চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইবাদত কবুলে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

রিজিক অন্বেষণ মহান আল্লাহ তায়ালার ঐশী নির্দেশ। স্বাভাবিকভাবেই তা করতে গিয়ে যেকোন বান্দা সবসময় দু’টি উপায়ের সম্মুখীন হয়ে থাকে। যার একটি হালাল ও অন্যটি হারাম। প্রথমটি উপার্জনীয় আর দ্বিতীয়টি বর্জনীয়। হালাল উপার্জন সম্পর্কেই তালাশের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি ইরশাদ করেন, “হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না” (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৬৮)। সংগ্রামের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য রিজিক তালাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই একে ফরজ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করে অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, “নামাজ শেষ করা মাত্র তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে” (সুরা: জুমা, আয়াত: ১০)।

তিনি আরো বলেন, “আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য যেসব রিজিক হালাল করেছেন তা থেকে খাদ্য গ্রহণ কর” (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৮৮)। রিজিক তালাশের উৎসাহ দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতেই উপার্জন করে খেতেন” (সহীহ বুখারী)।

বিজ্ঞাপন

এইভাবে বহু আয়াত ও হাদিসে হালাল উপার্জনের তাগাদা এসেছে। আরো এসেছে নিষিদ্ধ উপায় থেকে বিরত থাকার সতর্কবাণীও; হালাল উপার্জন ব্যতীত ঈমানদারের জন্য রিজিক লাভের বিকল্প কোন দরজা ইসলাম খোলা রাখেনি এবং এর অনুমতিও নেই। রুজি-রোজগারে হালাল বস্তু ভক্ষণ না করলে কোন ইবাদতই কবুল হয় না। হারাম উপায়ে উপার্জিত বস্তু খেলে রিজিক থেকে বরকত উঠে যায়। হারাম সম্পদ গ্রহণে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তিনি বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করো না” (সুরা: নিসা, আয়াত: ২৯)।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ যত ধরণের ইবাদত রয়েছে, সবগুলোর ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন এক অবিচ্ছেদ্য শর্ত। গচ্ছিত সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জিত হলে বান্দার সমস্ত আমলই প্রত্যাখ্যাত। নষ্ট হয়ে যাবে পরিশ্রমে পালিত সকল ইবাদত। তখন যে নামাজ সে আদায় করে, তা প্রকৃত নামাজ বলে গণ্য হয় না, রোজা রাখলে তাও অসাড় বলে বিবেচ্য; তার ইবাদত হয়ে যায় নিছক লোক দেখানো অনুশীলন মাত্র। হাদিস শরীফে এসেছে, “যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে কোন কাপড় কিনল, আর তাতে মাত্র এক দিরহাম অসৎ উপায়ে অর্জিত হলো। সে যতদিন ঐ কাপড় পরিহিত থাকবে, ততদিন তার নামাজ কবুল হবে না” (মুসনাদে আহমদ)। অপর বর্ণনায় এসেছে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি হারাম অর্থ ব্যয় করে হজে গিয়ে বলল, ‘লাব্বাইক’। তার জবাবে একজন ফেরেশতা বলেন, ‘তোমার লাব্বাইক গ্রহণযোগ্য নয়। তোমার হজ তোমার মুখের ওপরেই ছুড়ে দেওয়া হল” (মুজামে তাবরানী)।

বিজ্ঞাপন

হাদিস শরীফে দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। সব ইবাদতই কোন না কোনভাবে দোয়ার সঙ্গে যুক্ত। হারাম খাবার ভক্ষণের কারণে সেই দোয়াও হয় নিগৃহীত। রাসুলে আকরম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “কেউ যদি হারাম খাদ্যের এক গ্রাসও মুখে নেয়, টানা চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার দোয়া কবুল হবে না” (সহীহ মুসলিম)। এতে বুঝা যায়, বৈধ পথে অর্থ উপার্জন করা দোয়া কবুলেরও শর্ত। অবৈধ অর্থে উপার্জনের মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। কাউকে জাহান্নামে নিয়ে যাবার জন্য কেবল অসৎ উপায়ে অর্জিত তার এক মুষ্টিসম উপার্জনই যথেষ্ট। হারাম উপার্জনের একমাত্র ঠিকানা জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে শরীর হারাম খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না” (সুনানে তিরমিজী)। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করে, সেই ব্যাপারে পরোয়া করে না; আল্লাহ তায়ালা তাকে কোন দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তা নিয়ে তিনিও পরোয়া করেন না” (মুসনাদে আহমদ)।

জান্নাতে যেতে হলে জীবনের অন্তিম নিঃশ্বাসটি পর্যন্ত হালাল খেয়েই যাপন করতে হবে। বিরত থাকতে হবে সুদ, ঘুষ, চাঁদাবাজিসহ সকল প্রকারের অবৈধ উপায় থেকে। তাহলে ঈমানের সাথে মৃত্যু নসীব হবে।

চলতি মাস রমজান মাস। ইবাদত পালনের মাস এটি। যতই ইবাদত আমরা পালন করি না কেন, জীবিকা অর্জনের এক পয়সাও অসৎ উপায়ে অর্জিত হলে, তা হবে নিষ্ফল চেষ্টা মাত্র। এ মাসের সতর্ক বার্তা হল, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে ছড়িয়ে পড়া জুয়ার আসর। নিঃসন্দেহে এই জুয়া খেলা ইসলাম ধর্মে চরম পর্যায়ের নিষিদ্ধ কাজ। আশংকা রয়েছে, আইপিএল ক্রিকেট ও কারণে পুরো রমজানজুড়েই ইতিমধ্যে জুয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।

আসুন, মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখতে জুয়াসহ সকল প্রকারের অবৈধ উপার্জনের উপায় থেকে নিজেকে বিরত রাখি এবং অন্যকেও সতর্ক করি। তবেই পরকালীন মুক্তি মিলবে।

Bellow Post-Green View