চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈশ্বরের কাছে চাই, গাইতে গাইতে যেন আমি চলে যাই: সুবীর নন্দী

আমার দুই কিডনিতেই সমস্যা, কিন্তু গান গাইতে ‘নো প্রবলেম’: চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এর ১৩ তম আসরে আজীবন সম্মানিত হওয়ার পর এমনটাই বলেছিলেন সুবীর নন্দী…

থেমে গেলো বাংলা সংগীতের আরো একটি কিংবদন্তি কণ্ঠস্বর। যে কণ্ঠে শোনা যেত ‘কতো যে তুমাকে’, ‘একটা ছিলো সোনার কন্যা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’,‘আমার এই দুটি চোখ’,কিংবা ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’র মতো অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান, সেই সুরেলা কণ্ঠের মানুষটি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। অথচ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত গানেই বাঁচতে চেয়েছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি নিয়ে সমস্যায় ভুগছিলেন সুবীর নন্দী। তবু গানে কখনো প্রভাব ফেলতে পারেনি তার। কিডনির সমস্যা নিয়েই অসংখ্য মঞ্চ মাতিয়েছেন, স্টুডিও রেকর্ড করেছেন, নতুন গানে সুর তুলেছেন, কণ্ঠ দিয়েছেন। পাশের লোকটিকেও বুঝতে দেননি কখনো তার শারীরিক অসুস্থতার কথা! মায়াকাড়া কণ্ঠে একের পর এক গানের অনুষ্ঠান করে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

আক্ষরিক অর্থেই গানের মধ্য দিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন সুবীর নন্দী। গানের মধ্যেই প্রাণ ছিলো তাঁর। তাইতো গেল বছরের সেপ্টেম্বরে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এর ১৩ তম আসরের মঞ্চে উঠে প্রথমবারের মতো শ্রোতা ভক্তদের এক বিস্মিত খবর দিয়েছিলেন তিনি! সেই মঞ্চে বাংলা সংগীতে বিশেষ অবদান রাখার দরুন চ্যানেল আই তাঁকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে। আর সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুবীর নন্দী বলেছিলেন তার জীবনের শেষ ইচ্ছের কথা।

গানেই বাঁচতে চেয়েছিলেন সুবীর নন্দী। আর তাইতো সম্মাননা প্রাপ্তির পর আবেগী কণ্ঠে মাইক্রোফোন হাতে তিনি বলেছিলেন: অনেকেই জানেন, আবার অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আমি শারীরিকভাবে বর্তমানে অসুস্থ আছি। আমার দুই কিডনি কাজ করে না, কিন্তু গান গাইতে নো প্রবলেম! আমাকে যদি সারারাত গাইতে বলা হয়, আমি পারবো। কোনো সমস্যা নেই! তাই আমার জন্য দোয়া করবেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যেন গাইতে পারি। ঈশ্বরের কাছে চাই, গাইতে গাইতে যেন আমি চলে যাই।

১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন সুবীর নন্দী। সেখান থেকে ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে তাঁরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর কোনো উন্নতি না হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় সুবীর নন্দীকে। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর প্রিয় জন্মভূমিতে ফেরা হলো না তার।

মঙ্গলবার (৭ মে) ভোর সারে চারটায় সুবীর নন্দীর মৃত্যু সংবাদটি ফোনে জানান সিঙ্গাপুরে সুবীর নন্দীর সাথে থাকা তার মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী। এর আগে সিঙ্গাপুর নেয়ার পর গত দুদিনে (শনিবার ও রবিবার) তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয় তার।

Bellow Post-Green View