চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আব্দুল হাই বাচ্চু কার ভাসুর হন?

ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন এরশাদ আমলে ১৯৮৭-৮৮ সালে একটি ছড়া লিখেছিলেন ‘খিদে’ নামে। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে টিএসসির কবিতা উৎসবে ছড়াটি পড়ে পুরো তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মুহুর্মুহু তালিতে উৎসব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।

একজন আব্দুল হাই সব খান, এরকম ছিল ছড়ার বিষয়। যেমন ‘আব্দুল হাই/করে খাই খাই/এক্ষুনি খেয়ে বলে/কিছু খাই নাই।’ সেই ছড়াটির কথা বেশ কিছুদিন ধরেই মনে পড়ছে। কারণ পত্রপত্রিকায় ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রতিদিনই কিছু না কিছু প্রকাশিত হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার ঘটনা আমাদের মগজে একদম গেঁথে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বেসিক ব্যাংকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সে সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল হাই বাচ্চু। এ ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুদক তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
দুর্নীতির ব্যাপারে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নাম এলেও তাকে রাখা হয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

প্রশ্ন উঠেছে কেন আব্দুল হাই বাচ্চুকে ধরার কোনো তৎপরতা নেই সরকারের? সর্বশেষ সাংসদ ফজলে নুর তাপস দুদকের ব্যাপারে খুব কড়া ভাষায় বলেছেন, ‘আব্দুল হাই বাচ্চুর বিষয়ে কেন দুদক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, শুধু চুনোপুঁটি নয়, এবার রাঘব বোয়ালদেরও দুদক ধরবে। আমরা তাই এখনো আশাহত হতে চাই না। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নিজের দল এবং নিজের পরিবারের কেউ দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলেও তাকে রেহাই দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে এটাও সাধারণ মানুষের কাছে একটা রহস্য তৈরি করেছে যে, আব্দুল হাই বাচ্চু কত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি- যে কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। সেই ক্ষমতার উৎস এতটাই গভীরে, যার কারণে আজ পর্যন্ত তা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সাংবাদিকরা বের করতে পারেনি। আমরা সেই শিকড় জানার অপেক্ষায় আছি। 

ক্যাসিনোবিরোধী ধরপাকড়ে এত বড় বড় হোমড়া চোমড়ার থলের বেড়াল বেরিয়ে এলেও আব্দুল হাই বাচ্চু’র ব্যাপারে শৈথিল্য’র বিষয়টা রহস্যময় ঠেকাটাই স্বাভাবিক।

ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের সেই ছড়ার চরিত্রের মতো বেসিক ব্যাংকের আব্দুল হাই বাচ্চু সব খেয়ে শেষ করে দিয়েছেন এমন অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে-বাচ্চু সাহেব এমন জায়গা ম্যানেজ করেছেন, সেই জায়গা ক্ষমতার এতটাই কাছের যে, তার টিকিটিও ধরা যাচ্ছে না। এই অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণ হবে-এমন আশা করতেই পারি।

আমরা নিশ্চয়ই খুব শিগগিরই দেখব-আব্দুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিবেন। কারণ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বলেছেন দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

আমরা সেই ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’র দিকেই তাকিয়ে থাকলাম।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View