চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তা কমার কারণ কী?

নতুন উদ্যোক্তা ও গ্রামে এসএমই খাতে ঋণ কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে ঋণ কমেছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জানুয়ারি-মার্চভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, শিক্ষিত বেকার যুবকদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে যুক্ত হতে তাদের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে উৎসাহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারও নিয়েছে নানা পরিকল্পনা। এমন পদক্ষেপের পরও নতুন উদ্যোক্তা ও গ্রামে এসএমই ঋণ কমেছে।

কিন্তু এত পদক্ষেপের পরও এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তা কমার কারণ কী?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দুই কারণে নতুন উদ্যোক্তা কমতে পারে। যেমন- এক, অত্যধিক খেলাপির ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগছে। এ কারণে অনেক ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারছে না।

দুই. গ্রাহকেরা স্টক মার্কেটে যাচ্ছে না। এ কারণেও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

সংশ্নিষ্টরা জানান, নগদ টাকার সংকটে ব্যাংকগুলো পুরাতন গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেজন্য নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ কমেছে। একই কারণে ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ এসএমই ঋণও কমেছে।

তবে নানা সংকটের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে এসএমই ঋণ বৃদ্ধিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারল্য পরিস্থিতি ভালো হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৬ উদ্যোক্তাকে ঋণ দিয়েছে। এসব উদ্যোক্তাদের মাঝে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু আগের বছরের একই সময়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার উদ্যোক্তাকে ঋণ দেয়া হয়েছিল। এবং তাদেরকে দেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে এবারে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮৬৮ কোটি টাকা।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৫২০ নতুন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ৪৫ হাজার ৫২১ নতুন উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে এবারে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে ১ হাজার ১১০ কোটি টাকা, যা ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ১৫ হাজার।

অন্যদিকে, বছরের প্রথম ৩ মাসে ৫৭ হাজার ৬শ’ গ্রামীণ উদ্যোক্তার মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। আগের বছর ৫১ হাজার ৭৫১ উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছিল ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

এ হিসাবে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ কমেছে ১০২ কোটি টাকা।

অবশ্য জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রথম ৩ মাসে ৪৩ হাজার ৭৬০ উদ্যোক্তাকে জামানত ছাড়া ৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ৪৩ হাজার ৫৩৩ উদ্যোক্তা পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার ঋণ। এ হিসাবে এবার জামানত ছাড়া ঋণ বেড়েছে ৮০০ কোটি টাকা।

Bellow Post-Green View