চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসছে সাগরদ্বীপ মহেশখালী

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে চলছে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। ফলে এখানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে অনেক। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ বছরই শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসছে মহেশখালী দ্বীপকে।

এতে এই দ্বীপের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসতি। রয়েছে একটি পৌরসভা, আটটি ইউনিয়ন। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ দ্বীপে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এখানকার মিষ্টি পান বিশ্ব বিখ্যাত। এই পান দেশের সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে। এই দ্বীপটির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমেই মাতারবাড়িতে নির্মাণ করা হচ্ছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছোট মহেশখালী, কুতুবজোম অধর কাটায় গড়ে তোলা হচ্ছে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। নির্মাণ শুরু হয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দরের। সব মিলিয়ে এখানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

সেই লক্ষ্যে বিদ্যুতায়নের জন্য কাজ করার কথা জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মহেশখালী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কাজী এমদাদুল হক।

তিনি জানান, মহেশখালীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দীর্ঘ দিন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। কোন বাড়ি যেন বিদ্যুতের বাইরে না থাকে সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, আমার ইউনিয়নে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এছাড়া পুরো এলাকায় এখন বিদ্যুতের আওতায় চলে আসছে।

মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকসুদ মিয়া বলেন, পৌর এলাকার সব বাড়িঘরে এখন বিদ্যুৎ রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, আমার এলাকায় অনেক গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ যায়নি। তবে আমি বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।

বিজ্ঞাপন

কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, আমার এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

নয়াপাড়া গ্রামের ২শ পরিবারের মাঝে ১৬ অক্টোবর বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। আমার ঐ এলাকার লোকজন বিদ্যুৎ পেয়ে খুব খুশি। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তিনি তার দেওয়া কথামত পুরো দেশকে বিদ্যুতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

নতুন বিদ্যুৎ পাওয়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গাজী সেলিম চৌধুরী বলেন, অনেক দিন অন্ধকারের মধ্যে ছিলাম। আমাদের গ্রামে যে বিদ্যুৎ আসবে তা কোনদিন বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু আজ বিদ্যুৎ পেয়ে মনে হচ্ছে এ সরকারের পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কক্সবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, মহেশখালীতে নতুন লাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমান ৬১৮ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন সচল রয়েছে। বাকি রয়েছে ২৩০ কিলোমিটার।

বাকি লাইনগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কক্সবাজারের জিএম নূর মোহাম্মদ আজম মজুমদার বলেন, ইতিমধ্যে কক্সবাজারের প্রায় উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় চলে এসেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, মহেশখালীতে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। মহেশখালীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা দৃষ্টি রয়েছে, তাই এ বছরের মধ্যে মহেশখালীকে অবশ্যই শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বীপকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হলে দ্বীপের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

শেয়ার করুন: