চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: রাঙ্গামাটিতে ‘স্বেচ্ছা লকডাউনে’ ১২টি গ্রাম

রাঙ্গামাটিতে অন্তত ১২টি পাহাড়ি গ্রামে স্থানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে পুরো এলাকাকে লকডাউন করেছে। কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না এবং বের হতেও দেয়া হচ্ছে না।

করোনা প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত ছুটিতে গ্রাম প্রধান বা কার্বারীরা এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে নিজেদের গ্রামকে করোনা থেকে রক্ষা করতে পুরো গ্রামকেই নিজ উদ্যোগে লকডাউন ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ক্লাব প্রধান বা কার্বারীরা বলছেন, বিশ্বে যেভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে তাতে গ্রাম বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি শহরে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে লকডাউন করা এলাকাগুলোর মধ্যে বনরূপা এলাকার কাটাপাহাড় (পোড়া ভিটা), পশ্চিম ট্রাইবেল আদাম, বিজয়নগর (ভালেদী আদাম), কেকে রায় সড়ক, কল্যাণপুর, আসামবস্তির লেবুছড়ি, রিজার্ভ বাজারের নাপ্পিঘাট, গর্জনতলী, বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যম বাঘাইছড়ি উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি শহরের ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকা গর্জনতলী পাড়ার বলাকা ক্লাবের সভাপতি ঝিনুক ত্রিপুরা বলেন, বিশ্বব্যাপী যেভাবে করোন মহামারী আকার ধারণ করেছে আমরা যদি একে অপরের সংস্পর্শে না আসি, তবে আশাকরি এ ভাইরাসটি আক্রমন করতে পারবেনা। সে কারণেই আমরা নিজস্ব উদ্যোগে করোনা থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর সাথে আলাপ আলোচনা করে পুরো গ্রামকে লকডাউন ঘোষণা করেছি।

এ দিকে রাঙ্গামাটি শহরের গ্রাম বা পাড়া লকডাউনের কারণে সব ধরনের যানবাহন ও বাইরের লোকজন পাড়ায় প্রবেশ করতে পারছে না। বাইরের লোকজন পাড়ায় ঢুকতে হলে ব্যারিকেড দেওয়া স্থানে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পাহাড়ী বিভিন্ন গ্রামে নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছায় লকডাউনকৃত এলাকা কাটাপাহাড় ও বিজয়নগর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের ছুটি ঘোষণার পর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ও নিজেদের সুরক্ষা রাখতে, বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে এলাকা লকডাউন করেছেন। পাশাপাশি অনেকে পাহারাও দিচ্ছেন। অচেনা লোকজন দেখলে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে নিজেদের সচেতন হতে হবে। নিজেদের রক্ষা করতে পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকাবাসীর স্বেচ্ছায় লকডাউনের বিষয়টিকে সচেতনতার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। করোন প্রতিরোধে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা মেনে চলার জন্য তিনি সকলকে আহবান জানান।

তবে করোনা প্রতিরোধে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত গ্রাম প্রধানদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলেই। সকলের সচেতনতার মাধ্যমে করোনামুক্ত হবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

রাঙ্গামাটি জেলায় মোট ১৮২জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার মধ্যে ৯০ জনকে ইতিমধ্যে ছাড়পত্র দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে আরো ৯২জন।