চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে পশুর হাট বসানো হবে আত্মঘাতী’

অনলাইনে কোরবানীর পশু বিক্রিতে উৎসাহ দেওয়ার তাগিদ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গবাদি পশুর হাট বসালে তা আত্মঘাতী হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তারা বলছেন: সরকারের উচিত হবে অনলাইনে পশু বিক্রিতে উৎসাহিত করা।

দেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান, খামারিরা করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে বেচাকেনা করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পশুর হাট কেন্দ্রিক আলাদা একটা চিন্তা করে তারা পরিকল্পনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এরমধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বছর ঈদুল আযহায় রাজধানীসহ সারা দেশে কুরবানীর পশুরহাট বসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২০ উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিতকল্পে প্রস্তুতি পর্যালোচনা নিয়ে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে অনলাইন সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী একথা বলেন। তিনি জানান: এ বিষয়ে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাট বসানো চ্যালেঞ্জ, পাশাপাশি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
করোনা সংক্রমণের মধ্যে জনবহুল দেশে পশুর হাট বসানোটা চ্যালেঞ্জ এবং এমন সিদ্ধান্তটা পুরোটাই আত্মঘাতী হতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: করোনা সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে করে ঈদুল আযহার মধ্যে পশুর হাট বসানোটা খুবই চ্যালেঞ্জ হবে। পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বিপুল একটা কর্মযজ্ঞ হয় ফলে এ জায়গায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে পবিত্র হজে সৌদি ছাড়া অন্য কোনো দেশের মানুষ অংশ নিতে পারছে না, সেখানে কোরবানির পশুর হাট কিভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে করা যাবে সে ব্যাপারে সংশয় রয়েই যায়। এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ডা. এম ইকবাল আর্সলান

ডা. এম এ আজিজের সঙ্গে সহমত পোষণ করে করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: করোনা সংক্রমণের মধ্যে পশুর হাট বসালে সেখানে মোটেও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন: করোনা সংক্রমণের মধ্যে, হাট বসলে তা হবে আত্মঘাতী। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা মোটেই সম্ভব নয়, বরং উল্টো ঝুঁকির সম্ভাবনাই বেশি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রির তাগিদ 
করোনা পরিস্থিতিতে পশুর হাট না বসিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন: বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে জুম ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং হচ্ছে, ভার্চ্যুয়াল আদালত হচ্ছে, তবে অনলাইনে কেনো গবাদিপশু বেচাকেনা হবে না। এছাড়া নিয়ন্ত্রিত আকারে, হাটে পরিবারের পক্ষে একজন, কিংবা পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কতোটা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে সেটা বলা মুশকিল।

ডা. এম এ আজিজ

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন: ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক চাকা সচল করার জন্য স্থানীয় সরকারের উচিত গবাদি পশু কিনে অনলাইনে বিক্রি করা।

অনলাইনে পশু কেনায় ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে
করোনা সংক্রমণের কারণে কোরবানীর পশু কেনায় ক্রেতাদের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ই-কর্মাসের উদ্যোক্তারা।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহায়েদ তমাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: করোনার কারণে এবার পশু কেনায় চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পাবে, বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। ঈদের একদিন বা দুই দিন আগে একটা সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা যাবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রক্রিয়াজাত মাংসের ব্র্যান্ড বেঙ্গল মিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আ ফ ম আসিফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: প্রতি বছর পশু অনলাইনে পশু বিক্রি করলেও এবার করোনা পরিস্থিতি জন্য সার্বিক অবস্থা ভিন্ন। তবে আমাদের বাছাই করা কিছু গরু সরবরাহকারী আছেন, গরু পালনের স্বাস্থ্যগত ও নিরাপদ পদ্ধতি সম্পর্কে যাদের আমরা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেই। অনলাইনের গ্রাহকদের জন্য এবারো আমরা সুস্বাস্থ্যের পশু সরবরাহ করতে পারব।

পশুর হাটের জন্য আলাদা পরিকল্পনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে এবার কোরবানির পশুর হাট ঢাকা দক্ষিণে ১৪টি এবং উত্তরে ১০টি হাট বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কোরবানির পশুর হাট ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে।

কিন্তু সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কেউই হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা সম্পর্কে এখনো কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ রোগ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. শাহনিলা ফেরদৌস বলেন: পশুর হাট যেহেতু খোলা জায়গায় অস্থায়ী একটি ব্যবস্থা, সেটার জন্য আমরা আলাদা করে চিন্তা করে একটা পরিকল্পনা করবো।

চট্টগ্রামে তিনটি হাট নিয়ে পুলিশের আপত্তি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনটি পশুর হাট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় ও সড়কের পাশের এসব হাটের কারণে সামাজিক দূরত্ব ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার নগর উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো.আব্দুল ওয়ারিশ খান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আপত্তি তুলে এসব অস্থায়ী হাটের অনুমতি না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এবার সাতটি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে।

হাটগুলো হচ্ছে: সল্টগোলা রেলক্রসিং, স্টিলমিল, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, নূরনগর হাউজিং, কমল মহাজন হাট, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে টিকে গ্রুপের মাঠ এবং বড়পোল মাঠ।

এর মধ্যে স্টিল মিল, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং বড়পোলে বন্দর কর্তৃপক্ষের খালি জায়গায় পশুর হাট বসানো নিয়ে সিএমপির আপত্তি আছে।