চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবার জমবে মেলা

”জাগিয়া প্রভাতে হেরিনু আজিকে জগতে সুপ্রভাত,
শয়তানও আজ দেবতার নামে করিছে নান্দীপাঠ!
হে মহাপুরুষ, মহাবিদ্রোহী, হে ঋষি, সোহম্-স্বামী!
তব ইঙ্গিতে দেখেছি সহসা সৃষ্টি গিয়াছে থামি,
থমকি গিয়াছে গতির বিশ্ব চন্দ্র-সূর্য-তারা,
নিয়ম ভুলেছে কঠোর নিয়তি, দৈব দিয়াছে সাড়া!”
….. কাজী নজরুল ইসলাম।

করোনা- আজকের এক নির্মম অথচ অমোঘ বিশ্ব বাস্তবতা। দুনিয়াজুড়ে মানুষের প্রতিদিনকার জীবনছন্দ তছনছ করে দিয়েছে। জীবনানন্দ কেড়ে নিয়েছে। দেশে-দেশে, নগরে-বন্দরে, গ্রামে-জনপদে আজ কেবলই সুনসান নিরবতা। যেন সারা পৃথিবীতেই আজ কবরের নিস্তব্ধতা। এশিয়া থেকে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে আফ্রিকা- মানুষ আজ পর্যুদস্ত এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে। সংক্রমণ রুখতে মানুষ আজ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন। বলা হচ্ছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। কিন্তু বিশ্বকে এক গ্রামে পরিণত করার কথা ছিলো বিশ্বায়নের আজকের যুগে। বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং সামগ্রিক একাত্মতাই আধুনিক সভ্যতার মূলমন্ত্র হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আজ এ কি অভিশাপ নেমে এলো দুনিয়াজুড়ে! জীবনের সকল আয়োজন থামিয়ে দিয়ে মানুষ কেবলই মৃত্যুর প্রহর গুণছে। লাখে লাখে আক্রান্ত। হত হাজারে হাজার। চীন থেকে ইরান, স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি থেকে বাংলাদেশ। কারো রেহাই মিলছে না। বিস্তার ঠেকাতে দুনিয়ার সবারই এখন কেবলই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রতিযোগিতা। বৈশ্বিক যোগাযোগ থমকে গেছে। মানুষের চলাচল থেকে পণ্যের প্রবাহ স্তব্ধ। দেশে দেশে জরুরি অবস্থা, লকডাউন, শাটডাউন, কারফিউ। পথে পথে সেনা। মানুষ রাস্তায় বেরোলেই বাড়বে ভাইরাসের বিপদ, তাই ঘরে ফেরাও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি দপ্তর, যান চলাচল থেকে শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র থেকে উপাসনালয়- সব বন্ধ। খোলা কেবল হাসপাতাল। সেখানে ডাক্তার, নার্স আর তাদের নানা স্তরের সহযোগীরা জেগে আছেন, নিজেদের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও তারা সেবা করে চলেছেন আক্রান্ত মানুষের।

বিজ্ঞাপন

এ এক নতুন পৃথিবী! এমন পৃথিবী চাইনি আমরা কেউই।
কিন্তু তিলে তিলে বছরের পর বছর ধরে আমরাই তো আমাদের প্রিয় ধরিত্রীকে কষ্ট দিয়েছি। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নিজেদের ভোগবিলাস, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বাহারী আয়োজন করতে আমরাই প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে আটকে দিয়েছি। প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের অযাচিত কারণ হয়েছি আমরাই। নদী, পাহাড়, সমুদ্র, সবুজের ক্ষতি করেছি। ক্ষমতার লোভ আর ভোগবিলাসের মোহে আমরা প্রতিদিন আরো, আরো বেশি করে আটকে গিয়েছি। আমাদের ভোগবিলাসের নানা বাহারী আয়োজন প্রকৃতির ক্ষতিসাধন করেছে একটু একটু করে। আধুনিক জীবনযাপনের নামে আমরা আমাদের আদি লৌকিক আচারগুলো থেকে সরে এসেছি। পাপ-পূণ্যের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়- আমরা প্রকৃতির প্রতি যে চরমতম অবিচার করেছি, আজ প্রকৃতিই তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের উৎস ও কারণ সম্পর্কে কোনোপ্রকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধারেকাছেও না গিয়ে এটুকু বলাই যায়, প্রকৃতির প্রতি আমাদের সংঘটিত পাপের যুথবদ্ধ প্রতিশোধ এ মহামারী।

