কোটি মানুষ। এখনও ধুঁকছে অসংখ্য ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

এই দিনটি সামনে রেখে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- শতবছর আগে স্প্যানিশ ফ্লু মহামরী মানবজাতির জন্য যে ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছিলো; ভয়াবহতা এবং ব্যাপকতায় তাকেও হার মানিয়েছে করোনা।

যদিও ১৯১৮ সালে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া স্প্যানিশ ফ্লুতে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো। তৎকলীন বিশ্বের এক চতুর্থাংশ মানুষের মৃত্যু হয় সেই মহামারীতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি- সংক্রমণের হার, স্থায়ীত্ব, আর্থ-সামাজিক প্রভাবসহ সব রকম ব্যাপকতায় স্প্যানিশ ফ্লুকে পেছনে ফেলেছে করোনাভাইরাস।

বিজ্ঞাপন

গত বছর এই দিনে করোনা ছড়িয়ে পড়লেও জানুয়ারিতে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকে উহানের। সংক্রমণ রুখতে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরকে তালাবন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। তারপরও চীনে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত বলে খবর এসেছে। যার সিংহভাগই উহানের। দেশটি মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ হাজার মানুষের।

শুরুর ধাক্কা সামলে ৭৬ দিন পর উহানের লকডাউন খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ততোদিনে চীন ছেড়ে ইউরোপ-আমেরিকায় ধ্বংসলীলা শুরু করে করোনা।

করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯০টি দেশে ৫ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করেছে আর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৯ জন মানুষের।

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৪ জন এবং মারা গেছেন ৬ হাজার ২৫৪ জন।