চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আশুরায় রক্তাক্ত তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ: ডিএমপি

পবিত্র আশুরায় রক্তাক্ত তাজিয়া মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

মিছিলে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া, মিরপুর, বড় কাটারা, ছোট কাটারা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মহরমের ৬ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, রাজধানীর প্রত্যেকটি ইমামবাড়া সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যারা শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন তাদের প্রত্যেককে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি হয়ে আসতে হবে। এছাড়াও ইমামবাড়ার চারপাশে পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে। পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি) এবং গোয়েন্দাদের নজরদারি থাকবে। অনুষ্ঠানের আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে। অনুষ্ঠানগুলো মনিটর করবে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও সোয়াত টিম প্রস্তুত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

‘তাজিয়া শোক মিছিলে সকল প্রকার ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা, লাঠি, ছোঁড়া, চাকু, তরবারি/তলোয়ার, বর্শা, বল্লব এবং আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ। পোশাকের সাথেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে না।’

তিনি বলেন, শোক মিছিল শুরুর স্থানে প্রবেশের আগে সকলকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহ তল্লাশী করে ঢুকতে দিতে হবে। তল্লাশী ব্যতীত কোন অবস্থায় কাউকে মিছিলে ঢুকতে দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী রাখতে হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, শোক মিছিলে উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরি করার ঢাক-ঢোল, বাদ্য যন্ত্র, পিএ সেট ব্যবহার করা যাবে না। মিছিলে পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রয়োগ করে ভীতিকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা তৈরি করা যাবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তাজিয়া শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিশানের উচ্চতা ১২ ফুট এর বেশী হবে না। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইমামবাড়া ও শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেত স্থান ও এর আশপাশের সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

২০১৫ সালে হোসেনি দালানের বোমা হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তদন্তের পর এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। আদালত যখন বলবেন, তখন মামলার সাক্ষীদের হাজির করা হবে।

Bellow Post-Green View