বিজ্ঞাপন

বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে আগে যে সকল সংস্কার ছিলো, লৌকিক আচার ছিলো, আধুনিক জীবনযাপনের নামে আমরা সেসব থেকে যোজন যোজন দূরে সরে এসেছি। আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি, বাড়িতে শৌচাগার-স্নানাগার, কলতলা থাকতো মূল বাড়ি থেকে আলাদা। শৌচাগারের জন্য আলাদা পোশাক থাকতো, না থাকলেও নিদেনপক্ষে আলাদা গামছা বা বস্ত্রখণ্ড থাকতো। শৌচাগার ব্যবহারের পর স্নানাদি সেরে মূল গৃহে প্রবেশ করা হতো। বাইরে থেকে এসে বাইরের পোশাক পরে ঘরে যাওয়া যেতো না। সেগুলে ছেড়ে স্নানাদি সেরে পরিষ্কার কাপড়ে ঘরে ঢুকতে হতো। পরিচ্ছন্নতা ছিলো আমাদের নিত্যদিনের লৌকিক আচার। সেসব থেকে আমরা দূরে সরে এসে আধুনিক উন্নত জীবনে অভ্যস্ত হয়েছি। এখন আধুনিক নাগরিক জীবনে বসবাসের ঘরের মধ্যেই থাকে শৌচাগার, স্নানাগার। আগেকার দিনের সেসব লৌকিকতা নেই। লৌকিকতার সাথে হারিয়েছে পরিচ্ছন্নতাও। আর অপরিচ্ছন্নতার সুযোগে ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে।

মজার বিষয় হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী এই মহামারী রূপে আবির্ভূত করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি সেই পরিচ্ছন্নতার লৌকিক আচারেই। এখন আবার সব কাজের শেষে হাত ধোওয়া, বাইরে থেকে এসে জুতা-জামাকাপড় ছেড়ে স্নান করে ঘরে ঢোকা- এসব ব্যাপারে নতুন করে উৎসাহিত হচ্ছি আমরা। ঘর আর ঘরের বাইরের পরিপার্শ্বকে পরিচ্ছন্নতায় সাজানোর কাজে মনোনিবেশ করেছি। কিন্তু একটা বিষয় আজ আমাদের হারাতে হয়েছে- সামাজিক যুথবদ্ধতা। সামাজিকতার বিপরীতে বাধ্য হয়ে আমরা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটছি। অথচ নিজেরাই নিজেদেরকে নোংরা করে না ফেললে আমাদের এই বিচ্ছিন্নতার পথ বেছে নিতে হতো না।

বিজ্ঞাপন

এই ভয়াবহ মারী-ব্যাধির যুগে চারদিকে যখন অন্ধকার, জীবনের সব আয়োজন গেছে থেমে, তখনও কেউ কেউ আলো ছড়ায়। ভয়ঙ্কর কীটানুর বিরুদ্ধেও জানপ্রাণ যুদ্ধে নামে কোনো কোনো মহাপ্রাণ। এই যে আমাদের ডাক্তারগণ, এই যে আমাদের সেবিকাগণ, এই যে আমাদের চিকিৎসা সহায়তাকারীরা নিজেরা আক্রান্ত হতে পারেন জেনেও দিনরাত একাকার করে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, একেকটি জীবনফুলকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করছেন, সে কি কেবলই পেশাগত দায়িত্ব? নিজেদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে তো তাদের কেউ কেউ সরেও দাঁড়াচ্ছেন পেশার পথ থেকে। কিন্তু যারা এ যুদ্ধে নামছেন, তারাই মহাপ্রাণ। এই যে দেশে দেশে হাত ধোওয়ার উপকরণের সঙ্কট, পরিচ্ছন্নতার উপকরণ সঙ্কট, তখন আমাদের ছাত্ররা, ছাত্র সংগঠনের কর্মিরা মানবসেবার মহাব্রত নিয়ে স্যানিটাইজার তৈরিতে নেমে গেছেন, মাস্ক তৈরিতে নেমেছেন। যারা পয়সাওয়ালা তারা হয়তো এগুলো কিনতে পারছেন, কিন্তু দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের হাতে হাতে এগুলো পৌঁছে দিচ্ছেন আমাদের এইসব আলোর পথযাত্রীরাই। কি ছাত্র মৈত্রী, কি ছাত্রলীগ, কি ছাত্র ইউনিয়ন, কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, কি পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব-সংগঠনের কর্মিরা যারা নেমেছেন, তারাই এই অন্ধকার আশাহীন সময়ের নক্ষত্র।

এ ভয়াল রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও সেবক-সেবিকাদের নিজেদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে যে পিপিই (আত্মসুরক্ষার পোশাক) দরকার, বাংলাদেশে তার ভয়াবহ সঙ্কট। পিপিই ছাড়া একজন চিকিৎসকের দ্বারাও এ কাজে নামা মুশকিল, স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে নিজেরা তহবিল জোগাড় করে নেমে গেছেন কেউ কেউ পিপিই বানাতে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসছেন। কতোশত যুবক নিজেরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও ভাইরাসরোধী মিশ্রণ বানিয়ে নিজেদের বাড়ি থেকে শুরু করে পাড়ামহল্লা, রাস্তাঘাটে ছিটাতে নেমে গেছেন। আমাদের শাহবাগ আন্দোলনের সহযোদ্ধা অনিমেষ রহমান, কামাল পাশা চৌধুরীর উদ্যমে এক ঝাঁক মানুষ নেমে গেছেন এ কাজে আত্মনিয়োগ করতে। চারদিকে লকডাউন, শাটডাউনে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমাদের শ্রমজীবী গরিব মানুষেরা। দিন এনে দিন খান যারা, যাদের একদিন কাজ না করলে পরেরদিন বাড়িতে চুলোয় হাড়ি চড়ে না, তাদের যে ভয়াবহ মানবিক আর্থিক সঙ্কট তৈরি হবে, তা নিরসনে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের মতো সুযোগসন্ধানী সমাজে যেখানে মানবিক সঙ্কটকে পুঁজি করে মুনাফার আর সম্পদের পাহাড় গড়ার ফাঁক খোঁজে এক দায়িত্বশীলেরা, সেখানে সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও সরকারযন্ত্রের সুবিধাবাদের যাঁতাকলে পড়ে কতোটা পরিবারের দ্বারে সরকারের খাবার পৌঁছাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

