চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লুডো: এক সুতোয় বাঁধা চার গল্প

অনুরাগ বসুর মতো ভিন্নধর্মী ছবি নির্মাণ করতে পারেন এমন নির্মাতা খুব কমই আছেন বলিউডে। ১২ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘লুডো’ ছবিটিও একেবারেই ভিন্ন স্বাদের। আড়াই ঘণ্টার এই ছবিতে চারটি ভিন্ন গল্পকে এক সুতোয় বেঁধেছেন অনুরাগ বসু। সিনেমার দৃশ্যগুলি লুডো বোর্ডের মতোই পরিবর্তিত হয়।

ছবিতে একাধিক তারকা, একাধিক টুইস্ট। জীবন তো অনেকটা লুডোয় মতোই। লুডোই তো জীবন। ছবির শুরুতেই কথাগুলো ভেসে আসে।

বিজ্ঞাপন

ছবির প্রথম গল্প আকাশের (আদিত্য রয় কাপুর)‌, যার প্রেমিকা অহনার (‌সানিয়া মালহোত্রা)‌ সঙ্গে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়া হয়। অহনার চারদিন পর বিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে। এই ঘটনা দুজনের জীবনেই সমস্যা তৈরি করে। এই সমস্যা থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন সত্তু ত্রিপাঠি (পঙ্কজ ত্রিপাঠি)‌।

পরের গল্পটি বিট্টু তিওয়ারির (‌অভিষেক বচ্চন)‌। কোনও একসময় সত্তু ত্রিপাঠির ডান হাত ছিলেন। পরে সংসারী হয়ে অপরাধ জগত থেকে সরে আসেন বিট্টু। কিন্তু পুরনো কাজের ছায়া পিছু ছাড়ে না তার।

তৃতীয় গল্পটি অলোকের (‌রাজকুমার রাও)। তিনি পিঙ্কিকে (‌ফাতিমা)‌ ভালোবাসেন। কিন্তু ভালোবাসার খাতিরে অলোক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যান।

চতুর্থ গল্পটি রাহুল আর শ্রীজার। নিজের জীবন ও চাকরি নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন তারা। কিন্তু এক পলকে তাদের ভাগ্য বদলে যায়।

চারটি গল্পের সাথেই সম্পর্ক আছে সত্তু ত্রিপাঠির (‌পঙ্কজ ত্রিপাঠি)‌। লুডো খেলার মতো সব গুটিকে তাদের ঘরে পৌঁছে দেয় এই চরিত্রটি।

লুডো ছবিতে কমেডি, আবেগ ও রহস্য রয়েছে। গল্পের মোড়ে মোড়ে আছে চমক। সিনেমাটোগ্রাফির জন্য পরিচালক প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। যারা অভিনয় করেছেন, তারাও প্রশংসার দাবীদার। সব চরিত্রেই অভিনেতারা তাদের দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে বিট্টু তিওয়ারির চরিত্রে অভিষেক বচ্চন মন কেড়েছেন দর্শকদের। সত্তু ত্রিপাঠির চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠিও ‘পারফেক্ট’। সানিয়া মালহোত্রা, ফাতিমা সানা শেখ, আদিত্য রয় কাপুর সহ অন্যান্যরাও নিজেদের চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন।

আড়াই ঘণ্টার সিনেমা দেখতে যথেষ্ট মনোযোগ প্রয়োজন। ছবির গল্প এত দ্রুত ডালপালা ছড়িয়ে বিস্তার লাভ করে যে একটু মনোযোগ হারালেই ছবি দেখার ধৈর্য হারানোর সম্ভাবনা আছে।