চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আওয়ামী লীগ ছাড়া যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তাদের অন্তরে ছিল পেয়ারে পাকিস্তান’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানী দোসরা আবারও ক্ষমতা দখল করে। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছাড়া যারাই ক্ষমতায় এসেছে তাদের অন্তরে ছিল পেয়ারে পাকিস্তান। ৭১’এ পরাজিত শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা ব্যস্ত থাকতো। শুধু তাই না, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই গোষ্ঠি একে একে সেনাবাহিনীতে থাকা সকল মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে হত্যা করে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন: স্বাধীনতার মাত্র ৩ বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি প্রদেশকে শুধু দেশে পরিণত করেননি। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি দেশকে টেনে তুলে সল্পোন্নত দেশের কাতারে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর পর এলো ৭৫। ৯৬ সালের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিলো। দেশ এক কদমও এগোয়নি। ৪৩ বছর পর এদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের সরকার প্রমাণ করেছে চেষ্টা করলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় শুধু ভোগবিলাসের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আমাদের সরকারে উন্নতি আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা দুর্নীতি করেছে আর বিদেশে টাকা পাচার করেছে। তাও বিদেশে ধরা খেয়েছে। তারা চুরি করবে কিন্তু তাদের কিছু বলা যাবে না। বিএনপি-জামায়াত আইন মানে না, সংবিধান মানে না।

১৯৯১ সালে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে টাকা এসেছিলো। তাও তারা মেরে খেয়েছে। এখন তারা বলছে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমি বলবো তাই যদি হতো, ২০১৩ সালে যখন তারা মানুষ পুড়িয়ে মারছিল তখনই গ্রেফতার করা হতো। আর যে মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালত কারাদণ্ড দিয়েছে সেই মামলাও আমাদের করা নয়। কারা মামলা দিয়েছিলো তা আপনারাও ভালো করেই জানেন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বই দেননি দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রের দীক্ষা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের দোসররাই ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল এবং পরবর্তী সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করেছিল বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘দেশের এপ্রান্তে-ওপ্রান্তে ঘুরে জেল-জুলুম সহ্য করে বঙ্গবন্ধু আজীবন সাংগঠনিক ভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন। আমার মা সবসময় বাবার পাশে ছিলেন। বাবা মন্ত্রী থাকাকালীন করাচি গেলেও মা একবারও যাননি। কারণ মা বাবার মনের কথা জানতেন। জানতেন শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা চান।’

বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায়, ৭৫ এর পরবর্তী সরকারগুলোর খুনি পোষার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইনডেমনিটি জারি করে এতো বড় কলঙ্কজনক হত্যার বিচার রুদ্ধ করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে রিফিউজির জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিলাম। ’৭৬ সালে সুইডেনে থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদে সরব হয় রেহানা। এরপর লন্ডনে থাকা রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও জিয়া পাসপোর্ট নবায়ন করতে দেয়নি। বিদেশের মাটিতেই আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের উদ্যোগ নিই। প্রবাসীরা আমাদের পাশে দাঁড়ান জাতীয় চার নেতার দুই জনের ছেলে আমাদের সহায়তা করেন। তবুও তদন্ত করতে এদেশে আসতে পারেননি বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস। কারণ তাকে ভিসা দেয়নি জিয়া।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন,‘জিয়া এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত না হলে এসব করতো না। ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন এবং ’৭৫ এর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে এই জিয়া।’

তিনি বলেন, ‘যারা জাতির পিতা এবং এই পরিবারের নিরীহ নারী-শিশুদের হত্যা করেছিল, জাতি তাদের ঘৃণা করে। তবুও দেশের তথাকথিত সুশীল এবং পরাজিত শক্তির দোসরা বার বার নিজেদের পছন্দের শক্তিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করে।’

যতদিন বেঁচে আছেন ততোদিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়তে দেশের গরীব মানুষের জন্য কাজ করবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নাই। অন্তত মৃত্যুর পর যদি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় তাহলে যেনো বলতে পারি যে আপনার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।’