এমন বিপদের দিনে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেইসব গরিব মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, বস্তিতে বস্তিতে খাবার পৌঁছে দেবার গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। বহু মানুষের অল্প অল্প সহযোগিতা জমিয়ে নিজেরাই দিনরাত একাকার করে রান্না করছেন, খাবার প্যাকেট করছেন, নিয়ে যাচ্ছেন অভুক্ত মানুষের মুখে তুলে দিতে। এরা সারাবছরই এক টাকার বিনিময়ে গরিব মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন। বন্ধবর প্রাক্তন ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলকে দেখছি সবার কাছে ভিক্ষা মেগে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, আধা কেজি ডাল, এক পোয়া তেল মিলে এক সপ্তাহের বাজার তুলে দিচ্ছেন বস্তিবাসী মানুষের ঘরে। সাড়ে চারশো টাকা লাগে এ সদাইটুকুর দাম। যে যা দিচ্ছেন, তাই নিয়ে ওরা গরিব মানুষের জন্য এই আয়োজনে নেমেছেন সোৎসাহে। এ রকম অসংখ্য মানুষ নেমেছেন এ ঘোরতর বিপদের বিপদের দিনে। এ সংখ্যা এতো বেশি যে তাদের সবার নাম মনে করে লেখাও কঠিন। এ বাংলাদেশ কি হারতে পারে? পারে না।
খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে, চলমান করোনা মহামারীর পরের ধাপে আসছে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয়। বাংলাদেশের অধুনা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। সেখানে ভয়ঙ্কর বার্তা ইতোমধ্যেই। শত শত কোটি ডলারের অর্ডার বাতিল হতে শুরু করেছে। পর্যটন খাত ধ্বংসপ্রায়। অন্যান্য আর্থিক খাতেও খারাপ খবর শুরু হয়েছে। সবমিলে বিশ্বজুড়েই তো মহামন্দা আসতে চলেছে। বাংলাদেশের মতো সদ্য নিম্ন-মধ্যম আয়ের ধাপে উন্নীত হওয়া দেশের উপর এ মন্দার মন্দবাতাস বইবে আরো জোরে। শিল্পোদ্যোক্তারা বাজার হারাবেন, ফলস্বরূপ শ্রমজীবীরা কাজ হারাবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে দেউলিয়া হবেন। বেকারত্ব নিশ্চিতভাবেই আরো বাড়তে চলেছে। এ ধাক্কা বাংলাদেশ সামাল দেবে কী করে? অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে মহামারী-পরবর্তী ওই দ্বিতীয় ধাপে।

কিন্তু কোথায় যেন এক চিলতে আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছি। মানুষ নিজেরাই নিজেদের পুনর্গঠনের পথ বের করে নেবে। খুব বেশি অবাস্তব আশাবাদ মনে হচ্ছে হয়তো বা। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি না, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন তরুণ, কর্মক্ষম। ক্ষুধার কাছে পরাজিত হওয়ার জো নেই। নিশ্চয় এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ঘুরে দাঁড়াবে। যারা পা পিছলাবেন, তাদের হাত ধরে নিয়ে যাবার লোকেরও অভাব দেখছি না। মারণব্যাধিতে সংক্রমিত হওয়ার ডর ত্যাগ করে যে মহাপ্রাণ মানুষেরা নিজেকে বিলাতে পারে মানুষের তরে, সেই মানুষেরা পুনর্গঠনের ধাপে পড়ে যাওয়া সহযাত্রীকে ফেলে রেখে একা এগোতে চাইবেন, তা বিশ্বাস করি না। আজকের বিপর্যয়কালে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই যেখানে বাঁচার পথ, বিপর্যয়ের পরের ধাপে সামাজিক ঐক্যই উত্তরণের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে। সে পথে আলোর রেখা এখনই দেখছি। এ কথা সত্য, আমাদের জীবনযাপনের চলমান বেখেয়ালী পথ পাল্টাতেই হবে, কিন্তু তারও বড় সত্য, আমাদের সামাজিক একতাই আমাদের নতুন পথের প্রধান পাথেয় হবে। সে পথে আমি আলোর রোশনাই দেখতে পাচ্ছি। এখনই।

“আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা অঘ্রাণে নবান্নে উৎসবে,
সোনার বাংলা ভরে উঠবে সোনায়- বিশ্ব অবাক চেয়ে রবে ॥”
আমি আশাবাদী, আমরা ঘুরে দাঁড়াবোই।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)