চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইন্ডাস্ট্রিতে স্থায়ী আসন চান মুনজিরা

কচ্ছপ ও খরগোশের দৌড় প্রতিযোগিতার গল্প সবার জানা। যেখানে কচ্ছপ ধীর গতির হয়েও শুধু একাগ্রতা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের কারণে দ্রুত গতি সম্পন্ন খরগোশকেও হার মানিয়েছিলো! বাস্তবে এমনটা না ঘটলেও একাগ্রতাকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ভাষায় আছে এমন অসংখ্য উদ্দীপনামূলক গল্প। ইংরেজিতেও একটি উক্তি আছে, ‘স্লো এন্ড স্টিডি উইনস দা রেস’! তেমনি একাগ্রতা নিয়ে সবেমাত্র শোবিজ অঙ্গনে পা রাখা আত্মবিশ্বাসি এক তরুণী বললেন নিজের ভবিষ্যত ছকের কথা!

তরুণীর নাম মুনজিরা তৃষা। সেই ছোট্টবেলা থেকেই যিনি অভিনয়কে ধারণ করে বেড়ে উঠেছেন। সেই নেশা থেকেই তিনি ভর্তি হয়েছিলেন প্রাচ্যনাটের স্কুলে। থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি নেশা যেন আরো পেয়ে বসে তাকে!

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসর ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’ নাম লেখান মুনজিরা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে নিজের ভেতর লুকানো আত্মবিশ্বাস! প্রায় ২৫ হাজার তরুণী শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে সে বছর ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র শীর্ষ ১২’তে জায়গা করে নেন মুনজিরা।

তবে তার জীবনে অন্যতম প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়ায় ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’র ঠিক পরের বছর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর আসরটি। সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরাট এই আসরে সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত শীর্ষ-৬ থেকেই বিদায় হতে হয় তাকে।

এই প্লাটফর্মগুলোতে অংশ নিয়ে খুব কাছ থেকে শোবিজকে দেখেছেন মুনজিরা। প্রতিষ্ঠার জন্য না দৌড়িয়ে চুপচাপে কাজ করে গেছেন। বিভিন্ন ব্র‌্যান্ডের হয়ে ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন, মডেলিং করেছে নিয়মিত। তবুও নিজের ভেতরে গোপনে লুকিয়ে রেখেছিলেন অভিনয়ের বীজ!

মুনজিরার ভাষায়, অভিনয়ের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার একটা টান ছিলো। ইনফ্যাক্ট মিস ওয়ার্ল্ড-এর টপ-টেনেও আমি এসেছিলাম একক অভিনয় দিয়ে। অভিনয়টা মূলত আমার ভালোবাসা আর ভাল লাগার জায়গা। প্রাচ্যনাট স্কুলে ছিলাম। সেখানে অভিনয়ে পাঠ নিয়েছি, পথ নাটক করেছি।

প্রথমবারের মতো মুনজিরা অভিনয় করলেন চ্যানেল আইয়ের একটি নাটকে। ইরানী বিশ্বাস পরিচালিত নাটকের নাম ‘ডিগ্রিধারী চান্দু মামা’। প্রথমবার অভিনয়ের জন্য ক্যামেরার সামনে, অনুভূতি কেমন? জানতে চাইলে মুনজিরা বলেন, ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়ালেতো একটা ভয় সবারই কাজ করে। তারপরও বলবো, থিয়েটারের চেয়ে ক্যামেরার সামনে কাজ করা অনেক সহজ। কারণ ক্যামেরার সামনে ভুল হলে আবার সেই শটটি নেয়া যায়। কিন্তু থিয়েটারে সেই সুযোগ নেই। দর্শকের সামনে লাইভ পারফর্মেন্স করতে হয়। এর বাইরে থিয়েটার নিয়ে ভাবনার সুযোগই নেই।

জীবনের প্রথম অভিনীত নাটক নিয়ে তৃষা বলেন, ইরানী ম্যাম (ইরানী বিশ্বাস) পরিচালিত খুব সুন্দর একটি নাটক ‘ডিগ্রিধারী চান্দু মামা’। যেখানে অভিনয় করতে গিয়ে অন্যরকম অনুভূতির জন্ম হলো আমার। নতুন হিসেবে সবাই আমাকে এতো সাপোর্ট করেছেন, বিশেষ করে ইরানী ম্যামকে ধন্যবাদ। জীবনের প্রথম কাজটা সব কিছু মিলিয়েই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সুন্দরী প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে থাকার পরেও এতোদিন পরে এসে কেন প্রথম কাজ করতে হলো? মুনজিরার কাছে এমন প্রশ্ন ছুড়লে তিনি জবাব দেন, এরআগেও আমার কাছে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি আসলে একটু সময় নিতে চেয়েছি নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিতে চাই না। আর আমি এটা বিশ্বাসও করি না যে, যখন যা অফার আসবে তখন সেটাই করতে হবে! আমি যখন বুঝেছি যে, এখন আমি কাজ করার জন্য পারফেক্ট, তখনই কাজে এলাম।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভাল কাজগুলো করতে চাই। কারণ, তারিন আপু আমার আইডল। উনার সব কাজ আমি ফলো করি। বছরে একটা কাজ করলেও সেটা যেন সৃজনশীল হয়। অভিনয় দিয়ে আমি এরকম জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে গেলে দর্শক যেন আমার অভিনয় দেখেন, চেহেরা নয়। আমার অভিনয় যদি কারো মনে দাগ কাটে, তাহলে সেটা তার সারা জীবন মনে থাকবে। কিন্তু চেহেরা যে কোনো সময় ভুলে যেতে পারেন! এজন্য আমি চাই, মানুষ আমাকে অভিনয় দিয়ে চিনুক, জানুক।

প্রথম নাটক প্রচারের পরেই কোনো পরিচালক বা প্রযোজক যদি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে আসেন, কী করবেন মুনজিরা?-এমন প্রশ্নে একটু ভেবেচিন্তে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে সিনেমার জন্য প্রস্তুত নই, আর এটাও জানি এই মুহূর্তে কেউ আমাকে সিনেমায় ডাকবেও না!

Bellow Post-Green View