চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য ‘সারি’ আইসোলেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু

করোনা সেকেন্ড ওয়েব মোকাবেলায় নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে কক্সবাজারে। কক্সবাজারে আগত পর্যটক আর স্থানীয়দের করোনা চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে চালু করা হয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড-১৯ ‘সারি’ আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র। কক্সবাজার শহরের কবিতা চত্বর রোডে বাহারছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থাপন করা হয় এ ফিল্ড হাসপাতাল। পাশপাশি পর্যটকদের সচেতন করার কাজ ও চলছে।

শীত মৌসুম শুরুর সাথে সাথে করোনা সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয়েছে দেশে। কক্সবাজার দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও এ কেন্দ্র খোলা থাকার কারণে করোনার ঝুঁকিটা এখানে বেশি হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও জেলা প্রশাসন। করোনা মোকাবেলা সৈকত এলাকায় নিয়মিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে চলছে অভিযান।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে চালু করা হয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড-১৯ ‘সারি’ আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে নবনির্মিত ‘সারি’ আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্রের ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, করোনা শুরু থেকে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ একটি টিম জীবনের মোহ ভুলে কাজ করে যাচ্ছে। আর লকডাউন দেয়া হবে না। শীতে করোনা সেকেন্ড ওয়েব মোকাবেলায় এটি চালু করা হয়েছে। এতে সকল সুযোগ সুবিধা আছে। এখন করোনা হলে আর ভয় নেই।  কারণ ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি করা হয়েছে। আস্থার সাথে চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করছে জেলাবাসী।

তিনি আরও বলেন, টিকা আসতে আরও অনেক দেরি। আর আসলেও তা সাধারণ মানুষের নাগালে সহজে আসবে না। তাই এই মুহূর্তে নিজেদের বেশি সচেতন হবে। বর্তমানে মাস্কই আসল টিকা। সবসময় হাত পরিস্কার রাখতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে জনসমাগম। এই তিনটি শর্ত পূরণ করলে কমবে আক্রান্তের ভয়াবহতা।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনা সেকেন্ড ওয়েব মোকাবেলায় আমরা অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে জরিমানা করা হচ্ছে। তাতেও মানুষ গুরুত্ব না দিলে দেয়া হবে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পৃষ্টপোষকতায় এই আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’। জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরী তহবিল সিইআরএফ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অর্থায়নে নির্মিত চিকিৎসা কেন্দ্রটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সার্বিক সমন্বয় করবে এ্যাকশান এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ)।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর কক্সবাজার অফিস প্রধান ম্যানুয়েল মার্কেস পেরেরা বলেন, আমরা স্থানীয়দের পাশপাশি পর্যটকরা যেন এ করোনার সময় চিকিৎসা সেবা পায় সে জন্য একটি হাসপাতাল করার কাজে সহযোগিতা করেছি।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্টির পাশপাশি স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি।

কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপি এম বলেন, করোনার এ সময়ে পুলিশ মানুষের সেবা দেয়ার পাশপাশি সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ ‘সারি’ আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলির সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তী রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রসূন কুমার চক্রবর্তী।