চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: সমন্বয়হীনতায় ভয়াবহ সঙ্কট

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকেই আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র সীমাহীন উদাসীনতা ও অযোগ্যতা প্রদর্শন করে আসছে। সচেতন মহলের সব ধরনের সতর্ক বার্তা, পরামর্শ পায়ে দলে একগুঁয়েমি করে একের পর এক ভুল পথে এগুতে থাকার ফলে সংকট বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞাপন

চীনে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভিজ্ঞ মহল সরকারকে ভাইরাস যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে এ ব্যাপারে নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলে আসলেও এক্ষেত্রে মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বর ছাড়া দৃশ্যমান কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। ওই সময় যদি বিমানবন্দরগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যেত বা আগত যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হতো, তাহলে আজকের এই অবস্থা সৃষ্টি হতো না। ভিয়েতনামই তার বড় উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস দেশে প্রবেশ করার পর প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার সময় থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বড়ই অভাব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে করোনা সংকটকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে দেশের সব মহলের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত জাতীয় মহা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া মেলেনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বাম গণতান্ত্রিক জোটের অপর দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি সর্বদলীয় পরামর্শ সভার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু, দুঃখজনক হলো এই সভাটিকে নিয়েও মন্ত্রীদের তামাশা করতে দেখা গেছে।
সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো কিন্তু গণ পরিবহন চালু থাকায় ঢাকা থেকে লাখো মানুষ গাদাগাদি করে গ্রামে ফিরলেন। এভাবেই পুরো দেশের মানুষকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হল। এর মধ্যেই আবার শ্রমজীবী মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে এসে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করা হলো।

বিজ্ঞাপন

পুরো বিষয়টির মধ্য দিয়ে সরকারের সমন্বয়হীনতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। কর্মহীন মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিতে সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ফল স্বরূপ লক ডাউন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের পরামর্শ ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে সেনা বাহিনীর সহায়তায় রেশন কার্ড প্রস্তুত করে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পরিবার প্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী রেশন মূল্যে সরবরাহ করার। এমন আরও অনেক কিছু করা যেত। কিন্তু, সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হতে থাকে।
এর মধ্যেই আবার কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। যদিও কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে বুঝানোর চেষ্টা হচ্ছে যথেষ্ট সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখা হবে। তাদের এই কথায় আশ্বস্ত হওয়ার মত কোন কারণ কি আছে? আমাদের নিকট অতীতের অভিজ্ঞতা বলে এদেশের পুঁজিপতিরা এমনকি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আছে তাও ধারণ করেন না। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে রানা প্লাজা ধ্বস, তাজরিন অগ্নিকাণ্ডসহ অসংখ্য ঘটনা। দেশের চরম এই সংকটের সময়েও বহু শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। লক ডাউন চলাকালীন অনেক কারখানা শ্রমিক করোনা ঝুঁকি নিয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে মালিকদের কথায় আশ্বস্ত হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই।
আমরা মনে করি, পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচিত দেশের সব মহলকে যুক্ত করে বিশেষ করে রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত মহা পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা । এই কাজে যথেষ্ট সময় ক্ষেপণ করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে করোনা সংকট মোকাবেলায় এর কোন বিকল্প নেই।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)