চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উল্টোপথে গাড়ি: আ টেল অফ টু এক্স-ক্যাডেটস

ট্রাফিক সভ্যতার একেবারে আদিম পর্যায়ে এখনও রাজধানী ঢাকা। কেননা এখানে দড়ি টেনে এখনও সিগন্যাল করতে হয়। এখানে গরু-ছাগল চিনলেই যেহেতু ড্রাইভার হওয়া যায়, তাই নগরীতে নিয়ম মানা অতোটা জরুরি নয়। তবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো ঠেকাতে ডিভাইস বসিয়েছিল ডিএমপি, কিন্তু ডিভাইস ভিআইপি গাড়ির চাকাও ফুটো করে দেয়!

এ সময়ে রং সাইডের ভিআইপিদের সাক্ষাৎকার ফেসবুকে ভাইরাল করা শুরু করলেন যোবায়েদ আহসান। সাবেক এই ঢাবি শিক্ষার্থী আবার ‘আগামী দিনের ভিআইপি’বাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের উল্টোপথে যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন। আর এই ইস্যুতে প্রথম আলোতে লিখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রুশাদ ফরিদী। একটি সম্পূরক তথ্য: যোবায়েদ ও রুশাদ দু’জনই এক্স-ক্যাডেট। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের।

তিন জুলাই স্ট্যাটাসটি দেন যোবায়েদ। কিছু ভলান্টিয়ার দরকার। ভাবছি উল্টো লেনে আসা গাড়ির বিরুদ্ধে একটা অহিংস সামাজিক আন্দোলন করব। ফেসবুকের মাধ্যমে। কিভাবে ?

৮/১০ জনের একটা টিম নিয়ে যেসব রাস্তায় উল্টো লেনে গাড়ি চলে সেই রাস্তায় হঠাৎ ঘন্টাখানেকের জন্য দাঁড়াবো। উল্টোপথে আসা একটা গাড়ি পেলেই মোবাইল দিয়ে ফেসবুক লাইভ চালু করে সেই গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যাব। তারপর সেই গাড়ির জানালায় গিয়ে ভিতরের মহামান্য ভিআইপি লোকটির দিকে মোবাইলের ক্যামেরা তাক করে জাহাঙ্গীর গেইটের চেকপোস্টিয় কায়দায় বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করব, আসসালামুআলাইকুম। আপনার পরিচয় ?

এতে ভেতরের ভিআইপি হয়তো রেগে যেতে পারেন। তখন তাকে স্মিত হাসি দিয়ে বলব, স্যার দয়া করে রেগে যাবেন না। আপনি লাইভে আছেন। জাতি আপনার পরিচয় জানতে চাচ্ছে। আমার মনে হয় ভেতরের ভিআইপি সাহেব এতেই যথেষ্ট লজ্জা পাবেন।

এতে কাজ হবার কথা। এদেশে আইন করে বা হাইকোর্টের রিট করে উল্টোপথে চলা বন্ধ করা যাবে না। বন্ধ করতে হলে উল্টোপথে চলা লোকদেরকে লজ্জায় ফেলতে হবে। আপনি হয়তো বলতে পারেন, এটা তো টিভি চ্যানেলের কাজ। ওরা করলেই তো পারে।

ওরা করবে না। কারণ টিভি চ্যানেলের গাড়িই সবচেয়ে বেশি উল্টোপথে চলে। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাবি বাসের সাথে এইটা করার দরকার নাই। লাইভ-টাইভ নিয়ে এদের পরোয়া নাই। এরা লাইভে থাকলেও আমাদের গায়ে হাতে তুলতে পারে। আমাদের আন্দোলন যেহেতু অহিংস, তাই মারামারির মধ্যে যাওয়াটা ঠিক হবে না।

তাদের জন্য অন্য অহিংস বুদ্ধি আছে। দেশের সকল কর্পোরেট অফিস থেকে ঘোষণা দেয়া হোক ঢাবির ছাত্ররা যতদিন তাদের বাস উল্টোপথে চলা বন্ধ না করবে, ততদিন কোন প্রাইভেট অফিসে ঢাবির কোনো ছাত্রকে চাকরি দেয়া হবে না। আমার মনে হয় এতে খুব ভালো কাজ হবে।

কর্পোরেট অফিসের এইচআর ম্যানেজার যখন মিষ্টি হেসে কাউকে বলবেন, দেখুন, জনাব তমুক ইসলাম , আপনি আমাদের পরীক্ষায় খুব ভালো করেছেন। আপনার রেজাল্টও খুব ভালো। কিন্তু দু;খিত- আপনাকে চাকরিটা দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাবির কোনো ছাত্রকে আমাদের অফিসে চাকরি দেয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

আপনারা তো রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে বাস চালান। আপনাদেরকে অফিসে নিলে তো অফিসে ডিসিপ্লিন বলে কিছু থাকবে না। সরি।

তখন কাজ না হওয়ার কোন কারণ নেই। আপনি হয়তো বলবেন, কতিপয় মাস্তান টাইপ ছাত্রের জন্য সবাইকে কেন শাস্তি পেতে হবে কেন?

ঢাবির একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে জানি  সাধারণ ছাত্ররা এক হলে এসব মাস্তানদের সাধ্য নেই উল্টাপাল্টা কিছু করে। অতীতের অনেক উদাহরণ আছে। আপনি হয়তো আরো বলবেন, উল্টোপথে তো আরো অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসও চলে। শুধু ঢাবির উপর রাগ কেন ?

ঢাবি বন্ধ করলে অন্য গুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু করেছে ঢাবি, শেষ করার দায়িত্বও তাদেরকেই নিতে হবে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সেদিন দেখি বদরুন্নেসা কলেজের বাসও রাস্তার উল্টো লেনে এ যাচ্ছে। খোদার কসম বলছি, বাসের ভিতরে বসা ছিল সাদা ইউনিফর্ম পড়া মাত্র ৩/৪ জন ছাত্রী।

ওই ৩/৪ জন ছাত্রীর ভয়ে তটস্থ আমরা  আমজনতা এবং ট্রাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট সবাই? এভাবে চলতে দেয়া যায় না। আছেন নাকি ভলান্টিয়ার হতে আগ্রহী কোন বান্দা?

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে! ১৮ জুলাই নিজেই নেমে গেলেন মাঠে। উল্টোপথের এক ভিআইপিকে আনলেন ক্যামেরার সামনে। শুধু ফেসবুকেই ইতোমধ্যে লক্ষাধিক দর্শক ভিআইপিকে দেখে ফেলেছেন। সাথে লাইক-কমেন্ট-শেয়ারের বন্যা তো আছেই!

যোবায়েদ আহসান আসলে অ্যাক্টিভ সিটিজেনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জনমত গঠনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবে তার এই অ্যাক্টিভিজম ‘সিটিজেন জার্নালিজম’কে নতুন মোড় দিয়েছে। যোবায়েদের সিটিজেন জার্নালিজমটা এখানে টুলস!

এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

শেয়ার করুন: