চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: নতুন শনাক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনই ঢাকার

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৮ জনের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। নতুন এই ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্তের মধ্যে ১২ জনই রাজধানী ঢাকার বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিফ্রিংয়ে এসব কথা জানান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন তারা  ১১-২০ বয়সের ১ জন, ৩১-৪০ বয়সের ২ জন, ৪২-৫০ বয়সের ৪ জন, সর্বোচ্চ সংখ্যায় রয়েছেন ৫১ থেকে ৬০ বয়সের মধ্যে তাদের সংখ্যা ৯ জন। এছাড়াও রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব ২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ জন এবং মহিলা ৩ জন।

বিজ্ঞাপন

১৮ জনের মধ্যে ১২জনই রাজধানী ঢাকার। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে ৫ জন ও মাদারীপুরে ১ জন।  নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১১জন।১৮ জনের মধ্যে সকলেই আমাদের যে এলাকা ভিত্তিক ক্লাস্টার ছিল সেখান থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।

সারাদেশে আমাদের ৫টি ক্লাস্টার আছে জানিয়ে তিনি বলেন: রাজধানী ঢাকায় দুটি ক্লাস্টার (বাসাবো ও মিরপুর-১ এর টোলারবাগ), নারায়ণগঞ্জে ১টি, মাদারিপুরে ১টি এবং গাইবান্ধায় ১টি ক্লাস্টার রয়েছে।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন: ঢাকার বাসাবো এলাকায় এখন পর্যন্ত ৯জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। টোলারবাগ মিরপুরে ৬জন এবং বৃহত্তর মিরপুরে আরও ৫জনসহ মোট ১১জন শনাক্ত হয়েছেন।

‘এলাকাগুলোতে আমরা অনেক দিন থেকেই নজরদারির ভেতর রেখেছিলাম, আমরা আরো সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

‘এ দুটি এলাকায় শুধুমাত্র রোগী নয়, যারা রোগীর সংস্পর্শে এসেছে বা আসার সম্ভাবনা ছিল এবং যাদের মধ্যে মৃদু লক্ষণ, উপসর্গ দেখেছি তাদের শনাক্ত করে আমরা নমুনা পরীক্ষা করছি, যাতে করে রোগটি সেখান থেকে ছড়িয়ে না পড়ে।’

‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল রোগী শনাক্ত করে দ্রুত আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া।, আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েই চলছি।’

সারা বাংলাদেশে ১৪ কেন্দ্রে মাধ্যমে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন: বর্তমানে  সংক্রমণ আছে ৪৬ জনের, যার মধ্যে ৩২ জনের হাসপাতালে থেকে এবং ১৪ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

‘যারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সকলের লক্ষণ ও উপসর্গ মৃদু, তাদের আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

বাড়িতে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা কেমন আছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাদের ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর বা মৃদু জ্বর রয়েছে কিন্তু কোন প্রকার শ্বাস কষ্ট নেই, তাদেরকে আমরা বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। যেটার দিক নির্দেশনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিয়ে থাকে।’

‘আমাদের বেশ কিছু গাইডলাইন তৈরি করা আছে, যার মধ্যে একটি হোম কেয়ার ম্যানেজমেন্ট। বাড়ি থেকে কেউ চিকিৎসা নিলে এই হোম কেয়ার ম্যানেজমেন্ট থেকেই আমরা গাইডলাইন নিয়ে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করি।’

‘এদের বিশেষ কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, তাদের আমরা হোম আইসোলেশনে রাখি, তারা একটি ঘরের মধ্যেই থাকে। এবং যখন আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে তিনি একটি ঘরেই থাকবে, বের হবেন না, অন্য কোথাও যাবেন না, আমাদের নিয়ম মেনে সে সেবা শুশ্রুষা নিবেন তখনই আমরা তাকে বাড়ি থেকে চিকিৎসা দেই। ইতিমধ্যে বাড়িতে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রোগী সুস্থ হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইইডিসিআরের একটি প্রশিক্ষিত টিম সবর্দা তাদের খোঁজ খবর রাখে।’

কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের বিষয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন: কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আছে, সেগুলো ক্লাস্টার ভিত্তিতে আছে, সুতরাং সেখান থেকে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। তবে পরামর্শ থাকবে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। যদি সেটা না করা যায়, তাহলে কিন্তু ক্লাস্টার ভিত্তিতে যে ট্রান্সমিশন আছে সেটা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর পর ১৮ মার্চ কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর।

২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো সংস্থাটি জানায় যে, বাংলাদেশে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত  কমপক্ষে সাড়ে ১২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৬৫ হাজার জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।