চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈদে হল খোলা থাকলে চলবে ‘বিদ্রোহী’, বাকি ছবিগুলোর মুক্তি অনিশ্চিত

ঈদের বাকি দুই সপ্তাহ। অন্যান্য বছর এ সময়ে তুমুল ব্যস্ততায় কাটে সিনেমার মানুষদের। বছরে অন্তত দুই ঈদ মৌসুম ঢাকাই সিনেমার প্রযোজকদের ছবি মুক্তির মূল টার্গেট থাকে। কিন্তু করোনার কারণে গেল বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরে সিনেমা মুক্তি নিয়ে যথেষ্ঠ সংশয় দেখা দিয়েছে। যে ছবি মুক্তির দৌড়ে এগিয়ে ছিল সেগুলোর মুক্তিও অনিশ্চিত।

প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকাই সিনেমার ঈদ মানেই শাকিব খানের ছবি। কোনো কোনো ঈদে তার পাঁচটি ছবিও মুক্তি পেয়েছেন। আসন্ন ঈদে জনপ্রিয় এ নায়কের দুই ছবি আসছে ‘অন্তরাত্মা’ ও ‘বিদ্রোহী’। ছিল আরিফিন শুভসহ তারকাবহুল ছবি ‘মিশন এক্সট্রিম’, সিয়াম-পূজার ‘শান’, শান্ত খান-শ্রাবন্তীর ‘বিক্ষোভ’।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শোনা যাচ্ছিল, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এসব ছবিগুলোই ঈদে সিনেমা হলে চলবে। তবে সে বিষয়ে আছে যথেষ্ট সংশয়, কারণ করোনার উর্দ্ধ সংক্রমণ। বড় বাজেটের ছবি মুক্তি নিয়ে প্রযোজকেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাদের ভরসা ছিল ঈদ। অন্য সময়ে দর্শক কম থাকলেও প্রযোজক নিশ্চিত ছিলেন, ঈদে বড় বাজেটের ছবিগুলো লগ্নিকৃত টাকা তুলে আনতে পারবে! কিন্তু রমজানের আগে থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত ও সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা দেয়ায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না প্রযোজকরা।

তবে ‘বিদ্রোহী’ ও ‘বিক্ষোভ’ দুই ছবির প্রযোজক সেলিম খান বললেন ভিন্ন কথা। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ঈদে যদি লকডাউন শিথিল থাকে তার আগে হল মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। তাদের পরিবার, সংসার রয়েছে। সেসব বিবেচনা করে তারা যদি হল খোলা রাখেন তবে অবশ্যই বিদ্রোহী মুক্তি দেব। করোনা অনেকাংশে কমলে বিক্ষোভও মুক্তি দেব।

শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার প্রযোজক সেলিম খান জানান, গত বছর ঈদের জন্য অনেকগুলো হল ‘বিদ্রোহী’ বুকিং করেছিল। অগ্রিম বুকিং মানিও নেয়া। অনেক হল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে লকডাউন বা সরকারী নিষেধ না থাকলে যে কটা হল খোলা থাকবে সেখানে প্রদর্শক সমিতি চাইলে ‘বিদ্রোহী’ মুক্তি দেব।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেলিম খান বলেন, হল খোলা থাকলে কোনো প্রযোজক ছবি মুক্তি না দিলে, আমি ‘বিদ্রোহী’ মুক্তি দেব।

এদিকে শাকিবের আরেক ছবি ‘অন্তরাত্মা’-তে লগ্নী করেছেন ‘সত্তা’ খ্যাত প্রযোজক ড. সোহানী হোসেন। এ ছবিটি নির্মিত হয়েছে ঈদকে টার্গেট করে। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুক্তি দিতে চান এ প্রযোজক।

তিনি বলেন, পাশ্ববর্তী ইন্ডিয়ার মতো করোনার প্রকোপ বেড়েছে বাংলাদেশেও। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আগে। সেজন্য ঈদে ছবি মুক্তি দিতেই হবে এমনটা ভাবছি না। শাকিব খানের ছবি মুক্তি দিতে ঈদ লাগে না। শাকিব থাকলে ছবি যে কোনো সময় মুক্তি দিলে হিট হবে।

বিজ্ঞাপন

সোহানী হোসেন বলেন, করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় শুটিং পরবর্তী অনেক কাজ পিছিয়ে গেছে। তবে পোস্ট প্রডাকশন শেষ। সিনেমা হলে ছবি মুক্তি মানেই দর্শকের ভীড়! করোনা যেভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তাতে ঈদে অন্তরাত্মা মুক্তি দিতে পারবো কিনা এখনো নিশ্চিত নই। এজন্য আরও কয়েকদিন পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চাই।

‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমার প্রযোজক ও পরিচালকদের একজন সানী সানোয়ার। তিনি বলেন, ঈদে যদি করোনার প্রকোপ কমে তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করবে। ছবি মুক্তি দিলেও যদি দর্শক দেখতে না যায় সেক্ষেত্রে ক্ষতি আমাদের হবে। এজন্য আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে থাকছি। এরমধ্যে ইন্ডিয়ায় করোনায় নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে ভয় বেড়েছে।

তিনি বলেন, সিনেমা হল খোলা থাকলেও ছবি মুক্তি দিতে পারবো কিনা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা তৈরি আছি। ঈদে মুক্তি দিতে না পারলেও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের পর মুক্তি দেব। সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উপর।

ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘শান’ সিনেমার প্রযোজক ও কাহিনিকার আজাদ খান মনে করেন, আগে মানুষের জীবন ও জীবনের নিরাপত্তা; পরে বিনোদন। মানুষের হাতে অর্থ না থাকলে বিনোদন দেখতে যাবেনা। অর্থ থাকলে আগে মানুষ খাদ্যের যোগান আগে নিশ্চিত করে। পরে অন্যকিছু নিয়ে ভাবে। তাই সব বিবেচনা করে ঈদে শান মুক্তি দেব নিশ্চিত হতে পারছিনা।

ঈদের বাকি দুই সপ্তাহ। আরও এক সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পরিচালক আজাদ খান। ‘শান’ই তার প্রযোজিত প্রথম ছবি। ইচ্ছে আছে প্রতিবছর সিনেমায় লগ্নী করবেন।

তিনি বলেন, ‘শান’ ছবি মুক্তি দেয়ার জন্য তৈরি আছি। টিজারের মাধ্যমে ভীষণ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু করোনা পরিবেশ পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে তাহলে কিছুই করার থাকবে না। সেজন্য অন্তত রমযানের বিশ পর্যন্ত অপেক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। সচেতন না হলে অবস্থা চলতে থাকবে জুন পর্যন্ত। বর্তমানে লকডাউন চলছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি ভালো না হলে শুধু ঈদের সিনেমাই নয়, গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পড়বে হুমকির মুখে।

এদিকে সিনেমা হল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, ঈদে সিনেমা খোলা নাকি বন্ধ থাকবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে এখনও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে আমরা চাই সিনেমা হল খোলা থাকুক। প্রযোজকরা ভালো সিনেমাগুলো মুক্তি দিক। ছবি ভালো হলে মানুষ হলে আসবেই। ভালো ছবি ও দর্শকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছবি প্রদর্শনের নিশ্চয়তা সিনেমা হলের মালিকরা অবশ্যই দেবেন।