চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ যেন ব্যথা সারাতে মাথাই কেটে ফেলা

রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধ

গত রোববার থেকে রাজধানীর কুড়িল-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আজিমপুর এবং সায়েন্সল্যাব-শাহবাগ রুটে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সিটিকর্পোরেশন। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের এ সিদ্ধান্ত শুধু রিকশা চালকদেরই নয়, নগরবাসীকেও অবাক করেছে। বিশেষ করে এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছে; তার জন্য। কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ও যানজট মুক্ত করতেই মূলত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত।

আমরা জেনেছি, সিটি কর্পোরেশনের হয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, ‘ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে গঠিত’ কমিটি। অতীতেও এই কমিটি রাজধানীর বহু রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ করেছে লেগুনার মতো জনপ্রিয় বাহনও। কিন্তু যে যুক্তিতে এগুলো বন্ধ করা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা ভুল সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা যেসব সড়ক থেকে রিকশা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে, সেসব সড়কে এখন যানজট আরো বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার সর্বশেষ যে তিন সড়কে রিকশা বন্ধ করে দেয়া হলো, সেসব সড়কে যানজট কমেনি বলে একাধিক গণমাধ্যম সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর অর্থ, সিটি কর্পোরেশন যে যুক্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে; সেটা সঠিক নয়, তা প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন।

বিজ্ঞাপন

সিটি কর্পোরেশনের এই সিদ্ধান্ত নিজেদের ‘রুটি-রুজির ওপর আঘাত’ অভিযোগ করে রিকশা চালকরা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে মাঠে নেমেছেন। এদিন সকাল থেকে প্রেসক্লাব, মুগদা স্টেডিয়াম, রামপুরা ব্রিজ, মৌচাক মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এ কারণে ওইসব এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়তে হয় অসংখ্য মানুষকে।

রিকশা চালকদের দেয়া তথ্য মতে, রাজধানীতে ৮৬ হাজার রিকশা চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু অবৈধভাবে চলছে আরো কয়েক লাখ রিকশা। আর সেসব অবৈধ রিকশা পরিচালনা করছে ক্ষমতাসীন দলের বহু নেতাকর্মী। যাদের পকেটে প্রতিদিন ঢুকছে কোটি কোটি টাকা। অথচ সিটি কর্পোরেশন সেসব অবৈধ রিকশা বন্ধ না করে, উল্টো সব রিকশাই বন্ধ করে দিচ্ছে। এ যেন মাথা ব্যথার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে, মাথা কেটে ফেলা!

রাজধানীর যানজটের কারণ খুঁজতে গিয়ে সিটি কর্পোরেশন, বুয়েটসহ এখন পর্যন্ত যেসব গবেষণা বা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, তার কোথাও শুধু রিকশার জন্য যানজট কিংবা সড়কের বিশৃঙ্খলার কথা বলা হয়নি। বরং এ জন্য প্রাইভেটকারের আধিক্য, রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফুটপাত দখল করে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়েছে।

আমাদের প্রশ্ন, এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন শুধু রিকশা বন্ধ করে সমাধান খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছে? না কি রিকশা চালকদের ‘দুর্বল’ তকমা দিয়ে প্রভাবশালীদের সুবিধার্থেই এমন উদ্যোগ? আমরা মনে করি, রাজধানীর যানজট কমাতে শুধু রিকশা বন্ধ করলেই হবে না, নিতে হবে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।

Bellow Post-Green View