চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই হবে আসন্ন বাজেটের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী

প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই হবে আসন্ন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

সারাদেশে করোনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেটে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য দেয়া উচিত?

এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাজেটের সবসময়ই একটা লক্ষ্য থাকে। এবারের যে লক্ষ্য আমাদের তা হলো ডোমেস্টিক ইকোনমিকে আরও সমৃদ্ধ করা, আরও বৃদ্ধি করা। এই কাজগুলো করতে পারলে সবার হা-হুতাশ কমে যাবে, সবার কাছে টাকা পয়সা থাকবে। রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। এটা করতে গিয়ে যেন অন্য কোনো বিষয় মুখোমুখি চলে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে। শিল্পকে  আরও সমৃদ্ধ করতে চাই, এটি বিকশিত হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। শিল্পের হাত ধরেই রাজস্ব বাড়বে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

বিজ্ঞাপন

মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সবসময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। আমি বিশ্বাস করি, যা কিছু এখন দেশে-বিদেশে ঘটছে সে বিষয়ে আমরা অবগত। আশা করি এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ মোট ১২টি ব্যবসায়ী সংগঠনকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, তারা সবাই উপস্থিত ছিল। তাদের মতামত, সমস্যা ও প্রাপ্তিসহ সবকিছু আমাদেরকে জানিয়েছেন। মূলত যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই ট্যাক্স রিলেটেড। বাজেটের যে রুপরেখা আছে সেখানে তাদের যেসব পরামর্শ উপযোগী ও কল্যাণকর, সরকার অবশ্যই সেগুলো বিবেচনায় নেবে। যে ধরনের দাবি এসেছে সেগুলো অযৌক্তিক বলব না। তবে কতটুকু দাবি নিতে পারব সেটি বাজেট টিম, ব্যাংক, এনবিআরসহ যারা আছে তাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেব।

ব্যবসায়ীদের বড় দাবি কী এবং এই সময়ে তারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড মহামারির জন্য গতবছর প্রধানমন্ত্রী ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেখান থেকে তারা (ব্যবসায়ী) উপকৃত হয়েছে, সেটি তারা অস্বীকার করেনি। তাদের দাবি হলো, যেহেতু এই করোনা এখনও রয়ে গেছে, সেহেতু সমস্যাগুলো তাদের এখনও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তাই সেটার মেয়াদ আরও বাড়ানো যায় কি-না সেটা তাদের মূল দাবি।

আলোচনায় এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রেসিডেন্ট একেএম সেলিম ওসমান ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন, বাংলাদেশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি চেম্বার বিল্ডিংয়ের (এমসিসিআই) ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রহমান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এন কে এ মুবিন(এফসিএ), চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ, বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব্ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মিজ সেলিমা আহমেদ, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মিজ রূপালী হক চৌধুরী, ওমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডব্লিউইএবি) প্রেসিডেন্ট মিজ শাহরুক রহমান ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজ আসফা হোসাইন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট মিজ শমী কায়সার অংশ নেন।