চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অরিত্রির আত্নহত্যা যেভাবে ভাবায় ভিকারুননিসার সাবেক শিক্ষার্থীদের

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা ভীষণ নাড়া দিচ্ছে স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের।

অরিত্রির পরিবারের মতো তারাও এখন শোকাহত। তবে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের কথাও উঠে এসেছে তাদের লেখায়।

এতদিনের পরিচিত শিক্ষাঙ্গন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিকারুননিসার সাবেক শিক্ষার্থী ও শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভিকিরা নকল করে আমার জানা ছিল না, ভিকির শিক্ষকরা এই পরিমাণ অপমান বা দূর্ব্যহার করতে পারেন- জানা ছিল না, ভিকিরা মচকায় কিন্তু ভেঙে পড়ে- জানা ছিল না, ভিকির প্রধান শিক্ষকার মাথা গরম জানা ছিল না, ভিকিরা নিষিদ্ধ বস্তু বহন করে, জানা ছিল না।

আমি ভিকারুননিসার সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত, উপরের বিষয়গুলো অজানা ছিল তাই।
‘যার যায় সে শুধু জানে, যে হারায়। বাবা মা বোনকে রেখে অরিত্রি চলে গেছে এক মহা অভিমানের সাগর পার করে। আগামীতে এমন বেদনাময় ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবার থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো বের করবার দায় আমাদের সবার। আর কারো নয়।’’

স্কুলটির আরেক সাবেক শিক্ষার্থী সুদীপ্তা মাহমুদ লিখেছেন– ‘‘ভিকারুননেসা স্কুল কর্তৃপক্ষ খুবই গর্হিত কাজ করেছে। তাদের বড় ধরণের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। আমরা অরিত্রির জন্য ন্যায় বিচার চাই।

ভিকারুননিসার সাবেক শিক্ষার্থী শকিনা আক্তার লিখেছেন, ‘‘রোকসানা শামীম আপাকে মনে পড়ছে খুব বেশি। সৈয়দ সালামত উল্লাহ ভাই, আপনিও আমার শিক্ষক ছিলেন, হালদার স্যার, মাহমুদা আপা, নিখিল রঞ্জন দাস স্যার, অধ্যাপক এ কে মনোয়ার উদ্দিন আহমেদ, আরও অনেক শিক্ষকে আমি মিস করছি যাদের আমি এখনও সালাম করতে চাই। এবং ভালবাসা ও সম্মান প্রকাশ করতে চাই আমার প্রিয় স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির দিন গুলোর প্রতি।

তবে শুধু দুই তিনজন শিক্ষকের জন্য আমি আমার প্রিয় শিক্ষাঙ্গনকে অসম্মান করতে পারি না, যে ইন্সটিটিউট আমাকে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

Advertisement

আমি বলতে চাই- পরীক্ষায় ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামো ও অস্থির প্রতিযোগিতার প্রতিফলন মাত্র।

ইংরেজি মাধ্যম, এমনকি বেসরকারি এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর বিষয়ে সকল বাবা- মায়েরা এক ধরণের অনিশ্চিত বোধ করে, কারণ এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ানোর জন্য যে পরিমাণ টাকা দাবি করে তা ব্যবস্থা করা দুষ্কর হয়ে যায় কখনও কখনও।’’

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি রোববার পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকলসহ ধরা পড়ে। এরপর সোমবার দুপুরে ঢাকার শান্তিনগরের বাসায় নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে অরিত্রি।

স্বজনদের দাবি, ওই ঘটনার পর অরিত্রির বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে ‘অপমান করেছিলেন’ অধ্যক্ষ। সে কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আরা হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

একই দিন অরিত্রিকে অাত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা দিলীপ অধিকারী। এতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনাহেনাকে অভিযুক্ত করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ তাদের বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা তদন্ত কমিটি আত্মহত্যার প্ররোচণার প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার পরিচালনা কমিটিকে এই নির্দেশ দেন তিনি।