চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি: বাংলাদেশের লাভ কী?

সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যেমন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তেমনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের পাশে থেকে তাদের শরণার্থী জীবনের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। সারাবিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণসহ তহবিল সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।

সেসব কাজের ধারাবাহিকতায় এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এর আগে রোহিঙ্গা শিশুদের দেখতে এসেছিলেন জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোনো সন্দেহ নেই যে, জনপ্রিয় এসব তারকাদের আগমনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরো মনোযোগ কাড়বে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু এতে বাংলাদেশের লাভ কী হবে?

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এখন দেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল-পাহাড় ধ্বংস করে সেসব স্থানে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প গড়ে তুলেছে, যা বর্তমানে স্থায়ী জনপদে পরিণত হয়েছে। সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ বিনাখরচে বিনাকর্মে তাদের বাংলাদেশে রাখতে, দেশের উপরে অর্থনৈতিক-সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে।

Advertisement

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’র সফর বিষয়ে ইউএনএইচসিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইউএনএইচসিআর কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন জোলি। এ ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা সমাধান কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে করা সম্ভব, সে বিষয়েও আলোচনা করবেন এই অভিনেত্রী।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি হয়তো রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের অবস্থার কথা সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে জানিয়ে মানবিক আবেদন তৈরি করে তহবিল সংগ্রহসহ নানা কাজ করবেন। এতে করে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে হয়তো গতি আসবে, কিন্তু নিজ দেশ-ঘরবাড়ি ও স্বজন হারানো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কতোটা সুগম হবে, তা কেউ পারবে বলে আমাদের মনে হয় না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজটি এখন শুধুমাত্র কাগুজে সান্ত্বনা হিসেবেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তার ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াতো দূরের কথা, উল্টো বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে নানা গায়েবি অভিযোগ করে মিয়ানমার। তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রবণতা। বিষয়গুলো আমাদের ভাবাচ্ছে। আমাদের আশাবাদ, কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখে এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলিদের ইমেজ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন।