চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রশংসিত ‘শিমু’, মুক্তি পাচ্ছে ৭ প্রেক্ষাগৃহে

উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়ে গেলো রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘শিমু’ চলচ্চিত্রের। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে পোশাকশিল্পের যে ভূমিকা আছে তার আলোকে দৃঢ়চেতা নারী পোশাকশ্রমিকদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে ‘শিমু’ চলচ্চিত্রে।

রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস ভবনের স্টার সিনেপ্লেক্সে উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে ছবির কলাকুশলীদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর আগামী ১১ মার্চ থেকে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার, চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন, এবং সাভারের চন্দ্রিমা হলে প্রদর্শিত হবে ছবিটি।

Reneta June

‘শিমু’ প্রতিকূলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলা প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের গল্প। সমতার প্রশ্নে ‘শিমু’ একজন সম্মুখযোদ্ধা। এমনটাই মনে করেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে ছবির কলাকুশলীদের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের দর্শক ছবিটিকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করবে। আর বাংলাদেশের যারা শ্রমজীবী নারী তারা যদি ছবিটা দেখেন, তাদের খুব ভালো লাগবে। কেননা তাদের নিজেদের গল্পটাকে পর্দায় দেখতে পাবেন। তিনি বলেন, একজন পরিচালকের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বড়ো ভূমিকা রাখে তার কলাকুশলীরা। আমি খুব কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, কেননা এই ছবির জন্য তারা তাদের সেরাটাই দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ছবির প্রধান চরিত্র শিমু চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী রিকিতা নন্দিনী শিমু মনে করেন, এই ছবিটি যে নারী শ্রমিকরা দেখবেন বা যারাই দেখবেন এই গল্পটাকে তারা নিজের করে ভাবতে পারবেন। যেকোনো পেশার মানুষই এ গল্পের সাথে নিজেকে কানেক্ট করতে পারবেন। সেই সাথে সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখার।

শ্রমিকনেত্রী ডালিয়া আক্তারের জীবনের সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন তিনিও। ছবিটি দেখে অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে ডালিয়া বলেন, ছবির ভেতরে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। ভালো লাগছিলো, আবার অতীতের কথা ভেবে খারাপও লাগছিলো। আমি মনে করি এটা শুধু আমার একার লড়াই না। প্রতিটি নারীর জায়গা থেকে তার জীবনের লড়াই।

রুবাইয়াত হোসেনের পাশাপাশি ছবিটির মূল কুশলীদের অধিকাংশই ছিলেন নারী। চিত্রগ্রহণে সাবিন ল্যাঞ্চেলিন, শব্দগ্রহণে এলিশা আলবার্ট, এবং শিল্প নির্দেশনায় জোনাকি ভট্টাচার্য্যের নাম উল্লেখযোগ্য।

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, নভেরা রহমান, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু, মায়াবি মায়া, মোস্তফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও সামিনা লুৎফা প্রমুখ। দুটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিতা চৌধুরী ও ভারতের শাহানা গোস্বামী।

প্রথম ছবি মেহেরজান (২০১১) এবং দ্বিতীয় ছবি আন্ডার কনস্ট্রাকশন (২০১৫)-এর পর ‘শিমু’ রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি।

চলচ্চিত্র ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বা ‘শিমু’-এর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে ওপেন ডোরস ল্যাব এ অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। চিত্রনাট্যের জন্য রুবাইয়াত হোসেন জিতে নেন আর্টে ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার।

টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর ছবিটি প্রদর্শিত হয় ৬৩তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত ও পুরস্কৃত হয়েছে ছবিটি। ফ্রান্সের সেইন্ট জঁ দ্য-লুজ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। ইতালির টোরিনো বা তুরিন চলচ্চিত্র উৎসবে পেয়েছে ইন্টারফেদি পুরস্কার এবং ফ্রান্সের এমিয়েন্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নিয়েছে সেরা দর্শক পুরস্কার ও জুরি পুরস্কারসহ ৩টি পুরস্কার।

২০১৯ এর ডিসেম্বরে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, কানাডা ও পর্তুগালের বিভিন্ন সিনেমা হলে বাণিজ্যিকভাবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে মুক্তি পায় ছবিটি। এরপর ২০২০ আমেরিকার বিভিন্ন হলে প্রদর্শনের পর ছবিটির বাণিজ্যিকভাবে দেখানো হয় ম্যাক্সিকো, চীন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও জার্মানীর সিনেমা হলে। আর মার্চে বাংলাদেশে মুক্তির পরপরই এপ্রিল চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে জাপানের বিভিন্ন সিনেমা হলে।

বাংলাদেশের খনা টকিজ ও ফ্রান্সের লা ফিল্মস দ্য এপ্রেস-মিডির ব্যানারে নির্মিত শিমু ছবিটির প্রযোজক ফ্রঁসোয়া দক্তেমা ও আশিক মোস্তফা এবং সহ-প্রযোজক পিটার হিলডাল, পেদ্রো বোর্হেস, আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ ও রুবাইয়াত হোসেন। আর ছবিটির পরিবেশনা ও আন্তর্জাতিক বিক্রয় প্রতিনিধি ফ্রান্সের পিরামিড ফিল্মস।