চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘করোনাকালে যন্ত্রশিল্পীদের জন্য কারো একবারও মন কাঁদলো না?’

‘সকলের জন্যই রাষ্ট্রীয় খাত থেকে প্রণোদনা আছে, সহায়তার জন্য অর্থ বরাদ্দ আছে অথচ মিউজিশিয়ানদের জন্য নাই। তারা তো এমনিতেই অবহেলিত। তাছাড়া এখন ক্ষ্যাপই বন্ধ। করোনাকালে তাদের জন্য কারো একবারও মন কাঁদলো না? কেউ একটু চিন্তা করলো না যন্ত্রশিল্পীদের জন্য?’

চ্যানেল আই অনলাইনকে দুঃখভরা কণ্ঠে যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মৃধা বেনু। নিজে উদ্যোগী হয়েই শুক্রবার (২২ মে) প্রায় তিনশো অসচ্ছল মিউজিশিয়ানদের সহায়তা করতে চলেছেন তিনি। তার কথায়, ‘আমার জায়গা থেকে একটু সহায়তার করার চেষ্টা করছি। দয়া করে অন্যরাও এগিয়ে আসুন। তাদের পাশে দাঁড়ান।’

বিজ্ঞাপন

যন্ত্রশিল্পীদের আর্থিক সংকটের কথা আগে থেকে জানতেন না মুক্তিযুদ্ধের এই সৈনিক। বললেন, করোনার এই দুর্যোগকালীন সময়ে সাধ্যমত আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তো আমাদের সাথে বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান’স ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এর একজন আছেন, যিনি আমাকে জানালেন যে, ‘আপনি এতোকিছু করছেন, কিন্তু যন্ত্রশিল্পীদের অনেকেই কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছলতার মধ্যে আছে, তাদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না! কেউ কিছু করছে না।’-এ কথা শোনার পর সত্যিই আমি ব্যথিত হয়েছি।

বিজ্ঞাপন

বেনু বলেন, আমিতো শুরু থেকেই অসচ্ছল মানুষদের সহায়তা করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরশু যন্ত্রশিল্পীদের এমন কথা শোনার পর ধার দেনা করে শুক্রবার (২২ মে) সকালে সাধ্যমত প্রায় তিনশো যন্ত্রশিল্পীকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধশ্বরী ১ নম্বর লেনে সবাই উপস্থিত থাকবেন। আমি মনে করি, সক্ষমতা আছেন এমন মানুষ এদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

বেনুকে এমন উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান’স ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ শাহবুল ইসলাম বাবু।

চ্যানেল আই অনলাইনকে এই সংগঠক বলেন, বেনু ভাই আমাদের শ্রদ্ধাভাজন একজন মানুষ। করোনার শুরু থেকেই তিনি অসহায় মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। পরশু উনার সঙ্গে এক জায়গায় ত্রাণ বিতরণে যাচ্ছিলাম, তখন যন্ত্রশিল্পীদের বর্তমান অবস্থার কথা তাকে জানাই। গরীব, অসহায় মানুষরা হয়তো অন্যের কাছে হাত পাততে পারছে, কিন্তু একজন মিউজিশিয়ানতো আত্মসম্মানের জোরে সেটা করতে পারছে না। তখন বেনু ভাই নিজ উদ্যোগে পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেন।

বাবু বলেন, হাতেগোনা কিছু মিউজিশিয়ান আছেন যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল। কিন্তু ৯০ শতাংশ মিউজিশিয়ান এর অবস্থা আসলে ‘দিন আনে দিন খায়’ এর মতো! নিয়মিত অনুষ্ঠান হলে তাদের সাংসারিক চাহিদা কোনো রকমে মেটাতে পারেন। কিন্তু করোনার কারণেতো এখন আর কোনো অনুষ্ঠান নেই, ফলে সবার মতো যন্ত্রশিল্পীরাও বিপর্যস্ত।

অসচ্ছল মিউজিশিয়ানদের জন্য সাংগঠনিকভাবে সরকারের কাছেও চেষ্টা তদবীর করছে সংগঠনটি। যদিও এখনো কোনো আশার আলো দেখতে পাননি বলে জানান বিএমএফ এর এই প্রচার সম্পাদক।

জানালেন, সারা বাংলাদেশে বিএমএফ এর সাত হাজারের মতো মিউজিশিয়ান আছেন, এরমধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন তাদের তালিকা তৈরী পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচীব বরাবর। উনাদের সঙ্গে আমাদের সংগঠনের সভাপতি গাজী আব্দুল হাকিম, ও সাধারণ সম্পাদক দেবু চৌধুরী সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।