চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওমিক্রন সর্ম্পকে নতুন যে বার্তা দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ডেল্টার মতো মারাত্মক না হলেও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের রেকর্ড ভেঙেই যাচ্ছে ওমিক্রন, তাই একে মৃদু বলা বিপজ্জনক জানিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেন, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার তুলনায় কম গুরুতর, তাই বলে একে মৃদু বলা উচিত নয়।

Reneta June

সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা যায়, করোনার পূর্বের ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রনে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এর সংক্রমণ অন্য সব ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ড. টেড্রোস আধানম।

বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে ৭১ শতাংশ, যার মধ্যে কেবল আমেরিকাতেই শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় যারা পড়েছে তাদের ৯০ শতাংশই ভ্যাকসিনবিহীন ছিলো বলে জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত সোমবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ঘণ্টায় ১০ লাখের বেশি করোনার নতুন সংক্রমণ রেকর্ড করে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি নতুন করোনা সংক্রমণ রেকর্ড করে এবং সেখানে মৃত্যু হয় ২৩১ জনের। দেশটিতে করোনা আক্রান্তের চাপে কিছু হাসপাতালের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার ২ লাখ ৬১ হাজার করোনা সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলিভার ভেরান জানুয়ারিতে হাসপাতালগুলো অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সেন্ডার ভুসিক বলেন, দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৯ হাজারের বেশি করোনা সংক্রমণের রেকর্ড হয়।

ড. টেড্রোস তার বক্তব্যে দরিদ্র দেশগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়ে সাহায্য করার আহ্বান জানান উন্নত দেশগুলোকে।

গতবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সকল প্রাপ্ত বয়স্ককে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে যদি পশ্চিমা দেশগুলো বুস্টার ডোজের জন্য টিকা মজুদ করে না রাখে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩০ কোটি ৬ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার।