চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান: ইতিহাস কী বলছে?

টানা দুইদিন বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ায় কিছুটা রঙ হারাতে বসেছে বিশ্বকাপ! পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে রোমাঞ্চে ফেরার পালা এবার। বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে বুধবার মুখোমুখি হবে সাবেক ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে টানা জিতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাজেভাবে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তান দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ছন্দে ফেরে। পরে বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবার উপায় নেই পাকিস্তানের।

বিজ্ঞাপন

হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়াও ছন্দে ফিরতে মরিয়া। সেখানে বৃষ্টি-হতাশা কাটিয়ে পথে ফেরার চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের। অজিদের পর সামনের ম্যাচটাই আরও কঠিন পরীক্ষা। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে যে সরফরাজ-আমিরদের প্রতিপক্ষ ভারত। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে মানসিকভাবে এগিয়ে থেকেই ভারতের বিপক্ষে নামতে পারবে পাকিস্তান।

দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে যোজন-যোজন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। ১০৩ বারের সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়ার ৬৭ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের জয় মাত্র ৩২টিতে। ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় এবং একটি হয় টাই।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও কথা বলছে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। বিশ্বমঞ্চে ৯ বারের সাক্ষাতে অজিদের ৫ জয়ের বিপরীতে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয় ৪টিতে। বিশ্বকাপে সর্বশেষ সাক্ষাতেও জয়ী দলটির নাম অস্ট্রেলিয়া। চার বছর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানকে হারায় অজিরা।

এদিকে ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান বরাবর সফল হলেও এখানেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে আছে। ইংল্যান্ডের মাঠে ৮ বারের সাক্ষাতে পাকিস্তানের ৩ জয়ের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৫টিতে।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও চোখ রাঙাচ্ছে পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপের মাস আগেই আরব আমিরাতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ০-৫ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় পাকিস্তান।

বিজ্ঞাপন

আগামী শুক্রবার বিশ্বকাপের অন্যতম বিগ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। সেই ম্যাচ পাকিস্তানের সেমিফাইনালের ভাগ্য গড়ে দেবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে বাড়তি অনুপ্রেরণা মিলবে। ভারতকে সতর্কবার্তাও দেয়া যাবে। অজিদের বিপক্ষে তাই আটঘাট বেঁধেই নামছেন সরফরাজরা।

চোখ থাকবে যাদের উপর
ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া): তিন ম্যাচে দুটি হাফসেঞ্চুরি করলেও এখনো চেনাছন্দে ডেভিড ওয়ার্নারের দেখা মেলেনি। মন্থরগতির হাফসেঞ্চুরি করা ওয়ার্নার পাকিস্তান ম্যাচ দিয়েই সপ্রতিভ হয়ে উঠতে চাইবেন। আর শুরুতে যদি এ বাঁহাতি ওপেনার দারুণকিছু করতে পারেন, সেটি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ তৈরি করে দেবে। নিজের দিনে ওয়ার্নার কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন সেটি তো কারো অজানা নয়।

ওয়াহাব রিয়াজ (পাকিস্তান): চার বছর আগে বিশ্বকাপের অন্যতম এক রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেন ওয়াহাব রিয়াজ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বিধ্বংসী স্পেলে দুর্দান্ত সব বাউন্সার ও শর্ট বলে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিলেন পাকিস্তানি পেসার। ওয়াটসন-ওয়াহাব লড়াই তো সেবারের আলোচিত ঘটনার একটি ছিল। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চার বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইবেন ওয়াহাব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভারের স্পেলে বেশ খরুচে ছিলেন, দেন ৮২ রান। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে অবশ্য পাকিস্তানের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের শর্ট বলে ভুগতে দেখা গেছে। ওয়াহাবের ২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তির পালা তাই!

টিম নিউজ
অস্ট্রেলিয়া: ইনজুরির কারণে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস ছিটকে পড়ায় পাকিস্তান ম্যাচের একাদশ নিয়ে দোটানায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্টয়নিসের জায়গায় শন মার্শকে খেলিয়ে দিতে পারে অজিরা। তেমন হলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে পঞ্চম বোলারের ভূমিকা নিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাটিং গভীরতা বাড়লেও অজিদের বোলিং ধার কিছুটা কমবে। অথবা স্টয়নিসের জায়গায় একজন ফ্রন্টলাইন বোলার নিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। তেমন হলে ব্যাটিংয়ে শক্তি কমে যাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। যদিও ব্যাট হাতে এখনো পর্যন্ত খুব একটা রান করতে পারেননি স্টয়নিস।

পাকিস্তান: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বরাবরই পাকিস্তান স্পিন অ্যাটাকে জোর দেয়ার চেষ্টা করে থাকে। এবারও তেমন করলে ইমাদ ওয়াসিম একাদশে ফিরতে পারেন। তবে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি পাকিস্তানের। ওয়াহাব রিয়াজের গতির চেয়ে শাহিন আফ্রিদির সুইং বেশি কার্যকরী হলেও ২০১৫ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স মাথায় রেখে ওয়াহাবকেই একাদশে নিতে পারে পাকিস্তান।

ফ্যাক্ট: অতীত ইতিহাস, পরিসংখ্যান, বিশ্বকাপের ফলাফল, ইংল্যান্ডের মাটিতে পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, সবকিছুই কথা বলছে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। তবে দলটির নাম যেহেতু পাকিস্তান, মাঠে যেকোনো ফলাফলই সম্ভব। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে যেভাবে হট-ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে, চলতি আসরে তাদের আনপ্রেডিক্টেবল তকমাটি তাতে মজবুতই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে পাকিস্তানের বিশ্বকাপের স্বপ্ন যেমন উজ্জ্বল হবে, টানা বৃষ্টিতে রঙ হারাতে বসা বিশ্বকাপও রঙিন হয়ে উঠবে! আজ অজিরা জিতলে তাদের বিশ্বমঞ্চ দাপটের দেখা মিলবে আরেকবার। জমজমাট হয়ে উঠবে শেষ চারের লড়াই।

সম্ভাব্য একাদশ
অস্ট্রেলিয়া: অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাজা, শন মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যালেক্স ক্যারি, প্যাট কামিন্স, নাথান কোল্টার-নাইল, মিচেল স্টার্ক ও অ্যাডাম জাম্পা।

পাকিস্তান: ইমাম-উল হক, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, আসিফ আলি, ওয়াহাব রিয়াজ, হাসান আলি, শাদাব খান/ইমাদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ আমির।

Bellow Post-Green View