চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে নতুন ৪ জেলায় সংক্রমণ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে করোনাভাইরাসে শনাক্ত সংক্রমিতরা গত এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৪টি জেলাকে কোভিড-১৯ এ নতুন করে শনাক্তের তালিকা ফেলেছে।  এ নতুন সংযোজিত জেলাগুলো হলো লক্ষ্মীপুর, লালমনিহাট, ঠাকুরগাঁও এবং ঝালকাঠি।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে এসব তথ্য দেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশে মোট যে ৬২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৫০ শতাংশ এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ৩৫ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের।

বিজ্ঞাপন

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন করে চারটি জেলা কোভিড-১৯ এ সংযোজিত হয়েছে। জেলাগুলো হলো লক্ষ্মীপুর, লালমনিহাট, ঠাকুরগাঁও এবং ঝালকাঠি। এই চারটি জেলাতেই আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি যাদের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে, তারা গত এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা থেকে অথবা নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই সমস্ত এলাকাগুলোতে গিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলছি আপনারা বাড়িতে থাকুন, এই সময়ে কোনো প্রকার ভ্রমণ করবেন না। বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন।

বিজ্ঞাপন

এরআগে ডা. ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ২৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।  এতে ১৩৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৬২১। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার জন মারা গেছেন।  ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৪ জনে। নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী।  তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুজন, ৬০ বছর বয়সী একজন এবং সত্তরোর্ধ্ব একজন রয়েছেন।  চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকায় এবং দুজন ঢাকার বাইরে মারা যান।

এছাড়া যারা আগে থেকে আক্রান্ত, তাদের মধ্যে আরও তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৯ জন। নতুন যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। সুস্থ হয়ে ওঠা তিনজনের একজন চিকিৎসক। তিনি রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শনাক্তের শতকরা ২৫ ভাগ হচ্ছে বয়স বিভাজনে ৩১-৪০ বছরের মধ্যে। এরপরে রয়েছে ২১-৩০ বছরের যারা শতকরা ২১ ভাগ শনাক্ত হয়েছেন। একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যদিও আমরা বয়স ভিত্তিক বিভাজন দেখাচ্ছি কিন্তু যে কোন বয়সের মানুষই এখন সংক্রমিত হতে পারে। করোনাভাইরাসের বিষয়ে প্রতিরোধের কোনো বয়স সীমা নেই। সুতরাং প্রত্যেককেই প্রতিরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাড়ে ১৭ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় এক লাখ আট হাজার ৯৬২ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পরে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।