চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ানরা থাকলে লিফটে জায়গা পেতেন না ভারতীয়রা!

কঠিন কোয়ারেন্টাইন, মাঠের বাইরে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য, অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের স্লেজিং, মূল খেলোয়াড়দের চোট, সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অজিদের মাটি থেকে ঐতিহাসিক এক টেস্ট সিরিজ জিতে ফিরেছে ভারত। এসবের বাইরেও আরও নানাভাবে অস্ট্রেলিয়ায় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, বলেছেন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তুলেছেন মারাত্মক এক অভিযোগ।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধরের সঙ্গে কথোপকথনে অশ্বিন জানান, সিডনিতে লিফটের ভিতরে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা থাকলে তাদের ঢুকতে দেয়া হতো না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘আমরা সিডনি পৌঁছনো মাত্র কঠোরতম সব নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া হয়। একপ্রকার বন্দী করে ফেলা হয় আমাদের। খুব অবাক করার মতো একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা যখন লিফটের ভেতরে থাকত, আমাদের প্রবেশ করতে দেয়া হতো না!’

‘ঘটনাটা খুব বিস্মিত করার মতো। দুটো দলই একই জৈব নিরাপত্তা বলয়ে ছিল। সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের সকলকেই খুব অবাক করেছিল এই নিষেধাজ্ঞা।’

অশ্বিন জানিয়েছেন, বিশেষ করে সিডনিতে যেরকম আচরণ তাদের সঙ্গে করা হচ্ছিল, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের খুবই খারাপ লেগেছিল। সিডনি টেস্টেই ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য ছোঁড়া হয় মোহাম্মদ সিরাজ, জাসপ্রীত বুমরাহদের দিকে।

সেটি নিয়ে আম্পায়ারদের কাছে, ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ জানায় ভারত। অজি ক্রিকেট বোর্ড তদন্ত শুরু করেছে জানালেও ভারতীয় দল ফিরে এসেছে, সিরিজ শেষ হয়ে গেছে। তবুও সিডনির ঘটনা নিয়ে কোনরকম পদক্ষেপের কথা তারা ঘোষণা করেনি। দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যদিও এপর্যন্ত সেটির কোনো ফলাফল জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অ্যাডিলেডে লজ্জার এক হারের পর মেলবোর্নে ম্যাচ জিতে সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ভারত। পরে সিডনি টেস্টের আগে ও ম্যাচ চলাকালীন সফরকারী ক্রিকেটারদের মনোবল ভাঙার জন্য বিভিন্ন উপায়ে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত অশ্বিনের।

‘এরকম কিছু যে ঘটতে পারে, আমরা ভাবতেও পারিনি। সত্যিই আমাদের সকলের খুব খারাপ লেগেছিল। আমরা একই জায়গায়, একই বলয়ের মধ্যে আছি। অথচ একইসঙ্গে লিফট ব্যবহার করতে পারব না? ব্যাপারটা হজম করা খুব কঠিন ছিল।’

‘মেলবোর্নে প্রচুর নাটক হল। অস্ট্রেলিয়ায় যখন আমরা এসেছিলাম, তখন কিন্তু বলা হয়েছিল ইতিমধ্যেই আমরা আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে এসেছি। তাই খুব কঠিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পরে আমরা কফি পান করতে যেতে পারি, সিনেমা দেখতে যেতে পারি, বাইরে যাওয়ার উপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সেরকমই আমাদের বলা হয়েছিল।’

কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে মেলবোর্নে ভারত জেতার পরে। অশ্বিনের ভাষায়, ‘সিরিজ ১-১ হতেই সবকিছু পাল্টে গেল। আমাদের বলে দেয়া হল, হোটেলের ঘর থেকে নড়াচড়া করা যাবে না। অনন্তকাল ধরে কী করে হোটেলের ঘরে আটকে থাকা সম্ভব? আমি অস্ট্রেলিয়াতে পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার বাচ্চারা কান ঝালাপালা করে দিচ্ছিল বাইরে বেরোবে বলে। সময়টা সত্যিই খুব কঠিন ছিল আমাদের জন্য।’

লৌহ কঠিন মনোবলে সিডনিতে ম্যাচ ড্র করান অশ্বিন ও হনুমা বিহারী। ৪০ ওভার ব্যাট করেন দুজনে। তাদেরকে আউট করার ব্যাপারে অজিদের রণনীতি ভুল ছিল বলেই মত অশ্বিনের।

‘আমি পা নাড়াতে পারছিলাম না। আর বিহারী শরীরে আঘাত পেয়েও দাঁড়িয়ে ছিল। দুজনেই চোট নিয়ে লড়াই করছিলাম। অস্ট্রেলিয়া আমাদের দুর্বলতার জায়গাটা ধরতেই পারেনি। ওরা যদি আমাকে সামনে পা বাড়িয়ে খেলানোর চেষ্টা করত, হয়তো ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যেতে পারতাম। তার বদলে ভয় পাওয়ানোর জন্য ক্রমাগত শর্ট বল করে গেল।’

‘ওদের এই রণনীতিতে হিতে বিপরীত হল। যত আমাদের শরীরে বল লাগছিল, তত আমাদের জেদ, প্রতিজ্ঞা বাড়ছিল। ভেতরে ভেতরে ততই আরও শক্ত হচ্ছিলাম আমি। নিজেকে বলছিলাম, আর কত মারবে ওরা আমাকে? মারুক না। এরসঙ্গে টিম পেইন উইকেটের পেছন থেকে কথা বলতে শুরু করল। আমি আর বিহারী সেই সময়ে বলাবলি করতে শুরু করি যে, অস্ট্রেলিয়া রাস্তা হারিয়ে ফেলছে।’